সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের সংবাদ সম্মেলন

লা-মাজহাবি শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী না করার আহ্বান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে মনোনীত না করার আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁও চৌরাস্তায় জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী।

তিনি বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকনকে মনোনীত করার সংবাদ দেশের আলেম সমাজ ও সাধারণ তাওহিদী জনতার প্রত্যাশার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মতাদর্শ ও চেতনাবিরোধী। একই সাথে তিনি পীর মাশায়েখ, তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও চার মাজহাববিরোধী। লা মাজহাবের আকিদায় বিশ্বাসী। অথচ বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী হানাফি মাজহাবের আকিদায় বিশ্বাসী। ফলে আমরা এ পদের জন্য তাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিশেষায়িত ত্রে। যে ব্যক্তি ইসলামী কৃষ্টি-কালচার ও শিার সাথে সরাসরি যুক্ত এবং যার ওপর দেশের আলেম সমাজ আস্থা রাখতে পারেনÑ এমন কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তি এ দায়িত্বে না এনে শামীম কায়সার লিংকনের নাম গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় আমরা তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের ধর্মীয় কালচার ও রীতিনীতির সাথে সহমত পোষণকারী একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি এ দায়িত্বে থাকলে আলেমদের মর্যাদা রা এবং আপামর জনসাধারণের ধর্মীয় যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহায়ক হবে।

মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছিÑ শামীম কায়সার লিংকন যিনি একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে, তাকে বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ধারণকারী কোটি কোটি জনতার ওপর চাপিয়ে দেয়া দেশবাসী গ্রহণ করবে না। এ প্রস্তাব অবিলম্বে বাতিল করে তা পুনর্বিবেচনা করা হোক। একই সাথে ওলামায়ে কেরামের সাথে আলোচনাসাপেে একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে এ পদের দায়িত্ব অর্পণ করা হোক।

তিনি আরো বলেন, বিগত নির্বাচনে বর্তমান সরকারকে মতায় আনতে দেশের উলামায়ে কেরামের যে অপরিসীম অবদান ছিল, তা সরকার খুব ভালোভাবেই অবগত রয়েছে। এ জন্য এ ধরনের সংবেদনশীল েেত্র আলেমদের মতামত ও প্রত্যাশাকে অবজ্ঞা করে সিদ্ধান্ত নেয়া সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে।

তিনি বলেন, আমাদের এ দাবি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়; বরং ধর্মীয় মর্যাদা রা ও কওমি আলেমদের স্বার্থ সুরার স্বার্থেই। সরকার এই দাবি মেনে না নিলে দেশের উলামায়ে কেরামের সাথে সরকারের দূরত্ব তৈরি হবে।

উলামা মাশায়েখদের এ নেতা বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের ইসলামবান্ধব সরকার হিসেবে দাবি করে আসছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শীর্ষ মুরুব্বি আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন। এ অবস্থায় আলেমদের এই ন্যায্য দাবি সরকার মেনে না নিলে, বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থার সম্পর্কে যে ফাটল ধরবে, তা সহজে মেরামত করা সম্ভব হবে না। তাই উলামায়ে কেরামের পরামর্শানুযায়ী ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মনোনীত করাই সরকারের জন্য কল্যাণকর হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা মুফতি নাজমুল হাসান কাসেমী, জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম খিলগাঁওয়ের মুহতামিম মাওলানা জহুরুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ, জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর শিক মাওলানা মোহাম্মদ শফি, বিশিষ্ট ওয়ায়েজ মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মাওলানা আবু আম্মার আবদুল্লাহ, মুফতি রিদওয়ান রফিকী, জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম খিলগাঁওয়ের নায়েবে মুহতামিম মাওলানা রাশেদ বিন নূর, হেফাজতের দফতর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, মুফতি আল আমিন, মাওলানা সালেহ আহমদ আজমসহ প্রমুখ।