ঈদের শুভেচ্ছায় স্থানীয় নির্বাচনের জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ
Printed Edition

  • দলীয় প্রতীকে হবে কি না সিদ্ধান্তের পরই নির্বাচন

  • ঈদের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে চায় ইসি

দীর্ঘ সময় পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে বিশাল বিজয়ের পর ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বিএনপি। সরকার ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তবে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ও বিরোধী জোটের নেতারা ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সারা দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের শুভেচ্ছা পোস্টারের মধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতির আভাস মিলছে। নেতারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় পোস্টার, ফেস্টুন টানিয়ে কাক্সিক্ষত পদে দোয়া চাচ্ছেন সবার।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান বিরোধী জোট জামায়াত ও এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও দলীয়ভাবে বিএনপির কোনো একক প্রার্থীর নাম এখনো শোনা যায়নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে অনেক নেতাই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা জানান দিচ্ছেন। এ ছাড়া এলাকাভিত্তিক কাউন্সিলর প্রার্থীরাও আছেন দলের নির্দেশনার অপেক্ষায়। পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আগেভাগেই তদবিরের মাধ্যমে অবস্থান পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ঈদের পর শুরু করে তা ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে। এই তিন সিটি নির্বাচন শেষে পর্যায়ক্রমে বাকি ৯ সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামী দেড় বছর ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিপরীতে বিএনপিতে শুধু আলোচনা চলছে বলে নেতারা জানিয়েছেন। দলটির বেশ কয়েকজন নেতা আক্ষেপ করে বলেন, সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিও বিএনপি অনেক পরে নিয়েছিল, যার ফলে অনেক আসন ঝুঁকিতে পড়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও তেমন গুরুত্ব কিংবা প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজন অনুভব করছে না তারা। এর মাশুলও দিতে হতে পারে তাদের। তা ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত জোটের নারী কর্মীরা তাদের পক্ষে যে ভূমিকা রেখেছে তাদের মোকাবেলা করতে বিএনপির মহিলা দলকেও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন নেতাকর্মীরা।

তৃণমূলের বিএনপি নেতাদের সাথে কথা বললে তারা নয়া দিগন্তকে জানান, শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে না। নতুন সংসদের অধিবেশনে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর রোজার ঈদ, বর্ষাকাল ও কোরবানির ঈদ চলে আসবে। আর ওই সময়ে নির্বাচনের অনুকূল অবস্থা সাধারণত থাকে না।

সরকার গঠনের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানালেও বিএনপির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা নয়া দিগন্তকে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন এবং এর কার্যক্রম নিয়েই বেশি ব্যস্ততা চলছে। সেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আপাতত কোনো পারিকল্পনা, প্রস্তুতি নেই বললেই চলে। তবে বিএনপির মতো বড় দলে ভালো ও যোগ্য প্রার্থীর অভাব কখনো হয়নি, হবেও না। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী বড় দল। তারা সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সাথে তাদের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়েছে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, জনগণের রাজনীতির জন্য। এই দলটির নেতাকর্মীদের রাজনীতিই হলো জনসম্পৃক্ততা থাকা। তারা সব সময়ই জনগণের সাথেই থাকে। ফলে যেকোনো সময় নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রস্তুত। বিএনপিকে আলাদা করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হয় না। নির্বাচন কমিশন যখন নির্বাচন ঘোষণা করবে তখনই বিএনপি প্রস্তুত, যা অতীতেও প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এবার দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সিটি ও পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দল মনোনীত প্রার্থীর বিধান করেছিল আইনে। বিএনপি এর বিরোধী ছিল। ঐকমত্য কমিশনের সংলাপেও বিএনপিসহ সব দলের অবস্থান ছিল- নির্দলীয় পদ্ধতিতে হতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্র্বতী সরকার স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত আইনগুলো সংশোধন করে অধ্যাদেশের মাধ্যমে। তবে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন অন্তর্র্বতী সরকার স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত আইনগুলো সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছেন তার বৈধতা নিতে হবে সংসদ থেকে। তাই স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত আসবে সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে।