রাজধানীজুড়ে হত্যা-গুলি ছুরিকাঘাতে বাড়ছে আতঙ্ক

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দখলদারিত্ব, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেট এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাকে ঘিরে সঙ্ঘাত বাড়ছে। এ ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে টার্গেট অ্যাটাক করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম
Printed Edition

  • নেপথ্যে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার
  • সুযোগ নিচ্ছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা

রাজধানী ঢাকার অপরাধ জগৎ আবার অস্থির হয়ে উঠছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড, গুলি, ছুরিকাঘাত, কুপিয়ে আহত করা, সন্ত্রাসী হামলা ও প্রকাশ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান চালালেও অপরাধী চক্রগুলো নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠছে।

জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দখলদারিত্ব, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়ার সিন্ডিকেট এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাকে ঘিরে সঙ্ঘাত বাড়ছে। এ ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে টার্গেট অ্যাটাক করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র মতে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছোট-বড় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে সঙ্ঘাত বাড়ছে। বাজার, পরিবহন, ফুটপাথ, নির্মাণকাজ, কাঁচাবাজার, ট্রাকস্ট্যান্ড, টার্মিনাল, বস্তি এবং বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা চলে আসছে। নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ, পরিবহন, মার্কেট, হকার, পার্কিং, বালু ও ইট বহনকারী যানবাহন, এমনকি বিভিন্ন স্থানীয় ব্যবসা থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব অবৈধ আয়ের উৎস নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

সর্বশেষ শুক্রবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টের পাশে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে একজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম ইউসুফ আলী। তিনি স্থানীয় যুবদলকর্মী। এই ঘটনায় নালাম সরদার ও মনির গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে সবুজবাগে পলাশ নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই রাতে হাজারীবাগে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন সাগর হোসেন বুলেট নামে একজন সিএনজি চালিত অটো রিকশাচালক। অপর দিকে বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংয়ে ওসমান গনি নামে এক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টরকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। তিনি স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) শাহজালাল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে কর্মরত রয়েছেন। শুক্রবার মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা হয়েছিল দু’টি শক্তিশালী টাইম বোমা। তবে আনসার সদস্যের সতর্কতায় সেটি বিস্ফোরণ হওয়ার আগেই শনাক্ত হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অসংখ্য চাঁদাবাজি, হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ সূত্র বলছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মামলার আসামিদের কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পুরনো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন, নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে অপরাধ দমনে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতে সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা গোপনে এবং প্রকাশ্যে দেশকে অস্থিতিশীল করার নানা ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের টার্গেট অ্যাটাক করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হিসেবে দেখাতে চাইছে। যার কারণে বেশ কিছু অপরাধমূলক ঘটনা দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে প্রতিটি ঘটনাই শনাক্ত করে জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধের ঝুঁকি বেশি, সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ওসমান গনি নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রতিটি ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে কেউ টার্গেট অ্যাটাক করলে সেটা তাৎক্ষণিক বন্ধ করা কষ্ট সাদ্য। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে অধিকতর কাজ করা হচ্ছে।