বইমেলা নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে বিভক্তি

তারেক রহমানকে চিঠি

আবুল কালাম
Printed Edition

বইমেলা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন প্রকাশকরা। চিরায়ত নিয়মে ১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরুর কথা থাকলেও নির্বাচনের কারণে সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি মেলার তারিখ নির্ধারণ করেন। সরকার ও বাংলা একাডেমি জানায়, প্রকাশকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সম্মতিতেই পরিবর্তিত তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে প্রকাশকদের একটি অংশ মেলা পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানান। আয়োজকরা নির্ধারিত সময়ে মেলা অনুষ্ঠানে অনড় থাকায় সবশেষে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়ে তাকে চিঠি দিয়েছেন প্রকাশকদের একটি অংশ।

বাংলা একাডেমি জানায়, ইতোমধ্যে মেলার প্রস্তুতি চূড়ান্তের পথে। মেলায় অংশ নিতে প্রায় অর্ধশত প্রকাশক স্টল বুকিং দিয়েছেন। এ অবস্থায় মেলা পেছানো কঠিন হবে।

আয়োজকদের ভাষ্য, এ ফেব্রুয়ারির পরই ঝড়-বাদল শুরু হয়। তখন আর মেলার পরিবেশ থাকে না। তাই মেলা এ মাসে না হলে আর এ বছর সম্ভব হবে না। কারণ বৃষ্টি হলে মেলামাঠ চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় মেলার পরিবেশ থাকবে না।

অন্য দিকে প্রকাশকদের একটি অংশ বলছেন ২০ তারিখ থেকে মেলা হলে রমজানের কারণে মেলায় ক্রেতা সমাগম কম হবে। তাতে ব্যবসা সফল মেলা হবে না। তাদের লোকশান হবে। কিন্তু বাংলা একাডেমি বলছে, প্রকাশকদের আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা স্টলভাড়া অর্ধেক করেছেন। তারপর আর লোকশানের আশঙ্কা থাকে না। তারপরও কিছু প্রকাশক মেলায় অংশ না নেয়ার ঘোষণা অনেকটা রহস্যজনক। এমতাবস্থায় সরকারের কাছে থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্র্যন্ত তারা মেলার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন না।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রকাশকরা বলছেন, নির্বাচনের অস্থিরতা ও রমজানের কারণে ফেব্রুয়ারির শেষে মেলার আয়োজন পাঠকহীন ও ব্যবসায়িকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

গতকাল তারেক রহমানে কাছে এক খোলা চিঠিতে প্রকাশকরা বলেন, দেশের মানুষ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যে রায় দিয়েছে, তা একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মেধানির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পথে আপনার অঙ্গীকারের প্রতি আস্থারই প্রতিফলন।

চিঠিতে বলা হয়, প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় প্রকাশনা শিল্প এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস দেশের ছাপাখানাগুলো নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় সৃজনশীল বই উৎপাদনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কাগজের আকাশচুম্বী দাম এবং আনুষঙ্গিক সঙ্কটে প্রকাশকরা আজ দিশেহারা।

এমতাবস্থায়, বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজনে অনড় অবস্থানে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। যাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে, আমি তাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: নিজাম উদ্দিন এবং মেডিক্যাল সেন্টারের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আহমদ কবীর।

এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কালাম আহমদ চৌধুরী, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার আ ফ ম মিফতাউল হক, বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।