তাদের পরিকল্পনা বুঝে খেলার চেষ্টা করেছি : তানজিদ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আগ্রাসী ব্যাটার হিসেবে পরিচিত তামিম গতকাল খেলেছেন পুরোপুরি দলের প্রয়োজন অনুযায়ী। ১৯৭ বল খেলে ৮ চার ও এক ছক্কায় ১০১ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ছিল ৫১-এর সামান্য বেশি। অথচ প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণে ছিলেন মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হেজেলউড ও নাথান লায়নের মতো বিশ্বমানের বোলাররা। ব্যাটিংয়ে ছিল না অযথা ঝুঁকি। ভালো বল ছেড়েছেন, অপেক্ষা করেছেন নিজের বলের জন্য। অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা বারবার পরিকল্পনা বদলালেও নিজের ছন্দ হারাননি। গিলক্রিস্টের সঙ্গে কথোপকথনে সেটিই জানিয়েছেন তামিম, ‘আলহামদুলিল্লাহ! এখানে খেলার সুযোগ পাওয়া দারুণ ব্যাপার। আমার জন্য এটি স্পেশাল। কারণ এবারই প্রথম এখানে খেলছি। টেস্ট ক্রিকেটে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছি এবং সেঞ্চুরি করতে পেরেছি। আমার জন্য এটি স্পেশাল। সেঞ্চুরিটি আমি আমার বাবা-মাকে উৎসর্গ করতে চাই।’

সেঞ্চুরির পথে তার ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তামিম বলেন, ‘দলের চাহিদা অনুয়ায়ি খেলার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়, উইকেট বেশ ভালো। বোলাররা আমার জন্য ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা করছিল। আর আমি চেষ্টা করছিলাম শান্ত থেকে নিজের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে।’

শতকের পর আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় তানজিদ পেয়েছেন স্ট্যান্ডিং ওভেশন। অস্ট্রেলিয়ার দর্শকদের সেই সম্মান তার কাছে হয়ে উঠেছে টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন পাওয়াটা আসলে অনেক ভালো লাগার একটি জায়গা। খুব ভালো লাগছিল, এটাই হয়তো টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য যা আজকে অনুভব করেছি।’

অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের বিপক্ষে তামিমের সাফল্যের মূলমন্ত্রও ছিল খুব সরল। স্টার্ক-কামিন্স-হেজেলউডদের নিয়ে আলাদা করে ভাবেননি তিনি। বল দেখে সিদ্ধান্ত নেয়াই ছিল পরিকল্পনা, ‘আমি শুধু বল দেখে, বলের মেধা অনুযায়ী খেলছিলাম। খুব বেশি কিছু করার চেষ্টা করিনি। যতটা সম্ভব স্থির থেকে তারা যেভাবে বল করছে ও পরিকল্পনা করছে, তা বুঝে খেলার চেষ্টা করছিলাম।’

এই পদ্ধতিই শেষ পর্যন্ত এনে দেয় তিন অঙ্ক। তামিম যখন ১০১ রানে থামেন, তখন বাংলাদেশ শুধু একজন ব্যাটারের ব্যক্তিগত অর্জন উদযাপন করছিল না; বরং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছিল। নাফিসের সাথে তার সেঞ্চুরির পার্থক্য এক জায়গায়-তামিমের সেঞ্চুরি এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, যেখানে এর আগে কোনো বাংলাদেশী ব্যাটার তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

ডারউইনের উইকেট নিয়েও ইতিবাচক তামিম। তার মতে, প্রথম দিনের তুলনায় ব্যাটিংয়ের জন্য পরিস্থিতি এখন আরো ভালো। তাই সামনে সুযোগও দেখছেন তিনি, ‘আমার মনে হয়, প্রথম দিনের তুলনায় উইকেট এখন বেশ ভালো। আমার মতে, এটি আরো ভালো হতে থাকবে। এই উইকেটে আমরা যদি এখানে স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় শট খেলতে পারি, আমাদের জন্য ভালো হবে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বালাদেশ এর আগে টেস্ট জিতেছে, তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় এখনো অধরা। ডারউইনে সেই অপেক্ষা শেষ করার মতো অবস্থান তৈরি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো সময়ের হাতে। তামিমও বড় কোনো ঘোষণা দিতে চাননি। বরং তার নজর সামনের দুই সেশনে, ‘আমাদের এখন পরের দুই সেশন ভালোভাবে খেলতে হবে। আমরা যদি ভালোভাবে সেটি করতে পারি, তাহলে আমাদের দলের জন্য অনেক ভালো হবে।’

এক দিন আগে হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন সেই চাপকে লিডে পরিণত করার কাজটা করলেন তামিম। আর সেটি করতে গিয়ে তিনি দেখালেন নিজের আরেকটি রূপ-আগ্রাসনকে পাশে রেখে ধৈর্য, পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাটিং এবং বিশ্বমানের বোলিংয়ের সামনে নিজের পরিকল্পনায় অটল থাকা!