বিশেষ সংবাদদাতা
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) শুনানিতে প্রথম দিন থেকেই দেখা যাচ্ছে দলীয় প্রার্থীদের বৈধতার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী নামে বিদ্রোহীদের আপিল। তবে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধেও দলীয় প্রার্থীদের কেউ কেউ আপিলে অভিযোগও করেছেন। আর এটি ঘটছে বিএনপির ক্ষেত্রে। গতকাল একজন আপিলকারীর সাক্ষী ভোটারকে ইসি চত্বরে মারধর করা হয়েছে। এতে দলীয় বৈধ প্রার্থীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন। এমন একটি ঘটনা গতকাল যশোর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে হয়েছে। যুক্তিতর্কের মাধ্যমে গতকাল সপ্তম দিনে ১৮ জন বৈধতা পেয়েছে ভোটের মাঠে হাসি নিয়ে ফিরলেন। তবে কপালমন্দ ১৭ জনের। সাত দিনের শুনানি শেষে ভোটের মাঠে প্রার্থী হয়ে ফিরলেন ৩৫৪ জন; ইসি সূত্রে জানা গেছে।
রাজধানীর আগারগাঁওর নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল সপ্তম দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুরো কমিশননের উপস্থিতিতে এ আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৪৩টি আবেদনের শুনানি হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ১৮টি আপিল আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং অপর ১৭টির আবেদন না-মঞ্জুর হয়েছে। কমিশন মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে চারটি আপিল না-মঞ্জুর করেছে। শুনানিতে চারটি আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে বলে জানান ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) মো: রুহুল আমিন মল্লিক। আজ শনিবার ৫১১ থেকে ৬১০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল শুনানি চলবে।
বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করায় মারধর
দ্বৈত নাগরিকত্বের জেরে শেরপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করা স্থানীয় ভোটার ইয়াজদায়িনকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল নির্বাচন ভবন চত্বরে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা তাকে এ মারধর করেন। এ সময় নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে আপিল শুনানি চলছিল।
আপিলকারীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এম এম শফিউল্লাহ। তিনি বলেন, ফাহিম চৌধুরীর লোকজন আমার ওপর চড়াও হয়। উনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ছিলেন। উনি সঠিকভাবে তথ্য দেননি। ওনার মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। উনি যা বলবেন আপিল শুনানিতে বলবেন। অথচ আমি একজন আইনজীবী, আমার ওপর চড়াও হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের একজনকে ইসি চত্বরে বেধড়ক মারা হলো।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ইয়াজ আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আজেবাজে কথা বলছে। আমাদের প্রার্থী দ্বৈত নাগরিক ছিলেন, কিন্তু প্রত্যাহার করেছেন। আমরা আক্রমণ করি নাই। আমি ঠেকাইছি। ইয়াজকে কারা মেরেছে আমরা জানি না।
বিএনপির মুন্নীর স্থগিত হয়ে বৈধতা বহাল
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নীর প্রার্থিতা প্রথমে স্থগিত করে পরে বৈধতা বহাল রাখে নির্বাচন কমিশন। গতকাল ইসির আপিল শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যশোর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা জহরুল ইসলাম দলীয় প্রার্থী সাবিরা সুলতানার প্রার্থিতা গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন। দীর্ঘক্ষণ যুক্তিতর্কের পর আপিল শুনানিতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া বৈধতা বহাল রাখলে আপিল খারিজ হয়।
যশোর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম ২০১১ সালে ঢাকা থেকে অপহরণের পর নিহত হন। স্বামীর মৃত্যুর পর গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হন মুন্নী। তিনি স্বামীর ব্যাংক ঋণের গ্যারান্টার ছিলেন এবং ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় তার প্রার্থিতা গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।



