আফ্রিকা মহাদেশকে ‘কৌলশগত অগ্রাধিকার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের (এমআইটি) পরিচালক ইব্রাহিম কালিন। মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন কালিন। তুরস্ক আফ্রিকাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন মহাদেশটিতে কৌশলগত প্রতিযোগিতা দ্রুত তীব্রতর হচ্ছে। কালিন জানান, আফ্রিকার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আঙ্কারা এক বিশেষ ‘আফ্রিকান অ্যাপ্রোচ’ বা আফ্রিকাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে।
আনাদোলু এজেন্সি প্রকাশিত এক নিবন্ধে কালিন লেখেন, ‘লিবিয়ায় আমাদের স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা থেকে শুরু করে সোমালিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে অবদান এবং সুদানে আমাদের অভিযানসহ বিভিন্ন এলাকায় ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন হিসেবে আফ্রিকা মহাদেশে আমাদের কর্মকাণ্ড অনেক দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চাদ থেকে নাইজার, টোগো থেকে বুরকিনা ফাসো, তানজানিয়া থেকে কেনিয়া সমগ্র আফ্রিকাজুড়েই গোয়েন্দা কূটনীতির ইতিবাচক ফলাফল অর্জিত হচ্ছে।’ তুরস্কের আফ্রিকায় নতুন সম্পৃক্ততার সূচনা দশকেরও বেশি আগে। শুরুতে এটি অর্থনৈতিক বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ধীরে ধীরে কূটনৈতিক উপস্থিতিও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০০৩ সালের পর থেকে তুরস্ক ও আফ্রিকার মধ্যকার বাণিজ্য প্রায় আট গুণ বেড়ে ২০২২ সালে ৪০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আফ্রিকায় তুরস্কের দূতাবাসের সংখ্যা ২০০২ সালের ১২টি থেকে বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ টিতে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আফ্রিকাবিষয়ক কর্মসূচি পরিচালক মুরিথি মুতিগার মতে, ‘বর্তমানে আফ্রিকা মহাদেশে তুরস্ক অন্যতম প্রভাবশালী বহিরাগত শক্তিতে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তুরস্কের দৃষ্টিভঙ্গি আকর্ষণীয়। কারণ, এতে একসাথে রয়েছে হার্ড পাওয়ার নিরাপত্তা সহায়তার মাধ্যমে এবং সফট পাওয়ার হাজারো আফ্রিকান শিক্ষার্থীকে তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ এবং বাণিজ্য যার প্রতীক হিসেবে আফ্রিকাজুড়ে দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের।’
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের আফ্রিকা সম্পৃক্ততা আরো বেশি সামরিক ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। আঙ্কারা সাব-সাহারান আফ্রিকার একাধিক দেশে সশস্ত্র ড্রোন সরবরাহ করেছে এবং নাইজারের মতো দেশের সাথে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, আফ্রিকায় তুরস্কের গোয়েন্দা তৎপরতার ইতিহাস অটোমান সাম্রাজ্যের সময় থেকেই বিদ্যমান। উত্তর আফ্রিকায় অটোমান আধিপত্যের সময়ে বহু তুর্কি কর্মকর্তা ও সামরিক সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মোস্তাফা কামাল আতাতুর্ক, যিনি ১৯১১ সালে ত্রিপোলিতে যুদ্ধ করেছিলেন এবং পরে আধুনিক তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হন। পরবর্তী কয়েক দশকে অবশ্য ইউরোপমুখী নীতি ও ন্যাটোকেন্দ্রিক নিরাপত্তা অগ্রাধিকার অনুসরণের কারণে আফ্রিকার প্রতি আঙ্কারার আগ্রহ কমে যায়। এই ধারা চলে মূলত ২০০০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত।



