এসি ল্যান্ড হয়ে সশরীরে নৌকার ক্যাম্পেইন করা সেই ছাত্রলীগ নেতা এখন ইউএনও

Printed Edition

সরকার মাজহারুল মান্নান চিলমারী (কুড়িগ্রাম) থেকে ফিরে

  • চিলমারীতে নিজ গ্রামে স্কুলের খাস জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করায় বন্ধ পাঠদান

  • আওয়ামী লীগ এবং সরকারি কর্মকর্তার ক্ষমতায় গড়ে তুলেছিলেন পারিবারিক ও দলীয় সিন্ডিকেট

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চিলমারীর পাত্রখাতা গ্রামে নিজ বাড়িতে নৌকার প্রার্থী বিপ্লব হাসান পলাশের পক্ষে উঠান বৈঠক, সরাসরি টাকা এবং বিভিন্ন উপঢৌকন প্রদান করে ভোট চেয়েছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখার উপমুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ৩৬তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা মো: মাইদুল ইসলাম। সে সময় তিনি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসি ল্যান্ড। জুলাই বিপ্লবের পর পদোন্নতি পেয়ে এখন তিনি ঢাকার দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে রয়েছে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এবং তার নিজস্ব প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাবে গড়ে ওঠা পারিবারিক ও দলীয় সিন্ডিকেট দিয়ে এলাকার মানুষকে নির্যাতন নিপীড়ন, চর দখল, খাস জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণসহ নানা অভিযোগ। সেই লোকের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হওয়ার খবরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে চিলমারীতে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউল আলম মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মো: মাইদুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২০১৯ সালে ৩৬তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগ দেন।

এরপর দিনাজপুরের কাহারোলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড হিসেবে বদলি হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জেতার পর তিনি পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগ দেন। ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে যোগাসাজশ পন্থায় পদোন্নতি পেয়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হন। এরপর আরো একধাপ এগিয়ে চলতি বছরের ১০ নভেম্বর ঢাকার দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন তিনি ওই উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাইদুল ইসলাম কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের পাত্রখাতা গ্রামের বাসিন্দা। নিজে এবং পুরো পরিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত। মাইদুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপমুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার বাবা আইনুল হক মোল্লা চিলমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি। ছোট ভাই সাজেদুল ইসলাম চিলমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় ২ আগস্ট ছাত্র-জনতার মিছিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে অনেক মানুষকে আহত করার ঘটনায় মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। ওই হত্যা চেষ্টা মামলায় সাজেদুল ইসলাম গ্রেফতার হলেও পরে জামিন পেয়েছেন। আরেক ভাই জাহেদুল ইসলাম চিলমারী ইউনিয়নের যুগনিদহ গ্রামের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা। তার বিরুদ্ধে চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেট ও সীমান্ত মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গা ঢাকা দিয়ে আছেন। তার এক বোন দিলশাদ হাসী যুব মহিলা লীগ ও আরেক বোন নুসায়ার আহমেদ নিশি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বড় বোন বিউটি বেগমের স্বামী জাহাঙ্গীর আলম রমনা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য।

সরাসরি উঠান বৈঠক এবং টাকা দিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট ক্যাম্পেইন

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মাইদুল ইসলাম কাহারোল উপজেলার এসি ল্যান্ড ছিলেন। এসিল্যান্ডের গাড়িতে করে এসে আমাদেরকে নিয়ে নৌকার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা করে গেছেন। এটা এ এলাকায় সবাই জানে। সে কারণে মিথ্যা বলার সুযোগ নেই। গ্রামে ঘুরে ঘুরে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। আমরা তার সাথে ছিলাম। তবে আমি মনে করি, সরকারি চাকরিজীবী হয়ে এভাবে নৌকার প্রার্থীর পক্ষেও রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেয়া উচিত হয়নি।’

অনুসন্ধানে ইউএনও মাইদুলের কাছ থেকে ভোটের সময় টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে পাত্রখাতা গ্রামের আজিবুর রহমান জানালেন, ‘গেলোবার এমপি নির্বাচনের ইউএনও মাইদুলের বাড়িতে নৌকার বৈঠকে আমি কয়েকদিন উপস্থিত ছিলাম। বৈঠক শেষে মাইদুল সাহেব নৌকায় ভোট দেয়া এবং প্রচার করার জন্য আমাকে নিজ হাতে ৫০০ করে টাকা দিয়েছিলেন। যেদিনই গেছি সে দিনই টাকা পাইছি। মাইদুল তখন এসি ল্যান্ড ছিলেন।’

বিসিএস কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী বিপ্লব হাসান পলাশের নৌকার প্রচার-প্রচারণা পরিচালনার সাথে যুক্ত রমনা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা জানান, ‘মাইদুল ভাই তখন ছিলেন কাহারোলের এসি ল্যান্ড। মাইদুল ভাই বাড়িতে এলে পলাশ ভাইয়ের নৌকার উঠান বৈঠক মাইদুল ভাইয়ের বাড়িতে হতো। অনেক সময় প্রার্থী পলাশও থাকতেন। আমরা শুধু ইউনিয়ন নয়, জেলা-উপজেলার অনেক আওয়ামী লীগের নেতারাও ছিলেন তার সাথে বৈঠকে।। তিনি নিজ হাতে নৌকার ক্যাম্পেইন করতে আমাদেরকে টাকা দিয়েছেন। প্রতিদিন রাতে মিছিলের পর মাইদুল ভাইয়ের পাত্রখাতার বাসায় খিচুড়ি পার্টি হত। মুড়ি, বিড়ি সিগারেটের ব্যবস্থাসহ প্রতিজন কর্মীকে ৪০০ করে টাকা দেয়া হতো। নগদ ও আনুষঙ্গিক খরচের পুরো ব্যয় করতেন মাইদুল ভাই। সার্বিক দেখাশোনা করতেন তার ছোট ভাই চিলমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাজেদুল ইসলাম।’

