আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বন্ড ইস্যু করে ঋণ করতে চায় সরকার

আইএমএফের সাথে আলোচনায় অর্থ বিভাগ

স্থানীয় বাজার থেকে অতিরিক্ত ঋণ না নেয়ার পক্ষপাতি সরকার। তবে জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় নির্বাহের জন্য আন্তর্জাতিক বন্ড মার্কেট থেকে ঋণ নেবে সরকার।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

স্থানীয় বাজার থেকে অতিরিক্ত ঋণ না নেয়ার পক্ষপাতি সরকার। তবে জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় নির্বাহের জন্য আন্তর্জাতিক বন্ড মার্কেট থেকে ঋণ নেবে সরকার।

বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে এই বার্তাটি দেয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশ ও হংকংবিষয়ক মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনার অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। সেখানে অর্থ বিভাগের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে একথা তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে।

আইএমএফের পক্ষ থেকে ইআরডির কাছে পাইপ লাইনে কী পরিমাণ বিদেশী মুদ্রা মজুদ রয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জানতে চাওয়া হয় বর্তমানে সরকারের ঋণের পরিমাণ কত।

সূত্র জানায়, অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে সরকারের ঋণ ২২ লাখ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত এটি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। আর বাংলাদেশ কখনো বিদেশী ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়নি। তাই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বন্ড ইস্যু করে অর্থ উত্তোলনে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে ঋণগ্রহীতা আর্জেন্টিনা ও শ্রীলঙ্কার বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তখন সরে আসে সরকার।

জানা গেছে, গেল জুন মাসে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারের বিকল্প অর্থায়ন অনুসন্ধান-বিষয়ক সভায় আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বন্ড ইস্যুর বিষয় পর্যালোচনা করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সারসংক্ষেপ অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করেছে অর্থ বিভাগ।

২০ জুন অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান চীনা মুদ্রায় পান্ডা বন্ড ইস্যুর পক্ষে মতামত তুলে ধরে বলেন, ‘প্রচলিত মার্কিন ডলার-ভিত্তিক ইউরোবন্ডের পাশাপাশি চীনা রেনমিনিবিতে (আরএমবি) পান্ডা বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনা পরীক্ষা করা যেতে পারে।

ইআরডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বেশ কিছু দেশ সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করেছে। আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের ফুটপ্রিন্ট স্থাপনের সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে।

সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত। বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশের ইক্যুইটি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গঠনের একটি উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

হংকংভিত্তিক এই ফান্ড গঠিত হলে ব্যক্তি খাতে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মূলধন হিসেবে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রস্তাবিত এই ইক্যুইটি ফান্ডের সমান্তরালে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনার বিষয়ে অনুসন্ধান চলতে পারে উল্লেখ করে অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী।

সভায় অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বন্ড ইস্যু-সংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনায় অতীতে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে উৎসাহী ছিল না। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনরায় বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে।

তবে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পান্ডা বন্ড ইস্যুর বিষয়ে আইএমএফ পক্ষ থেকে আপত্তি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আর বন্ড ইস্যু করে অর্থ উত্তোলন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এই অর্থ যেখানে বিনিয়োগ করা হবে তা থেকে যদি নিয়মিত রিটার্ন না পাওয়া যায় তবে সেই ঋণ আমাদের জন্য বোঝায় পরিণত হবে। তাই এ বিষয়ে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।