খুলনা ও চট্টগ্রামে বিএনপির দুইজন নিহত

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

খুলনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাউজানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছেন।

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার তেরখাদা উপজেলায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নূর আলম (৫২) নামে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে পূর্বশত্রুতার জের ও জেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনায় নিহত নূর আলম মধুপুর গ্রামের ইকরাম শেখের ছেলে।

গ্রামবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুইটি গ্রুপ আছে। এর এক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল মোড়ল ও আরেক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম। তাদের মধ্যে শহীদুল ইসলাম আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ছাড়া এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় সময় দুই গ্রুপের লোকজন ঢাল-সড়কি নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সবশেষ গত রমজান মাসেও দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাইফুল মোড়ল গ্রুপের একজন নিহত হয়। এসব নিয়ে দুই পক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

গতকাল শনিবার সকাল পৌঁনে ৮টার দিকে সাইফুল মোড়ল গ্রুপের ৬-৭ জন স্থানীয় বিলে ধান কাটতে যায়। পথে শহীদুল ইসলামের লোকজন তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে নূর আলম, মো: হিজমুল্লাহ সোহেল রানা, নূরোল শেখ, মুসা শেখ, মফিজুর রহমান ও আলী হুসাইন গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে নূর আলম মারা যায়। নিহত নূর আলম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল মোড়লের সমর্থক।

এ ব্যাপারে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শহীদুল্লাহ বলেন, পূর্বশত্রুতা ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধুপুর গ্রামে বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল মোড়ল ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাইফুল মোড়ল গ্রুপের নূর আলম নামে একজন নিহত ও ৫-৬ জন আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিহতের ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গভীর রাতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে কাউসারুজ্জামান বাবলু (২৭) নামে এক বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে মারা গেছেন। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পৌরসভার ঢালারমুখ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কাউসারুজ্জামানের লাশ নিয়ে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও গ্রামবাসী। অবরোধকারীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য পুলিশকে আলটিমেটাম দেন। খুনিদের প্রকাশ্য এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।

বাবলু পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালামের ছেলে। বালু ও ইট সরবরাহের ঠিকাদারিতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং লাশ রাখার খাটিয়া দিয়ে সড়ক অবরুদ্ধ করে দেয়া হয়। শত শত নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন এবং খুনিদের বিচারের দাবিতে সেøাগান দেন। এ সময় সড়কটির দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে সন্ধ্যায় লাশ দাফনের পর মামলা দিতে পরিবারকে থানায় আসতে বলা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেদিন তার নানা বাড়িতে একটি দাওয়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মামাতো ভাই পলিনকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব আলীখীল খামার টিলা এলাকায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে তাকে মারধর করে এবং পরে গুলি করে গুরুতর আহত করে।

আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গহিরা জে. কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত কাউসারুজ্জামানের বাবা আবুল কালাম বলেন, আমার ছেলে বিএনপির সমর্থক ছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করত। এর আগেও কয়েকবার তার ওপর হামলা হয়েছে। এবার গুলি করে মেরে ফেলল। আমরা এর বিচার চাই।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান বলেন, ‘নিহত কাউসারুজ্জামান বিএনপির সমর্থক ছিল। তার বড় ভাই যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত। আমরা ত্ার হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।