টানা বর্ষণ আর সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীন অনিয়ন্ত্রিত খোঁড়াখুঁড়িতে অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। অধিকাংশ সড়কই এখন চলাচলের অনুপযোগী। এতে এক দিকে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, অন্য দিকে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী।
সম্প্রতি শ্রাবণের টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং পরবর্তী সময়ে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে রাজধানীর অধিকাংশ প্রধান ও অলিগলির সড়কে তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার অপেক্ষায় মেরামত কাজ আটকে রেখেছে। ফলে দিন দিন এসব গর্ত আরো বড় হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। খানাখন্দে ভরা এসব রাস্তায় চলতে গিয়ে রিকশা, মোটরসাইকেল, বাস ও ট্রাকসহ নানা যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
সড়কের এই বেহাল দশার মধ্যেই ঢাকা ওয়াসা, ডিপিডিসি-সহ বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থার অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজ নগরবাসীর জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের নামে মাসের পর মাস রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হচ্ছে। জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসা দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ‘ঢাকা স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার কাজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে।
সরেজমিন বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সায়েদাবাদ থেকে মানিকনগর হয়ে টিটিপাড়া বিশ্বরোড পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। মুগদা বিশ্বরোডে রাস্তা খুঁড়ে পিচ উঁচু করে ফেলে রাখায় সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে নিত্যদিনের যানজট লেগে থাকছে। খিলগাঁও ফাইওভারের সড়কেও বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। ফ্লাইওভার থেকে মালিবাগ রেলগেট মোড় পর্যন্ত সড়কটি চলাচলের একেবারেই অযোগ্য। বিশেষ করে মালিবাগ রেলগেট মোড়ে তৈরি হয়েছে পুকুর-সম বিশাল গর্ত। বাসাবো প্রধান সড়ক ও পূর্ব মালিবাগের ভেতরের গলির অবস্থা আরো নাজুক। মালিবাগে ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় এক মাস ধরে রাস্তা কেটে রাখায় হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ধলপুর থেকে পূর্ব গোলাপবাগ হয়ে মানিকনগর পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করায় অধিকাংশ সময় পথ বন্ধ থাকে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। বাংলা মোটর থেকে মগবাজারগামী সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। হাতিরপুল এলাকায় রাস্তা আড়াআড়ি কেটে রাখা হয়েছে। শান্তিনগরের পিআইবি সড়কে ডিপিডিসি বিদ্যুতের ভূগর্ভের লাইনের কাজ করায় সারা দিন লেগে থাকে যানজট। কমলাপুরে মেট্রোরেল এবং বাড্ডায় এমআরটি প্রকল্পের কারণে সড়কের বড় অংশজুড়ে ধীরগতির কাজ চলায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই চিত্র প্রগতি সরণির নদ্দা ও নতুন বাজার মোড়েও, যেখানে রাস্তা বন্ধ রেখে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি।
এভাবে সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং সিটি করপোরেশনের সময়মতো মেরামত কাজ না করার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সড়কগুলোর দ্রুত মেরামত নিশ্চিত করা না হলে আগামীতে নগরবাসীর ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
অবশ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো: আবদুস সালাম বলছেন, নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে অন্যান্য সেবাসংস্থাগুলোকে খোঁড়াখুঁড়ির অনুমতি না দিয়ে উপায় থাকে না। সে ক্ষেত্রে একটি সড়কের একটি অংশ কাজ শেষ হওয়ার পর আরেকটি অংশ কাজ শুরু করার জন্য সেবাসংস্থাগুলোকে বলা হচ্ছে বলে তিনি জানান।


