এনামুল হক রাজাপুর (ঝালকাঠি)
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ২ নম্বর শুক্তাগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ শুক্তাগড় (মোল্লারহাট) এলাকায় সরকারি খাল ও সড়কের পাশে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মো: আবুল কাশেম নামে স্থানীয় এক করাতকল মালিকের বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। খাল দখল ও বেআইনি নির্মাণের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে রাজাপুর থানায় ইতোমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ শুক্তাগড় এলাকার বাসিন্দা ও করাতকল ব্যবসায়ী আবুল কাশেম সরকারি সড়কসংলগ্ন রেকর্ডভুক্ত খালের মধ্যে বড় আকারের মেহগনি গাছের পাইলিং দিয়ে মাচান তৈরি করেছেন। এর ওপর প্রায় ৫০ বর্গহাত আয়তনের দু’টি দোকানঘর নির্মাণ করছেন তিনি। ইতোমধ্যে একটি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং অন্যটির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া ব্যস্ততম সড়কের ওপর কাঠ ও গাছ ফেলে রেখে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘœ ঘটানো এবং গাছবোঝাই ভারী যানবাহন চলাচলের মাধ্যমে গ্রামীণ রাস্তাটির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে স্থানীয় অভিযোগকারীরা জানান, খালের উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং সড়কে কাঠ ফেলে রাখার কারণে এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে প্রচণ্ড বিঘœ ঘটছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের নৌকা চলাচল ও কৃষিকাজে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তদন্তপূর্বক খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আবুল কাশেম দাবি করেন, যে জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে সেই খালটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ও রেকর্ডভুক্ত জমির অংশ। খালের পাড় ভেঙে যাওয়ায় সুরক্ষার জন্য পাইলিং করে ঘর তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবসা নয় বরং ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হবে। রাজাপুর ইউএনও রিফাত আরা মৌরি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামিম রেজা সজীব জানান, বিষয়টির সত্যতা খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি খাল বা যেকোনো সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।



