সিএনসির স্মরণসভা ও পদক প্রদান অনুষ্ঠিত

Printed Edition
সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার (সিএনসি) আয়োজিত বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নারে স্মরণসভা ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথিরা
সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার (সিএনসি) আয়োজিত বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নারে স্মরণসভা ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথিরা

সেন্টার ফর ন্যাশনাল কালচার (সিএনসি)-এর উদ্যোগে বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নারে স্মরণসভা ও পদক প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। সিএনসির সভাপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক, বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশনের অন্যতম সদস্য ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া। এবার সিএনসি পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে পাঁচ ক্যাটাগরিতে পদক প্রদান করে।

পদক প্রাপ্তরা হচ্ছেন স্বাধীনতা সিএনসি পদক ২০২৬ সাবেক সচিব মুহাম্মদ আসাফউদ্দৌলাহ, বিজয় সিএনসি পদক ২০২৬ পেয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ গবেষক ও লেখক অধ্যাপক নূরুল আমীন চৌধুরী, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান সিএনসি পদক ২০২৬ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট সুবোধচন্দ্র দাস, কুরআন সিএনসি পদক ২০২৬ পেয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও ইসলামিক স্কলার ডা: তাহেরা বেগম ও ভাষা সিএনসি পদক ২০২৬ পেয়েছেন বিশিষ্ট কবি ও লেখক মুর্শিদ-উল-আলম। তাদের সবাইকে একটি করে ক্রেস্ট, সম্মাননা পত্র, মেডেল ও কিছু অর্থ দেয়া হয়।

পদক প্রদান করেন প্রধান মেহমান অধ্যাপক ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া।

পদক প্রদানের আগে পাঁচটি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসানের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রিন্সিপাল সাব্বির উদ্দিন আহমেদ, বিজয় দিবসের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক নূরুল আমীন চৌধুরী, ভাষা দিবসের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন ইতিহাসবিদ আশরাফুল ইসলাম এবং রমাদান ও ঈদের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন শিক্ষাবিদ আতিয়া ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএনসির নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মাহবুবুল হক।

প্রধান মেহমান অধ্যাপক ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া বলেন, কালচারাল বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর সাথে মানুষের সবকিছু জড়িত। মানুষের জীবনবোধ, সততা, দায়িত্বশীলতা, কথাবার্তা, চালচলন, আচার-ব্যবহার, লেনদেন ইত্যাদি সবকিছুকে এককথায় কালচারাল বলা হয়। কালচারাল শুধু নাচগান, বাদ্যযন্ত্রকে বুঝায় না। এগুলো এর অংশ হতে পারে; কিন্তু এগুলো অপরিহার্য নয়।

এই ক্ষেত্রে তিনি কালচারালের সাথে আদর্শিক বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করে বলেন, মানুষের নৈতিকতা বিষয়টি যতক্ষণ পর্যন্ত তার জীবনবোধের সাথে একীভূত করা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষকে সত্যিকারভাবে মানুষে পরিণত করা যাবে না। তাই শিক্ষার সাথে এথিকাল বিষয়টি যতক্ষণ সন্নিবেশিত করা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আজকে সমাজে অরাজকতা ও বিভিন্ন ধরনের অসততার মূল কারণ একটাই- শিক্ষার সাথে আদর্শিক বিষয়টি পুরোপুরি বাদ দেয়া।

সিএনসিকে তিনি আজকের এই গুণীদেরকে পদক প্রদানের জন্য ধন্যবাদ প্রদান করেন। যাদেরকে পদক দেয়া হয়েছে দেশ ও সমাজে তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক পাওয়ার জন্য তাদেরকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। সিএনসির এ ধরনের সুস্থ কালচারাল ফ্রেমওয়ার্ক গঠনের কাজ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আজকের অনুষ্ঠানে এত মানুষের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ কে এম বদরুদ্দোজা আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সিএনসির সচিব এবং মিডিয়া এক্সিকিউটিভ ইসমাইল হোসেন। বিজ্ঞপ্তি।