নিজস্ব প্রতিবেদক
ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের মিরপুর ডিওএইচএসের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এর আগে তার জলসিঁড়ি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাদা স্বর্ণের অলঙ্কারসহ শত কোটি টাকার সম্পদের নথিপত্র মিলেছিল।
গতকাল দুদকের উপপরিচালক মো: হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম জিয়াউল আহসানের বাড়িতে ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করে।
দুদকের উপপরিচালক মো: আকতারুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে দুদক। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ একটি টিম জিয়াউল আহসানের মিরপুর ডিওএইচএসের ৩১ নম্বর রোডের ৫৪১ নম্বর বাড়ির লেভেল ৩ এর ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরির কার্যক্রম চালায়।
গত ২০ জুলাই জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসিক প্রকল্পের জয়িতা ভবনের ৮ম ও ৯ম তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট তল্লাশি চালায়। যেখানে স্বর্ণ ও হোয়াইট গোল্ড, দামি আবাবপত্র, চেক বই, মানি রিসিট ও পোশাকসহ অন্তত শত কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পায় দুদক।
গত ২৭ জানুয়ারি সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ক্রোক করা (অ্যাটাচড) স্থাবর সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন জেলা প্রশাসক এবং গণপূর্ত বিভাগকে ‘রিসিভার’ (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেয় আদালত। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: হাফিজুল ইসলাম জিয়াউল আহসানের ক্রোক করা সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার নিয়োগের প্রার্থনা জানিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রায় ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করে দুদক।
ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জিয়াউল আহসানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্পেস ইনোভেশন লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানের একটি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এআই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও এআই ল্যান্ডস্কেপ লিমিডেট নামের দু’টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা অস্বাভাবিক লেনদেন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদক তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করে জিয়াউলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়াসহ অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।