স্থানীয় মুদি দোকানদার শাহ আলম ও সাহেরা খাতুন জানান, ‘এমপি নির্বাচনের সময় আমাদের দোকানের পাশেই মাইদুল স্যার তার সরকারি গাড়ি রেখে বাড়িতে যেতেন। নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শেষে আবার গাড়ি নিয়ে কাহারোল যেতেন।

মাইদুলের বাড়িতে গোপন বৈঠকে ভোট কেন্দ্রের এজেন্ট ও মহিলা প্রতিনিধি নিয়োগ পান একই এলাকার প্রবাসী মকবুল হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। তিনি জানান, ‘ইউএনও মাইদুলের বাসার সেই বৈঠকে প্রায় দুই শতাধিক মহিলা, এক শ’র বেশি পুরুষ মানুষ ছিলেন। সেখানে নৌকার প্রার্থী বিপ্লব হাসান পলাশ, সেই সময়ের এসি ল্যান্ড মাইদুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মাইদুল ভাই বৈঠকটির আয়োজন করেছিলেন। আমাকে এলাকার মহিলাদের ডাকার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।’ তিনি আরো জানান, ‘বৈঠকে শুধু মাইদুল ইসলাম ও প্রার্থী পলাশ তাদের নিজের মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন। অন্যদের ছবি তুলতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন মাইদুল ভাই।’

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাত্রখাতার প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে নৌকার প্রার্থীর মতো প্রচার কাজ চালিয়েছেন এখনকার দোহারের ইউএনও মাইদুল ইসলাম।

সরকারি গাড়িতে করে এসে সরকারী কর্মকর্তার এমন বৈঠকে তখন অনেক সমালোচনা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ তাকে পুরস্কৃত করেছে। আমরা ভেবেছিলাম ৫ আগস্টের পর মাইদুল ইসলামের চাকরি ওএসডি হয়েছে। এখন জানলাম এ সরকারের আমলে সে প্রমোশন পেয়ে ইউএনও হয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।’ স্কুলের মাঠ ও রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

আওয়ামী লীগের ক্ষমতা এবং নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপটে ভুয়া বন্দোবস্তের দলিল দেখিয়ে স্কুলের খেলার মাঠ দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ আছে ঢাকার দোহার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওই স্কুলে যাতায়াতের সর্বশেষ রাস্তাটুকুও দখল করে ঘর নির্মাণের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচারিত হয়।

সরেজমিনে গিয়েও এর সত্যতা পাওয়া যায়, দেখা গেছে রাস্তায় একটি ঘর নির্মাণ করায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্কুলের পাঠদানও বন্ধ আছে।

এ ব্যাপারে পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক শাহ্ আলম জানান, ‘১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর চারজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান শুরু হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টিকে সরকারি করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়ের সামনে সরকারি খাস জমিতে খেলার মাঠ ছিল, রাস্তাও ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এবং সরকারি কর্মকর্তার হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেন মাইদুল ও তার পরিবার। সর্বশেষ রাস্তাটিও দখল করে ঘর নির্মাণ করায় স্কুলটিতে দুই মাস ধরে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ আছে। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেও সেটি আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে।’

চিলমারী উপজেলা ভূমি অফিসের নথিপত্রে দেখা যায়, ‘যে দলিল মূলে কোর্ট থেকে রায় নেয়া হয়েছে সেটি জালজালিয়াতি করে তৈরি করা। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে ইউএনও মাইদুলের দখলে থাকা জমি এখনো সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। আর জেলা প্রশাসকের যে স্মারক মূলে দলিল করা হয়েছে সেটিরও কোনো অস্তিত্ব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নথিপত্রে নেই।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত জানান, ‘ওসমান হাদির পাশে থেকে যেভাবে তাকে হত্যা করেছে; ঠিক সেই একইভাবে নির্বাচনে আওয়ামী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করবে মাইদুলের মতো আমলারা। বিগত নির্বাচনে নৌকার প্রচারণা চালানো সরকারি কর্মকর্তাদের ধরে ধরে বরখাস্ত এবং শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে সামনের নির্বাচন নিয়ে অনেক শঙ্কা তৈরি হবে।

এ ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার জানান, ‘একজন দলীয় কর্মী যিনি নৌকার ক্যাম্পেইন করে বিগত সরকারের কাছে অনুকম্পা লাভ করেছেন। জেলা, উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব তাদের হাতে থাকা মানে নিশ্চিত কোনো অঘটন টেনে আনা। নির্বাচন কমিশনের উচিত অতি দ্রুত এসব বিতর্কিত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া।

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাইদুল ইসলামের সাথে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি কোনো দিনই নির্বাচনই প্রচারণায় অংশ নেইনি। আমি কোনো প্রভাব বিস্তারও করিনি। আমি ভালো কর্মকর্তা ছিলাম। আমার এলাকায় কেউ আমার দুর্নাম করতে পারবে না। যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেসব বানানো। তবে আমি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কাহারোলের এসি ল্যান্ড ছিলাম। ছাত্রলীগের পদপদবির বিষয়ে প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।