আবাসন খাতের সঙ্কট কাটাতে রাজউকের সহায়তা চায় রিহ্যাব

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আবাসন খাত গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটির দাবি- নির্মাণব্যয় বৃদ্ধি, চড়া সুদের ব্যাংকঋণ, করের চাপ এবং ড্যাপ ও নতুন ইমারত বিধিমালার কিছু অস্পষ্ট বিধানের কারণে নতুন বিনিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

গত বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও রিহ্যাবের এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময়সভায় আবাসন ব্যবসায়ীরা এ দাবি জানান।

সভায় রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, দেশের জিডিপিতে আবাসন ও এর সহযোগী শিল্পের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ২৬৫টির বেশি লিংকেজ শিল্প নির্ভরশীল। অথচ নানা জটিলতায় বর্তমানে ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ৬২ শতাংশ কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের বিশৃঙ্খলা, নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজেটে বাড়তি কর আরোপের কারণে আবাসন খাতে উৎপাদন ও নির্মাণখরচ ৪৩ থেকে ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এ অবস্থায় ১৭ থেকে ১৮ শতাংশের মতো চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সঙ্কট কাটাতে রিহ্যাব সভাপতি তিনটি প্রধান প্রস্তাব তুলে ধরেন: স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণসুবিধা চালু করা; আবাসন খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন এবং করনীতি সহজীকরণ ও ঢাকার বাইরে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আবাসন বিকাশে বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে পরিকল্পিত বিকেন্দ্রীকরণ ত্বরান্বিত করা।

সভায় ‘ড্যাপ-২০২৫’ সংশোধনী এবং ‘ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৫’-এর বিভিন্ন জটিল ধারা পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানানো হয়। রিহ্যাবের মতে- এফএআর, সেটব্যাক, ছোট প্লটে ইউনিটের সংখ্যা, এসটিপি স্থাপন, গ্রিন বিল্ডিং, টিওডি, টিডিআর, পার্কিং এবং মিশ্র ব্যবহারের মতো কারিগরি বিধানগুলোতে অস্পষ্টতা রয়েছে। এ ছাড়া নিবন্ধন ও কর কাঠামোর বাইরে পরিচালিত অবৈধ ‘শেয়ারভিত্তিক’ আবাসন ব্যবসাকে দ্রুত আইনি নিয়মনীতির আওতায় আনার তাগিদ দেন তারা।

ব্যবসায়ীদের দাবির জবাবে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ডেভেলপারদের হয়রানি করা নয়; বরং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত নগর গড়াই রাজউকের মূল লক্ষ্য। নকশা অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি সহজ করতে সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজউকের সেবাগুলোকে পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করা হবে।

তিনি আরো জানান, শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে রাজউক নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। একইসাথে অতীতে নির্মিত যেসব ভবনে কারিগরি দিক থেকে সমাধানযোগ্য ছোটখাটো ত্রুটি রয়েছে, শর্তসাপেক্ষে সেগুলো নিয়মিত করার বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ আছে। তবে অগ্নিনিরাপত্তা, পার্কিং এবং কাঠামোগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে রাজউক কোনো আপস বা ছাড় দেবে না।