বিশেষ সংবাদদাতা
- ‘হ্যাঁ’ জয়ের নিশ্চিত আভাস
- তুমুল লড়াইয়ে আশাবাদী বিএনপি
- জামায়াতের পক্ষে অপ্রত্যাশিত জোয়ার
- প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন
- শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনা
- সতর্কাবস্থায় সশস্ত্রবাহিনী
- অনিয়মে কঠোর বার্তা
জুলাই অভ্যুত্থানের দেড় বছরের মাথায় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বাস্তবতা, নতুন আবহ এবং নতুন সমীকরণ। রাজপথের আন্দোলন, ছাত্র-যুবকদের আত্মত্যাগ, ক্ষমতার পালাবদল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ- সব কিছুর সম্মিলিত প্রভাবে এবারের নির্বাচনকে অনেকেই বলছেন ‘জুলাই জাগরণের ভোট’। শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ চরিত্র নির্ধারণের এক গণরায়।
মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, সরকারপক্ষ ঘোষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রবণতা শক্তিশালী। অন্য দিকে সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি আত্মবিশ্বাসী, আর জামায়াতে ইসলামী বেশ কয়েকটি অঞ্চলে অপ্রত্যাশিত উত্থান ঘটিয়েছে। সব মিলিয়ে একটি বহুমাত্রিক প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের আভাস স্পষ্ট।
‘হ্যাঁ’ ভোটে এগিয়ে জুলাই সনদ : জুলাই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল- স্বচ্ছ নির্বাচন, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র, বিচার সংস্কার, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠন। এসব দাবিকে ভিত্তি করে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এখন গণভোটের কেন্দ্রবিন্দু।
শহর ও মফস্বলের ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তরুণ ভোটারদের বড় অংশ এটিকে ‘নতুন সামাজিক চুক্তি’ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে প্রথমবার ভোটার হওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণ কর্মজীবীদের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রবণতা দৃশ্যমান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই সনদ শুধু সরকার বদল নয়, সিস্টেম বদলের কথা বলছে। আমরা স্থায়ী সংস্কার চাই।’
বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের স্মৃতি এখনো সতেজ থাকায় ‘হ্যাঁ’ ভোট একটি আবেগ-রাজনীতির পাশাপাশি বাস্তব প্রত্যাশার প্রতিফলন।
তুমুল লড়াইয়ে জয়ের আশাবাদ বিএনপির : দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবচেয়ে সংগঠিত ও দৃশ্যমান শক্তি হিসেবে মাঠে রয়েছে বিএনপি। দীর্ঘ দিনের বিরোধী রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা- এসবের ভিত্তিতে দলটি নিজেদের ‘স্বাভাবিক বিকল্প সরকার’ হিসেবে তুলে ধরছে। দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, ‘এবারের নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হলে বিএনপির জয় ঠেকানো যাবে না।’
গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, কুমিল্লা-নোয়াখালী বেল্ট এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহে বিএনপির প্রার্থীদের গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি, পুরনো ভোটব্যাংক এবং আন্দোলন-পরবর্তী সহানুভূতি- এই তিন ফ্যাক্টর বিএনপিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি যদি প্রার্থী বাছাই ও কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারে, তা হলে উল্লেখযোগ্য আসনে তারা এগিয়ে থাকবে।
জামায়াতের পক্ষে অপ্রত্যাশিত জোয়ার : এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান এবং তাদের পক্ষে অপ্রত্যাশিত জোয়ার। একসময় সীমিত প্রভাবের দল হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তারা সাংগঠনিকভাবে বেশ সক্রিয়।
রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর এবং সিলেটের কয়েকটি এলাকায় জামায়াতের সভা-সমাবেশে জনসমাগম বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে সামাজিক সেবা, তৃণমূল নেটওয়ার্ক এবং ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংক- এসব তাদের পক্ষে কাজ করছে।
একাধিক আসনে তারা ‘কিংমেকার’ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ত্রিমুখী লড়াইয়ে জামায়াতের ভোট ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে তাদের প্রতিপক্ষ সমালোচকরা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা এখনো সীমিত। ফলে তাদের সাফল্য অঞ্চলভিত্তিক হতে পারে।
প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি : আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এবার সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষায়, এটি হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ‘নিরাপদ ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধাপে ধাপে মোতায়েনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যাতে ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ফলাফল ঘোষণার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন, কেন্দ্র দখল বা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব হয়। প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ফলাফল প্রেরণ ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে, ফলে ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও কারচুপির সুযোগ কমবে।
নির্বাচন কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘কোনো পক্ষপাত বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান ভোটারদের আস্থা বাড়িয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের সম্ভাবনাকে আরো জোরালো করেছে।
সতর্কাবস্থায় সশস্ত্রবাহিনী : আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাবকে স্ট্যান্ডবাই মোডে রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন করা যায়। দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য বিশেষ কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রয়েছে, যারা সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করবে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে বাড়তি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ভোটের আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পরিবহন রুট এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সাথে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণা ঠেকাতে মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করে এবং অপশক্তিকে নিরুৎসাহিত করে। ফলে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘœ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রস্তুতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
শান্তিপূর্ণ ভোটের সম্ভাবনা কতটা?
নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি আপাতত তুলনামূলক শান্ত রয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ ভোটের সম্ভাবনাকে জোরালো করছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংঘর্ষ, সহিংসতা বা রাজনৈতিক দখলদারির ঘটনা চোখে পড়েনি। বিভিন্ন দল নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় থাকলেও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে আছে, ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা জনগণকে সহিংস রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে দিয়েছে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানুষ উপলব্ধি করেছে- পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো ভোট ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তাই এবারের ভোটকে তারা প্রতিশোধ বা সঙ্ঘাতের নয়, বরং প্রত্যাশা ও সংস্কারের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের প্রবণতা বেশি।
তবে আশাবাদের পাশাপাশি কিছু শঙ্কাও রয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার, কেন্দ্র দখল, অর্থ বা পেশিশক্তির ব্যবহার এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো পুরনো কৌশল পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সক্রিয় উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
অনিয়মে কঠোর বার্তা : নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে এবার শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়া হয়েছে- ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, টাকা ছড়ানো, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কোনো অনিয়মই বরদাশত করা হবে না। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজন প্রার্থী ও সমর্থকদের সতর্ক করা হয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত প্রচার-প্রচারণা, কোথাও অবৈধ মিছিল বা পোস্টারিংয়ের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রচার সামগ্রী জব্দ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে নির্বাচন শুরুর আগেই কমিশনের কঠোর বার্তা মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই দৃশ্যমান শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রার্থীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়িয়েছে এবং ভোটারদের আস্থা জোগাচ্ছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠলে নির্বাচন আরো প্রতিযোগিতামূলক ও শান্তিপূর্ণ হবে- এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
তরুণ ভোটারদের নির্ণায়ক ভূমিকা : এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও নির্ধারণী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক প্রথমবার বা দ্বিতীয়বার ভোট দিতে যাচ্ছেন, যা নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এই বিপুলসংখ্যক নতুন ভোটার শুধু পরিসংখ্যানগত নয়, মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছেন।
বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তরুণদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও দাবিদার করে তুলেছে। তারা শুধু প্রচলিত দলীয় পরিচয়ে আবদ্ধ থাকতে চান না; বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও উন্নয়নের মতো বাস্তব ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে ‘দল’ নয়, ‘নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ এখন তাদের ভোটের প্রধান মানদণ্ড।
ঢাকার এক তরুণ ভোটার বলেন, ‘আমরা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান আর স্বচ্ছতা চাই। যে দেবে, তাকেই ভোট দেবো।’ এই বক্তব্যই তরুণদের মানসিকতার প্রতিফলন- আবেগের চেয়ে কার্যকারিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রজন্ম প্রচলিত ভোটব্যাংক রাজনীতি ভেঙে দিতে পারে। শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত, ইস্যুভিত্তিক ভোট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় অংশগ্রহণ- সব মিলিয়ে তরুণ ভোটাররাই এবার ফলাফল নির্ধারণে ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারেন।
সামগ্রিক চিত্র : সব কিছু মিলিয়ে এবারের নির্বাচন তিনটি বড় প্রবণতা তুলে ধরছে-
১. জুলাই সনদে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জোরালো সম্ভাবনা
২. বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জয়ের আশা
৩. জামায়াতের অপ্রত্যাশিত উত্থান ও আঞ্চলিক জোয়ার
এর সাথে প্রশাসনের কঠোর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে শান্তিপূর্ণ ভোটের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘এটি কেবল সরকার নির্বাচন নয়; এটি জুলাই আন্দোলনের স্বপ্নের পরীক্ষাও।’
ফলে ভোটের দিন শুধু ব্যালটের লড়াই নয়- এটি হবে একটি প্রজন্মের প্রত্যাশা, একটি জাতির আত্মসম্মান এবং নতুন রাষ্ট্রচিন্তার গণরায়।
দেশ এখন তাকিয়ে আছে ভোটের মাঠে- জুলাই জাগরণের সেই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তব রূপ পায়, তার উত্তর মিলবে ব্যালট বাক্সেই।



