পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় কবরস্থান মাদকসেবীদের আড্ডাখানা, চুরি হয় কবরের বেড়া

Printed Edition

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড় পৌরসভার বৃহত্তম কেন্দ্রীয় কবরস্থানটি এখন পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের নিরাপদ আড্ডাখানায়। প্রকাশ্যে মাদকসেবন তো আছেই, পাশাপাশি নতুন কবরের পলিথিন, বেড়া, এমনকি সিমেন্টের খুঁটিও চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে মাদকসেবী একটি চক্র। মৃত মানুষের কবর থেকে সংগৃহীত এসব সামগ্রী বিক্রি করে তারা মাদকের টাকা জোগায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাফনের পর কবরের ওপর মোটা পলিথিন ও চারপাশে বাঁশ বা সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে অস্থায়ী বেড়া দেয়া হয়। কিন্তু দাফনের দু’একদিনের মাথায় রাতের আঁধারে সেই পলিথিন ও খুঁটি খুলে নিয়ে যায় মাদকসেবীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, রুবেল, কালুয়ার ছেলে আলী, আহাত আলীর ছেলে মাসুদ ও মাসুমের নেতৃত্বে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব কাজ করছে। তারা নতুন কবর চিহ্নিত করে রাতারাতি সব সরিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আদম সুফি। তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি আমি আমার সহধর্মিণীর লাশ দাফন করি এই কবরস্থানে। দু’দিন পর জিয়ারতে গিয়ে দেখি কবরের ওপরের প্লাস্টিক নেই, চারপাশের বেড়া কেটে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কবরস্থানে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মৃতের সম্মান কোথায়?’ আত্মীয়ের কবরে নেটের ঘেরা দিতে গিয়ে অর্থদাবির শিকার হয়েছেন খায়রুল আলম নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, কবরস্থানে কাজ করতে গেলে কয়েকজন মাদকসেবী টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সমস্যায় পড়তে হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

শুধু তাই নয়, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন, কবরস্থানে বাঁধা ছাগল ও স্থানীয়দের পালিত হাঁস-মুরগি চুরির ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। স্থানীয়রা বলছেন, মাগরিবের পর থেকেই কবরস্থানের ভেতরে মাদকসেবীদের আড্ডা জমে ওঠে। পর্যাপ্ত আলো ও নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রিয়জনের কবর জিয়ারত করতে যেতে ভয় পান। পঞ্চগড় পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসী অনেকবার প্রতিকার চেয়েও ফল না পাওয়ায় তারা এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাদের দাবি, একটি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে এমন নৈরাজ্য অগ্রহণযোগ্য। পবিত্র এই স্থানের মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল ও স্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ জরুরি। পাশাপাশি কবরস্থানের চারপাশে সীমানা প্রাচীর মেরামতের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।