গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে মেক্সিকো-দক্ষিণ কোরিয়া

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এ’-তে দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হচ্ছে এমন এক ম্যাচ দিয়ে যা শেষ পর্যন্ত গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আগামীকাল সকাল ৭টায় গুয়াদালাহারায় মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথম ম্যাচে দুই দলই জয় দিয়ে অভিযান শুরু করায় আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামছে, তবে দ্বিতীয় ম্যাচের গুরুত্ব তাদের সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বকাপের আগে থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল মেক্সিকো। কোচ হাভিয়ের আগুইরের অধীনে দলটি ধারাবাহিক ফল করছিল, আর সেই আত্মবিশ্বাস তারা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেও ধরে রেখেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিল এল ত্রি। ম্যাচের নবম মিনিটেই জুলিয়ান কিনিওনেস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে রাউল হিমেনেসের হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ হলে নিশ্চিত হয় ২-০ গোলের জয়।

এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট এনে দেয়নি, মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ইতিহাসেও একটি নতুন অধ্যায় লিখেছে। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ জিতেছে তারা। ফলে বর্তমানে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে সহ-আয়োজকরা এবং দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই অবস্থান ধরে রাখাই তাদের লক্ষ্য।

তবে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে এশিয়ার দলটি। সর্বশেষ ৯ ম্যাচে সাত জয় ও দুই ড্র নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে তারা এবং সেই ছন্দ উদ্বোধনী ম্যাচেও ধরে রেখেছে।

চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুটা ভালো না হলেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর দলটি ভেঙে না পড়ে উল্টো আরো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। ফেইনুর্ড মিডফিল্ডার হোয়াং ইন-বম সমতা ফেরানোর পর ও হিউন-গ্যুর জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় তাইগুক ওয়ারিয়র্স।

এই জয় দক্ষিণ কোরিয়ার টানা তৃতীয় জয় এবং সর্বশেষ আট ম্যাচে ষষ্ঠ সাফল্য। ফলে মেক্সিকোর মাঠে খেলতে হলেও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই হং মিয়ং-বোর দলের।

তবে ইতিহাস মেক্সিকোর পক্ষেই কথা বলছে। ২০০৬ সালের পর দক্ষিণ কোরিয়া আর কখনো মেক্সিকোকে হারাতে পারেনি। এরপর দুই দলের চার খেলায় তিনটিতে জয় পেয়েছে মেক্সিকো এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রীতি ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল; কিন্তু ইনজুরি সময়ে সান্তিয়াগো হিমেনেসের গোলে ২-২ সমতায় ফেরে এল ত্রি।

মেক্সিকোর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে ডিফেন্ডার সিজার মন্তেসের অনুপস্থিতি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ায় এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। ফলে অধিনায়ক এডসন আলভারেজকে মাঝমাঠ থেকে রক্ষণভাগে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তার সাথে দেখা যেতে পারে ইয়োহান ভাসকেসকে।

এ দিকে উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করা জুলিয়ান কিনিওনেসও পুরোপুরি ফিট নন। ম্যাচ শেষে কোচ আগুইরে জানিয়েছেন, খেলোয়াড়টি বদলি হতে চেয়েছিলেন এবং তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গেছে। ফলে তিনি শুরু থেকে খেললেও ঝুঁকি থাকছে। প্রয়োজনে অ্যালেক্সিস ভেগা সুযোগ পেতে পারেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থাও পুরোপুরি স্বস্তির নয়। আক্রমণভাগের মিডফিল্ডার বে জুন-হো সম্প্রতি অনুশীলনে ফিরলেও ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন ডিফেন্ডার কিম তাই-হিয়ন, তবে তাকে শুরু থেকেই দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি অবশ্য অধিনায়ক সন হিউং-মিন। তার গতি, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতা মেক্সিকোর রক্ষণকে ব্যস্ত রাখবে। পাশাপাশি হোয়াং ইন-বম ও লি কাং-ইনের সৃজনশীলতাও হতে পারে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়া উপাদান।

দুই দলেরই সামনে সমীকরণ পরিষ্কার, এই ম্যাচে জয় মানে নকআউটের খুব কাছে পৌঁছে যাওয়া। ড্র হলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে, আর হারলে বাড়বে চাপ। তাই গুয়াদালাহারার এই লড়াই শুধু তিন পয়েন্টের নয়, এটি হতে পারে গ্রুপ ‘এ’-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি।