ওষুধ বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ঘুরে দাঁড়াল পুঁজিবাজার

লেনদেন সময় বাড়ল ডিএসইর

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

ঢাকার শেয়ারবাজারে সবগুলো সূচকের কমবেশি উন্নতি

সংশোধন শেষ করে ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে পুঁজিবাজার। এ ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রেখেছে ওষুধ, বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত। যেখানে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো প্রধান খাতগুলো সংশোধনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সেখানে উল্লেখিত তিনটি খাত বেশ ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। এর ফলে গতকাল ঢাকার শেয়ারবাজারে সবগুলো সূচকের কমবেশি উন্নতি ঘটে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কিছু খাতের সংশোধনের সময় অন্য খাতগুলোর মূল্যবৃদ্ধি পুঁজিবাজারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।

দীর্ঘ সময় ধরে টানা দরপতনের সময় বাজারের প্রধান তিনটি খাত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি দরপতনের শিকার ছিল। তা ছাড়া ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনার চিত্র প্রকাশিত হলে আরো বেশি প্রভাব পড়ে এ খাতগুলোতে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মন্দা কাটিয়ে পুঁজিবাজার ভালো অবস্থায় ফিরতে শুরু করলে এ তিনটি খাতের মূল্যস্তর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। সে তুলনায় অন্য খাতগুলো পিছিয়ে ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিন টানা বৃদ্ধির পর দুই দিন ধরে বাজারে সংশোধন ঘটছে। আর এ সময় বেশি সংশোধনের শিকার হচ্ছে এ তিনটি খাত। বিপরীতে তুলনামূলক কম মূল্যস্তরে থাকা খাতগুলো এবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৬ দশমিক ০৫ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ৫ হাজার ৬০৫ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৬২১ দশমিক ৬২ পয়েন্টে। লেনদেনের শুরুতে সূচকটির ২৬ পয়েন্ট উন্নতি ঘটলেও মাত্র দশ মিনিটের মাথায় বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাাজর। সকাল পৌনে ১১টার দিকে ডিএসই সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ৬০৩ পয়েন্টে। এ অবস্থান থেেেক পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচকটি। এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুপুর পৌনে ১২টায় সূচকটি ফের পৌঁছে যায় ৫ হাজার ৬৪৫ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকটির উন্নতি রেকর্ড করা হয় ৪০ পয়েন্ট। এখান থেকে নতুন করে তৈরি হয় বিক্রয়চাপ যা লেনদেন শেষ হওয়া অবধি বলবৎ ছিল। এতে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের একটি অংশ হারিয়ে বসে বাজারটি। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ২ দশমিক ৭৩ ও ৭ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। অপর দিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এচেঞ্জের (সিএসই) চিত্র ছিল ভিন্ন। এখানে সবগুলো সূচকের কমবেশি অবনতি ঘটে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই গতকাল ২২ দশমিক ০১ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। বুধবার সকালে ১৫ হাজার ২৭১ দশমিক ৮২ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করা সূচকটি বিকেলে লেনদেন শেষে স্থির হয় ১৫ হাজার ২৪৯ দশমিক ৮১ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৪ দশমিক ১৪ ও ১৭ দশমিক ১৮ পয়েন্ট।

সূচকের আচরণে ভিন্নতা থাকলেও গতকাল দুই পুঁজিবাজারেই লেনদেন কিছুটা বৃদ্ধি পায়। ঢাকা স্টক গতকাল এক হাজার ২১১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ১৫ কোটি টাকা বেশি। মঙ্গলবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ১ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম স্টকে ৩৪ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয় গতকাল। মঙ্গলবার বাজারটির লেনদেন ছিল ৩০ কোটি টাকা।

এ দিকে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার লেনদেনের সময় পাঁচ মিনিট বৃদ্ধি করা হয়েছে। গতকাল থেকেই তা কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নতুন সময়সূচি কার্যকর থাকবে। ডিএসইর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শেয়ার লেনদেন চলবে। এ ছাড়া পোস্ট-ক্লোজিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ২টা থেকে ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। এর আগে স্বাভাবিক অবস্থায় ডিএসইর লেনদেন সকাল ১০টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে জ¦ালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি নির্দেশনায় ডিএসইর লেনদেনের সময় ৩০ মিনিট কমিয়ে আনা হয়েছিল। সে অনুযায়ী, লেনদেন চলত সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত এবং পোস্ট-ক্লোজিং সেশন ছিল দুপুর ১টা ৫৫ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত। এখন তা ৫ মিনিট বাড়িয়ে ২টা পর্যন্ত করা হলো।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লেনদেনের সময় সামান্য বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা বাড়তি সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং বাজার কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে সহায়ক হবে।

গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষস্থানটি দখলে রাখে সেবা খাতের সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট। ৯৯ কোটি ২৮ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৬ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস উঠে আসে দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে আইপিডিসি, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, ব্র্যাক ব্যাংক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, বিডি কম অনলাইন, এনসিসিবি ব্যাংক ও মালেক স্পিনিং।

ডিএসইতে দিনের মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানি ছিল ন্যাশনাল ফিড মিলস। গতকাল কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১০ শতাংশ। ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানি বিডিকম অনলাইন। মূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, সিলভা ফার্মা, জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড, এম হোসাইন স্পিনিং মিলস, শমরিতা হাসপাতাল ও অগ্নি সিস্টেমস।

বরাবরের মতো দিনের দরপতনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। গতকাল নিয়ে টানা ৭ কর্মদিবসে দরপতনের শীর্ষে রয়েছে কোম্পানিটি। গত ৯ জুন ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে পতন ঘটে চলেছে কোম্পানিটির শেয়ার দরের। ৮ জুন পর্যন্ত ১১০ দশমিক ১০ টাকায় আটকে থাকা শেয়ারদর গতকাল নেমে আসে ৫২ দশমিক ৮০ টাকায়। ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল রিজেন্ট টেক্সটাইলস।