সংসদ প্রতিবেদক ও ঢাবি প্রতিনিধি
বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং শিক্ষামন্ত্রীর ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নজিরবিহীন বিক্ষোভ হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি, কেউ কেউ পরীক্ষাই দিতে পারেননি। এর সাথে সাম্প্রতিক প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে অসন্তোষ এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্য আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। দিনভর রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নীলক্ষেত, শিক্ষাভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভ হয়। সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই দাবিতে বরিশাল, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, সিলেট, রংপুর, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম ও সুনামগঞ্জসহ অন্তত এক ডজন জেলায় মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরার অনুরোধ শিক্ষামন্ত্রীর
সারা দেশে আন্দোলনরত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের রাজপথ ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণে যেকোনো ত্রুটি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি পরীক্ষার্থীদের বিনীত অনুরোধ করব, তোমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাও। পরীক্ষাগুলো কিভাবে সুষ্ঠুভাবে নেয়া যায় এবং চলমান সঙ্কট থেকে কিভাবে উত্তরণ সম্ভব, তা নিয়ে আমরা অভিভাবকদের চেয়েও বেশি চিন্তিত। আমরা তোমাদের আশ্বস্ত করছি, কেন্দ্রের অনিয়ম বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে যেখানেই সমস্যা হয়েছে, প্রয়োজনে সেখানেই পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হবে।
তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে সরকার প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে। অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে অতিরিক্ত প্রশ্নপত্রের সেট। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চট্টগ্রামেও এভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হয়েছে এবং কোনো শিক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিগত কয়েকদিনের মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা কেন এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, সারা দেশে প্রায় ২,৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে পুরো সারা দেশের পরীক্ষা হুট করে বন্ধ করা জটিল। চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ধাপে ধাপে এবং পরবর্তীতে পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষাই স্থগিত করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, বোর্ড চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া দফতরের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছিল যে, বৃষ্টি আর বাড়বে না; কিন্তু সকালে ওঠে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ মাঠ প্লাবিত। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে মেয়র, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় কেন্দ্রটি মূল ভবনের পাঁচতলায় স্থানান্তর করে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করি।
কুমিল্লায় বিক্ষোভ
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, বন্যা পরিস্থিতি, টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন এবং শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টায় নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দিকে অগ্রসর হলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার তাদের সাথে কথা বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সাভারে মহাসড়ক অবরোধ
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সারা দেশে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগে ও বন্যা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণার দাবিতে গতকাল দুপুরে সাভার সরকারি কলেজের এইচএসসি ব্যাচ-২০২৬-এর উদ্যোগে ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের শহীদ ইয়ামিন চত্বরে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। এর তারা শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধনের প্রতিবাদ করে বলেন এ দাবি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দাবি। শিক্ষামন্ত্রী ন্যায়বিচার দিতে না পারলে আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ দুপুর বেলা ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত থেমে থেমে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলে ধামরাই সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ আশপাশের আরো বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
রাজশাহীতে বিক্ষোভ
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে এ বিক্ষোভ করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভয়াবহ দুর্যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকা ডুবে গেছে। তার পরেও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। কোমর সমান পানি মাড়িয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের ছড়াছড়ি রয়েছে যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ।
এ সময় শিক্ষার্থীরা সড়কপথ অবরোধ করে রাখেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশো শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা গতকাল দুপুর থেকে নগরীর টাউন হল মোড়ে অবস্থান নেন তারা। এতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে অবরোধ শুরু করেন।
কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। সেগুলো হলো স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্রে অযৌক্তিক মানদণ্ড পরিহার, যৌক্তিক কারণে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টির দায়ে শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি ও প্রয়োজন হলে পদত্যাগ।
ফরিদপুরে বিক্ষোভ ও পথসভা
ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল দুপুরে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
পরে তারা প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং পাঁচ দফা দাবির সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় কিছুক্ষণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কর্মসূচি থেকে আজ দুপুর ১টায় ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে পরীক্ষা বাতিল ও পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়।
দিনাজপুরে রেল-সড়ক অবরোধ
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিনাজপুরের নিমনগর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ১৮ নম্বর রেলগেটে বিক্ষোভ করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে তারা বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও রেললাইন অবরোধ করেন। রেললাইন অবরোধের কারণে উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
খবর পেয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে তালা
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তিসহ তিন দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত; পরে বিকেল ৩টায় মুরাদপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় সিডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় অনেক পানি ও দুর্যোগের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা রাজপথে নেমেছেন। এ সময় তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশাপাশি সারা দেশে পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি জানান।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ
বরিশাল ব্যুরো জানায়, পরীক্ষা স্বাভাবিক আবহাওয়া ও সুস্থ পরিবেশে নেয়ার দাবিসহ ছয় দফা দাবিতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা। দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদের অবরোধ চলতে থাকে। এতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার বাসের যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
বগুড়ার জিরো পয়েন্ট অবরোধ করে বিক্ষোভ
বগুড়া অফিস জানায়, দেশের সার্বিক দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বগুড়ায় বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। গতকাল ১০টার দিকে শহরের সাতমাথা এলাকায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা সাতমাথা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যান। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী আজগর তলুদার হেনা, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেলসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা আন্দোলনকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন।
কুড়িগ্রামে মানববন্ধন
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানায়, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন করছেন পরীক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাদের দাবি তুলে ধরেন।
আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা ‘শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি চলবে না’, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা বলেন, পরীক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো বিবেচনা না করে পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কারণে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন তারা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোস্তফা সরকার, মানবিক বিভাগের শরিফ আহমেদ, কুড়িগ্রাম কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাকিব আল হাসানসহ আরো অনেকে।



