পরিবর্তিত তারিখের জকসু নির্বাচন আজ

Printed Edition

জবি সংবাদদাতা

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, তারিখ পরিবর্তন এবং স্থগিতের ধাপ পেরিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। বহু প্রতীক্ষার এ ভোটকে সামনে রেখে ক্যাম্পাস-জুড়ে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা রয়েছেন তৎপর এবং প্রতিটি কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ২৭ নভেম্বর জকসু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরে ভূমিকম্প আতঙ্ক, ক্যাম্পাস ছুটি ও অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তের কারণে ভোট পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন সকালে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। স্থগিত হওয়ার পর আন্দোলনের মুখে নির্বাচনের তারিখ ৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। ভোট গ্রহণ শেষে গণনার পুরো প্রক্রিয়া লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে ১৫৭ জন এবং হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে চারটি এবং হল সংসদে তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেঞ্জার ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকরাও মাঠে রয়েছেন।

এ দিকে বারবার তারিখ পরিবর্তনের ফলে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। জবি শিক্ষার্থী শাওন ইসলাম বলেন, ‘৩০ তারিখ জকসুর যে আমেজ ছিল তা এখন নেই। অনেকে গ্রামে চলে গিয়েছেন। ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ হবে বলে মনে হচ্ছে না।’ আরেক শিক্ষার্থী সানজিদা রিমি বলেন, ‘জকসু জবির অস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত। বারবার তারিখ পরিবর্তন, স্থগিত হওয়া নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে। তবু আশা করি, শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।’