রয়টার্স
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার রাতে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
খারকিভের আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিহুবভ জানান, একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে সাতটি বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও প্রশাসনিক কার্যালয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল দেশটির জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী সারা দেশে মোট ৪৮০টি ড্রোন ও ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় মধ্য ইউক্রেনের চারটি রেলওয়ে স্টেশন এবং ওডেসা অঞ্চলের বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওডেসায় একটি শস্য গুদাম ও ভোজ্যতেলের কনটেইনারে আগুন লাগায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই হামলাকে ‘বর্বর’ আখ্যা দিয়ে জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক মিত্রদের কাছে অবিলম্বে আরো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও উন্নত অস্ত্র সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
রাশিয়ার দুই যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
এ দিকে কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নোভোরোসিস্ক নৌঘাঁটিতে ইউক্রেনের হামলায় দু’টি ফ্রিগেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২ মার্চ ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলে অবস্থিত নোভোরোসিস্ক নৌঘাঁটিতে চালানো হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের ফ্রিগেট অ্যাডমিরাল এসেন ও অ্যাডমিরাল মাকারভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ এখনও মূল্যায়ন চলছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শত্রুপক্ষের সামরিক অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে। এর আগে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছিল, একই হামলায় রাশিয়ার মাইনসুইপার ভালেন্তিন পিকুল এবং সাবমেরিনবিরোধী জাহাজ ইয়েসিক ও কাসিমভও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


