৫টি গরু দিয়ে শুরু এখন ৫০০ পশুর মালিক শাহীদ

Printed Edition
৫টি গরু দিয়ে শুরু এখন ৫০০ পশুর মালিক শাহীদ
৫টি গরু দিয়ে শুরু এখন ৫০০ পশুর মালিক শাহীদ

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

মাত্র পাঁচটি গরু দিয়ে শুরু। এক যুগের পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও ধৈর্যের ফল হিসেবে সেই ছোট উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে প্রায় ৫০০ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি আধুনিক খামারে। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের ডোমখালী বেড়িবাঁধসংলগ্ন ২২ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা আরবিসি এগ্রো টুরিজম লিমিটেড এখন স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খাতের একটি পরিচিত নাম।

খামারটির উদ্যোক্তা শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী। ২০১২ সালে মাত্র পাঁচটি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়াতে বাড়াতে বর্তমানে সেখানে রয়েছে তিন শতাধিক গরু। পাশাপাশি রয়েছে মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে মোট প্রায় ৫০০টি পশু। এ ছাড়া হাঁস, মুরগি, কবুতর পালন এবং মাছ চাষের ব্যবস্থাও রয়েছে।

সরেজমিন খামারে দেখা যায়, কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন পশুর পরিচর্যায়। কেউ গরুকে গোসল করাচ্ছেন, কেউ খাবার দিচ্ছেন, আবার কেউ গোয়ালঘর পরিষ্কার করছেন। ছোট গরুগুলো একসাথে রাখা হলেও বড় গরু ও মহিষের জন্য রয়েছে পৃথক শেড। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিয়মিত পরিচর্যার কারণে পশুগুলোও বেশ সুস্থ-সবল।

খামার সূত্রে জানা যায়, এবারের কোরবানির ঈদে দুই শতাধিক গরু ও ২৫টি মহিষ বিক্রি করা হয়েছে। পশুর খাদ্যের জন্য খামারের নিজস্ব জমিতে নেপিয়ার ঘাস, ভুট্টা ও ধানের খড় উৎপাদন করা হয়। ফলে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরতা নেই বললেই চলে।

আরবিসি এগ্রোর ব্যবস্থাপক রাশেদ নুর বলেন, বর্তমানে খামারে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে প্রায় ৫০০টি পশু রয়েছে। এখানে শাহিওয়াল, জার্সি, ভুট্টি ও হাঁসা জাতের গরু পালন করা হচ্ছে।

খামারের স্বত্বাধিকারী শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ করলেও ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়িয়েছেন। বর্তমানে খামারে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১৫ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত খাদ্যই পশুদের খাওয়ানো হয়, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: শুভ সূত্রধর বলেন, উপজেলায় ছোট-বড় অনেক খামার থাকলেও আরবিসি এগ্রো অন্যতম সফল একটি উদ্যোগ। অল্পসংখ্যক গরু দিয়ে শুরু করে এটি এখন একটি বড় বাণিজ্যিক খামারে পরিণত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে আসছে। শাহীদুল ইসলাম চৌধুরীর এ উদ্যোগ স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।