আগডুম-বাগডুম কবিতা গুলি

Printed Edition

শীত

খান কাওসার কবির

নির্জনে চাঁদ

জ্বলে সারারাত

জোসনারা হাসে

শিশিরের ঘাসে

মেঘ ভেসে ভেসে

ছোটে দূর দেশে

পাখিরা তো বনে

কাঁপে সমীরণে

খেয়াগুলো ভিড়ে

নদীটির তীরে

পরিযায়ী পাখি

আহা মাখামাখি!

দেখি শীতে রাতে

ঘন কুয়াশাতে।

শীত এলে সেকি

মাঠঘাটে দেখি

চাষ করে চাষি

শীতে সারামাসই

ভালোবাসা মেলে

অতিথিরা এলে

খেজুরের মিঠা

বিবিখানা পিঠা

ফুফু মামা খালা

যেন গাঁথা মালা ।


চিড়িয়াখানা

আমিনুল ইসলাম মামুন

বাঘ সিংহ হরিণ ময়ূর কত্তো রকম প্রাণী

চিড়িয়াখানায় সবই আছে কে বলো না জানি?

তাই ছুটে যাই শিশু-বুড়ো দেখতে ওদের মুখ

সব শিশু পায় দারুণ মজা, আহ্ মনে কী সুখ!

বানরগুলো লাফাচ্ছে খুব, জিরাফগুলোর গলা-

লম্বাটে কী! ধীরগতিতে হস্তিগুলোর চলা

সর্প কুমির কচ্ছপও এই জায়গাটিতে আছে

গরিলা, ক্যাঙ্গারু শিয়াল সবই হাতের কাছে।

জলজ ও স্থলজ প্রাণীর সে কী সমাহার

ছড়িয়ে আছে ময়ূরগুলো পেখমের বাহার

কত্তোরকম পোকামাকড় ও উভচর প্রাণী

শিপাঞ্জি পাণ্ডা ও শুশুক আছে তাও জানি।

জলহস্তি গড়িয়াল আর পাখপাখালির মেলা

হরেক প্রাণীর সমারোহ দেখেই কাটে বেলা

দিন কেটে যায় আহ কী দারুণ! চিড়িয়াখানায় এসে

দুচোখ জুড়ায়, মন ভরে যায় ওদের ভালোবেসে।


নতুন বইয়ের ঘ্রাণ

কবির কাঞ্চন

নতুন বছর এলে যে পাই

হাতে নতুন বই

এই খুশিতে আমরা করি

আনন্দে হইচই।

নতুন বইয়ের মিষ্টি ঘ্রাণে

মুগ্ধ হয়ে যাই

বইয়ের ভেতর স্বপ্ন আছে

আমরা খুঁজি তাই।

নতুন বইয়ের নতুন ঘ্রাণ

স্বাদেতে ভরপুর

অক্ষরে অক্ষরে তাই

প্রাণে তোলে সুর।


শীতের বুড়ি

মুহাম্মদ রফিক ইসলাম

আকাশ থেকে শীতের বুড়ি

আস্তে ধীরে নামে

হীম কুয়াশার চাদর পরে

পৃথিবীতে থামে।

হিমেল বায়ে আঁচল খুলে

শীতের বুড়ি হাঁটে

বরফ শাদা চুলের খোঁপা

ছড়িয়ে পড়ে মাঠে।

গাছ-গাছালি কুঁকড়ে আসে

পাতার উষ্ণ ওমে

পাখ-পাখালি পাখনা গোছায়

আরাম খুঁজে ঘুমে।

একটু পেলে রোদের ছায়া

পালায় শীতের বুড়ি

খেলতে নামে খোকা-খুকি

সারা উঠান জুরি।


জীবন ওদের গড়ি

পঞ্চানন মল্লিক

কাজের ছেলে কাজের মেয়ে

ছোট্ট শিশু কত

ওদের মনেও স্বপ্ন আছে

অন্য শিশুর মতো।

কিন্তু পরের গৃহ কাজে

কাটে ওদের বেলা

বাড়ির ছোট বাচ্চা নিয়ে

কেউবা করে খেলা।

পড়া শোনার সময়গুলো

এমনি করে নষ্ট

ওদের কথা মনে হলে

লাগে বড় কষ্ট।

তাদের নিয়ে ভাবেন যারা

আসেন কিছু করি

সেবা মূলক হাত বাড়িয়ে

জীবন ওদের গড়ি।


নতুন বইয়ের গন্ধ

আসাদ সরকার

বছর ঘুরে বছর আসে

ঋতু নাচে ছন্দে

পাড়ার ছেলে মেয়ে নাচে

নতুন বইয়ের গন্ধে।

নতুন বইয়ের গন্ধে শুঁকে

পড়ে গল্প ছড়া

ইংরেজি আর গণিত পড়তে

স্বল্প লাগে কড়া।

স্যার ম্যাডামের মাইরের ভয়ে

বাড়ির কাজটি করে

দিনে রাতে বসে বসে

নতুন স্বপ্ন গড়ে।


সবুজ গাঁয়ের নদী

নাজমুল হুদা মজনু

মুক্তা মানিক ছড়িয়ে থাকা

সবুজ গাঁয়ের নদী

একটু দাঁড়াও পথিক তুমি

সময় থাকে যদি।

রূপালি রঙ রূপ মাধুরী

হাতছানি দেয় যে

ভালোবাসার অনুরাগী

কুড়িয়ে নেয় সে।

সকাল বিকাল সন্ধ্যা রাতে

জোয়ার-ভাটা-ঢেউ

যখন খুশি যাওয়া আসা

বাদ সাধে না কেউ।


মিনি বিড়াল

নবীন চৌধুরী

আমাদের মিনি

বিড়ালটি ভালো

দেখতে সে মোটামুটি

রং তার কালো।

ইঁদুর ধরার কাজে

সে যে খুব পাকা

তাই তো এত কথা লেখা

এত ছবি আঁকা।