আশিকুর রহমান
টি-২০ বিশ্বকাপ শেষ হলেই ক্রিকেট দুনিয়ায় একটি চেনা বিতর্ক ফিরে আসে, অ্যাসোসিয়েট দেশগুলোর ভবিষ্যৎ কী? বড় কোনো অঘটন ঘটলে বা বড় দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই দেখালে প্রশংসার ঢেউ ওঠে। তারপর ক্যালেন্ডার বদলায়, আলোচনাও স্তিমিত হয়ে যায়। কিন্তু ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ-পরবর্তী আলোচনার সুর যেন আলাদা। এটি আর সহানভূতির আবেদন নয়; বরং কাঠামোগত পরিবর্তনের জোরালো দাবি।
গত এক দশকে নেদারল্যান্ডসের চমক, আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়, নেপালের ইংল্যান্ডকে কঠিন লড়াইয়ে ফেলা, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানকে সুপার ওভারে হারানো। এগুলো আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি ধারাবাহিক সঙ্কেত। প্রশ্ন হলো, এই মূহূর্তগুলোকে কিভাবে টেকসই অগ্রগতিতে রূপ দেয়া যায়?
অনুদান নয়, প্রয়োজন ‘অপর্চুনিটি সিস্টেম’
আইসিসি অ্যাসোসিয়েট দেশগুলোকে একটি ন্যূনতম অর্থায়ন দেয়। তবে সেটি যথেষ্ট নয়। কেবল অনুদান বাড়ালেই স্থায়ী উন্নয়ন হয় না। প্রয়োজন এমন একটি সুযোগ-ব্যবস্থা, যা টুর্নামেন্টের মধ্যবর্তী সময়েও বাণিজ্যিক গতি ধরে রাখবে।
টি-২০ ফরম্যাট এখানে বড় সুযোগ এনে দিয়েছে। এটি তুলনামূলক গণতান্ত্রিক, অনিশ্চয়তাপূর্ণ এবং দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক। অবকাঠামো কম হলেও আয়োজন সম্ভব, নতুন দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য। তাই টি-২০ বিশ্বকাপ অ্যাসোসিয়েট দেশগুলোর জন্য আদর্শ মঞ্চ। কিন্তু সমস্যা হলো এই সাফল্যগুলো ধারাবাহিক হয় না। টুর্নামেন্টের পর দীর্ঘ নীরবতা নেমে আসে। স্পন্সর ও সম্প্রচারকারীরা ধারাবাহিকতা চায়, ভাইরাল মুহূর্ত নয়, পুনরাবৃত্তিযোগ্য পণ্য চায়।
সমাধান : পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেল
সমস্যা সমাধানে সম্ভাব্য একটি পথ হতে পারে- পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেল, যেখানে আইসিসি ‘দাতা’ থেকে ‘মার্কেট-মেকার’-এ রূপান্তরিত হবে। অর্থাৎ সরাসরি টাকা না দিলেও আইসিসি অনুমোদন, মানদ- এবং বণ্টন কাঠামো দিয়ে বেসরকারি পুঁজি আকর্ষণ করতে পারে।
বিনিয়োগকারীরা প্রতিভা নিয়ে সন্দিহান নয়; তারা রাজনৈতিক ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা নিয়ে চিন্তিত। আইসিসির অনুমোদন সেই ঝুঁকি কমাতে পারে। পাশাপাশি ডেটা-ভিত্তিক দর্শক বিশ্লেষণ, স্বচ্ছ সম্প্রচার কাঠামো এবং বিপণন সহায়তা থাকলে একটি আঞ্চলিক টুর্নামেন্টও দীর্ঘমেয়াদি সম্পদে পরিণত হতে পারে।
আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট ও ‘স্টপওভার কূটনীতি’
ইউরোপ, আফ্রিকা বা আমেরিকায় ‘ক্রিকেটের সিক্স নেশনস’-ধাঁচের প্রতিযোগিতা গড়ে তোলার ভাবনা নতুন নয়। তবে অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হলে তা টেকে না। প্রথম কয়েকটি আসরকে ‘কাস্টমার অ্যাকুইজিশন কস্ট’ হিসেবে দেখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে দর্শক-পরিচয় সংগ্রহই হবে আসল সম্পদ।
একইভাবে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সফরের ফাঁকে একটি পরিকল্পিত ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য পণ্য হিসেবে অ্যাসোসিয়েট দেশে সংক্ষিপ্ত সিরিজ আয়োজন করা যেতে পারে। এটি হবে এককালীন প্রদর্শনী ম্যাচ পরিবর্তে দর্শক ডেটা সংগ্রহ, সদস্যপদ ও স্পন্সর মেট্রিকসসহ সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ইভেন্ট।
অবকাঠামো: ‘কংক্রিট সিলিং’ ভাঙার উপায়
অনেক অ্যাসোসিয়েট দেশ ভাড়া করা অস্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। এতে ম্যাচ-ডে আয় খরচেই শেষ হয়ে যায়। সমাধান হতে পারে বহুমুখী কমিউনিটি হাব, যা সারা বছর ব্যবহারযোগ্য। কেবল ক্রিকেট মাঠ নয় বরং সামাজিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্র। এতে উন্নয়ন অর্থায়ন ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব সহজ হয়। সূত্র উইজডেন



