থানায় অভিযোগ

মসজিদ কমিটিতে পদ না পেয়ে সাংবাদিক ও তার বাবার ওপর হামলা

Printed Edition

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে মসজিদ কমিটিতে পদ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের গুটিয়া এলাকায় এই হামলা হয়। এতে সাংবাদিক শরীফুলের বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহত অবস্থায় তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শরীফুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, গুটিয়া গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটিতে সভাপতি পদ না পেয়ে জালাল নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন এবং একপর্যায়ে মসজিদে তালা দেয়ার হুমকি দেন। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং শরীফুল পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশে ভূমিকা রাখেন। এর জের ধরে জালাল ও তার লোকজন প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বুধবার জালাল তার ভাই ইব্রাহিম ও খোকনকে নিয়ে শরীফুল ও তার বাবার ওপর হামলা চালান।

আহত শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্ত জালাল এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাণিজ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন। জিডি ও সংবাদ প্রকাশের পর আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছিল। হামলায় আমার চোখ ও শরীরে গুরুতর আঘাত লেগেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই আহ্বায়ক কমিটির সভা চলাকালে জালাল জোরপূর্বক কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে না পেরে হট্টগোল করেন এবং নথিপত্র ছুড়ে ফেলে মসজিদে তালা দেয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ১১ জুলাই এলাকাবাসী থানায় জিডি করেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের গাজীপুর জেলার সাবেক সহসভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা সোলায়মান স্বপন জানান, জালালের অপকর্ম ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। কোনো রাজনৈতিক দল বা পেশাগত পরিচয় ভাঙিয়ে অন্যায় কাজ করা অনুচিত, এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে।

এ ছাড়া গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ নিয়েও জালালের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা মোসা: খায়রুন্নেছা অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ৫ আগস্টের পর জালাল জোরপূর্বক সভাপতি হতে চান। প্রতিবাদ করায় তাকে অপবাদ দেয়া হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, আহত শরীফুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে একটি জাতীয় দৈনিকে দীর্ঘদিন স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি চাকরি ছেড়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।