নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগে আমিন থেকে ফিল্ড কানুনগো পদে পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই বিভাগে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে (রাজশাহী) জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েকজনকে পদোন্নতি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত পাঁচ বছরের বার্ষিক গোপনীয় (এসিআর) প্রতিবেদনে প্রতিস্বাক্ষর জালিয়াতি করে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন লালমনিরহাট ডিইও দফতরের আমিন মঞ্জুরুল হক। তিনি দাবি করেন, বিধি লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত দু’জন ফিল্ড কানুনগো পদোন্নতি দেয়ায় রাষ্ট্রের বিপুল অর্থের অপচয় হচ্ছে। কারণ পদোন্নতি হলে ওই কর্মকর্তার বেতন ভাতাদিসহ সার্বিক দিক থেকে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। পাকশী এবং লালমনিরহাট ভূসম্পত্তি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও একই অভিযোগ তুলেছেন। রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে সরকারকে প্রতি মাসে অতিরিক্ত টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে জানান তারা। ভূসম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, অবৈধ পদোন্নতি দিয়ে নিজেরা লাভবান হয়ে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত টাকা ক্ষতি সাধন করছে, যা বিধির পরিপন্থী।
নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতি দেয়ার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন মোহাম্মদ রেজাউল করিম (সাবেক চিফ এস্টেট অফিসার) (পশ্চিমাঞ্চল), কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন- মোছাম্মদ আফরিন নাহার (জুনিয়র পার্সোনেল অফিসার-২/পশ্চিম) এবং অপর আরেক সদস্য ছিলেন- উম্মে কুলসুম শম্পা (সাবেক ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা রাজশাহী সদর)। অভিযোগ পাওয়া গেছে, পশ্চিমাঞ্চলের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিধি লঙ্ঘন করে তিনজনকে পদোন্নতি দিয়েছেন।
আমিন থেকে ফিল্ড কানুনগো পদে পদোন্নতি দেয়ার জন্য যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজনের তালিকা তৈরি করে কমিটি। অভিযোগ উঠেছে, পাঁচজনের তালিকা করা হলেও সুপরিকল্পিতভাবে তিনজনকে আমিন থেকে ফিল্ড কানুনগো পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। যারা পদোন্নতি পেয়েছেন তারা হলেন-হীরেন্দ্রনাথ সরকার, শরিফুল ইসলাম এবং আলিমুর রাজিব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়োগ বিধিতে বলা হয়েছে, আমিন থেকে ফিল্ড কানুনগো পদে ৮০ ভাগ সরাসরি নিয়োগ দিবে রেল কর্তৃপক্ষ, আর যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি পাবে ২০ ভাগ।
জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চল দুই বিভাগে চারটি এস্টেট (ভূমি) অফিস রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে দু’টি আর পূর্বাঞ্চলে দু’টি। রাজশাহী বিভাগে দু’টির মধ্যে একটি পাকশী এস্টেট অফিস অপরটি লালমনিরহাট ভূসম্পত্তি (ডিইও) দফতর। চট্টগ্রাম বিভাগে ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ডিইও দফতর রয়েছে দু’টি। একটি ঢাকা কমলাপুর ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার দফতর এবং অপরটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে ভূমি অফিস। এই চারটি ডিভিশনে মোট ফিল্ড কানুনগো পদ রয়েছে ২১টি। এই পদের বিপরীতে ২০ ভাগ হিসেবে পদোন্নতি পায় চারজন। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুই দফায় মোট ছয়জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, রেলওয়ে বিধি লঙ্ঘন করে ২০২৪ সালে অতিরিক্ত দু’জনকে আমিন থেকে ফিল্ড কানুনগো পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এর আগে ২০১৬ সালে পূর্ব-পশ্চিম দুই অঞ্চল থেকে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে তিনজনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক জিএম, পাকশীর সাবেক ডিইও এবং কমিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মঞ্জুরুল হক। পদোন্নতিতে জালিয়াতি করা হয়েছে বলে ২০২৪ সালে ৪ মার্চ রাজশাহীর সাবেক জিএম মামুনুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
রাজশাহী সদরের সাবেক প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (সিইও) রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পদোন্নতি পাওয়া কোনো কর্মকর্তার এসিআরএ তিনি প্রতিস্বাক্ষর করেননি।
এ দিকে অভিযোগ দাখিলের দেড় বছর পার হলেও অন্ধকারেই রয়ে গেছে তদন্ত প্রতিবেদন। তদন্তকারী কর্মকর্তা যুগ্মসচিব হিল্লোল বিশ্বাস। গত ১৯ নভেম্বর জানান যে তিনি এমন অভিযোগ পাননি এবং তাকে কোনো চিঠি কর্তৃপক্ষ দেয়নি। এই অভিযোগের বিষয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন বলেন, পদোন্নতি নিয়ে অনিয়মের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



