অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
লেনদেনের শুরু থেকে সৃষ্ট বিক্রয়চাপে অস্থির আচরণ করলেও দিনশেষে সূচকের নামমাত্র উন্নতি ধরে রেখেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। অপর দিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচকটি নামমাত্র উন্নতি ধরে রাখলেও অবনতি ঘটেছে দুই বিশেষায়িত সূচকের। একদিন আগে ঘুরে দাঁড়ানো বাজারগুলোর আচরণ নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে বিনিয়োগকারীদের। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুন ক্লোজিং উপলক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেয়ার কারণে সৃষ্ট বিক্রয়চাপই সূচকের এ অস্থির আচরণে ভূমিকা রাখছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১১ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। পাঁচ হাজার ৬০৫ দশমিক ২৫ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি বিকেলে পাঁচ হাজার ৬১৬ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে স্থির হয়। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে দশমিক ১০ ও দশমিক ৮১ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। অপর দিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। ১৫ দশমিক ১১৮ দশমিক ১৩ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে স্থির হয় ১৫ দশমিক ১১৯ পয়েন্টে। সিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচক এ সময় যথাক্রমে ৫ দশমিক ০৩ ও ৬ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট হারায়।
সকালে সূচকের উন্নতি দিয়ে লেনদেন শুরু করলেও মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে দুই বাজার। দুপুর ১২টার পর বিক্রয়চাপ কিছুটা হ্রাস পেলে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে সূচক। বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত এ প্রবণতা বজায় থাকে। লেনদেনের শেষদিকে এসে আবারো বিক্রয়চাপের মধ্যে ছিল বাজারগুলো। এভাবেই সূচকের অস্থির আচরণে গতকাল লেনদেন শেষ করে দুই পুঁজিবাজার।
সূচকের অস্থির আচরণ সত্ত্বেও লেনদেন বেড়েছে ঢাকা শেয়ারবাজারে। ডিএসই এদিন ৯৪০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিনের চেয়ে ১১২ কোটি টাকা বেশি। মঙ্গলবার বাজারটির লেনদেন ছিল ৮২৮ কোটি টাকা। তবে লেনদেন কিছুটা কমেছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। সিএসই গতকাল ৫৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে। মঙ্গলবার বাজারটির লেনদেন ছিল ৭৪ কোটি টাকা।
এ দিকে গত ৯ জুন থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ার পর থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড প্রতিদিনই দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দর হারাচ্ছে। ১১০ দশমিক ১০ টাকায় ফ্লোর প্রাইস আটকে থাকা কোম্পানিটির শেয়ারদর গতকাল নেমে আসে ৩১ দশমিক ৫০ টাকায়। এরই মধ্যে কোম্পানিটি ৭০ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। সামনে শেয়ারদরে আর কত পতন ঘটে তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ। কারণ বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও শাইনপুকুর সিরামিকস যথারীতি উৎপাদনে থাকলে বেক্সিমকো লিমিটেডের অধীনে থাকা কোম্পানিগুলো বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বন্ধ ঘোষণা করে সরকারের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা কর্মচারীদের পাওনা আদায় করে দেয়া হয়। তাই কার্যত কোম্পানিটি এ মুহূর্তে বন্ধই বলা যায়। আর এর খেসারত দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, বেক্সিমকো লিমিটেডকে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যা করেছে তা খুবই দুঃখজনক। এটি যে একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি, এখানে যে কোম্পানির স্পন্সর ছাড়াও হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রয়েছে তা দেখা হয়নি। এ মুহূর্তে বেক্সিমকোর দরপতনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছেন যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছেন। বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার থাকার কারণে তাদের অন্য ভালো শেয়ারও এ মুহূর্তে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তা ছাড়া কোম্পানি বন্ধ করার ফলে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা প্রচণ্ডভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তখন বিষয়টি নিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করলে একটা না একটা পথ বের করা যেত।
গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি ছিল বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। ৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৪২ লাখ ১৫ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। ৩৩ কোটি চার লাখ টাকায় ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে সামিট অ্যালাইয়েন্স পোর্ট ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ব্র্যাক ব্যাংক, আইটিসি, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, ন্যাশনাল ফিড মিলস, কেডিএস অ্যাক্সেসরিজ, আইপিডিসি, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস ও স্কয়ার ফার্মা।
মূল্যবৃদ্ধিতে গতকাল ডিএসইর শীর্ষ কোম্পানি ছিল নাহি অ্যালুমিনিয়িাম কম্পোজিট। ৯ দশমিক ০১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল সোনারগাঁও টেক্সটাইলস। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, কেডিএস অ্যাক্সেসরিজ, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), আরামিট লিমিটেড, আইটিসি, মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ও সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড।
এদিন ডিএসইর দরপতনে শীর্ষ কোম্পানি ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটি ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ দর হারায়। ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর হারিয়ে তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। দরপতনে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে পিপলস লিজিং, বে-লিজিং, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, প্যাসিফিক ডেনিমস, নুরানি ডাইং, তুং হাই টেক্সটাইলস ও ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড।



