ক্রীড়া প্রতিবেদক
যে কয়টি ফেডারেশনে আগের সাধারণ সম্পাদকরা বহাল আছেন তাদের একটি বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন (ইউনিয়ন)। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া আখতারুজ্জামানকে রাখা হয়েছে রাগবি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে। পুনরায় দায়িত্ব পেয়েই উঠতি এই ক্রীড়া সংগঠক দিলেন দারুণ এক সুসংবাদ। আগামী বছরের শুরুতেই ঢাকায় বসতে যাচ্ছে কাসা (সেন্ট্রাল অ্যান্ড সাউথ এশিয়ান) রাগবি টুর্নামেন্ট। ফেডারেশন সেক্রেটারির মতে, ‘এটাকে বলতে পারেন বিশ^কাপের মতোই। ১১টি দেশ খেলবে এই আসরে। এতগুলো দেশের অংশগ্রহণ মানে বিশাল কিছু।’
বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী রাগবি দলের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যস্ততা শুরু হচ্ছে নভেম্বর থেকেই। ওই মাসে বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী দল চাইনিজ তাইপে যাবে। সেখানে ১১টি দেশ অংশ নেবে রাগবি সেভেন টুর্নামেন্টে। এরপর ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পুরুষ দলের নেপাল যাওয়ার কথা। নেপালই আমন্ত্রণ জানাবে লাল-সবুজদের। ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় রাগবির মহাযজ্ঞ। ১১ দেশের অংশগ্রহণে কাসা রাগবি টুর্নামেন্ট। এটি পুরুষদের টুর্নামেন্ট। আখতারুজ্জামান জানান, ‘এই আসরে শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, ওমান, কাজাখস্তান, নেপালসহ অন্য দেশগুলো অংশ নেবে।’ তবে টুর্নামেন্টের ভেন্যু এখনো ঠিক হয়নি।
এই ১১ দলের টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ দলের এসএ গেমসের প্রস্তুতিকে পোক্ত করবে। মার্চে পাকিস্তানে হওয়ার কথা এস এ গেমস। এই প্রথম এস এ গেমসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রাগবি। বাংলাদেশ পুরুষ দল এতে অংশ নেবে। আর বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য প্রথম আসরেই পদক জয় করা। ফেডারেশন সেক্রেটারি জানান, আমরা অবশ্যই এস এ গেমস থেকে পদক নিয়ে আসব।
বাংলাদেশে রাগবি খেলার কার্যক্রম এই শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ২০০৬ সালে। রাগবিতে লাল-সবুজদের বড় সাফল্য বলতে ২০১৯ সালে কাতারের মাঠে এশিয়ান রাগবি সেভেন এ ব্রুনাই ও লাওসকে হারিয়ে বল গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এ ছাড়া এশিয়ান রাগবির অন্য টুর্নামেন্টগুলোতে ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, সিরিয়া ও সৌদি আরবের বিপক্ষে জয় আছে। ২০২৪ সালে নেপালের মাঠে সৌদি আরবের বিপক্ষে জয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সব ভিনদেশীদের নিয়ে দল গড়েছিল সৌদি আরব। জানান, ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহসভাপতি মৌসুম আলী।
এখন কাসা টুর্নামেন্টে ভালো করা এবং এসএ গেমসে পদক জেতার জন্য বিদেশী কোচ খুঁজছে ফেডারেশন। এ ক্ষেত্রে নজর শ্রীলঙ্কার দিকে। সার্ক অঞ্চলের এই দেশ বিশ^কাপে খেলছে। তাই তাদের দেশের কোচই আনার চেষ্টা হচ্ছে। এ ছাড়া ভারত ও জাপানের কোচও আছে বিবেচনায়। উল্লেখ্য, জাপান এশিয়ান রাগবির শীর্ষ দল। আন্তর্জাতিক আসরগুলোর প্রস্তুতির জন্য আগামী মাসেই শুরু হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প। সেখানে সর্বশেষ জাতীয় রাগবি থেকে সাত-আটজনকে নেয়া হবে। এরপর হবে প্রদর্শনী ম্যাচও, জানান আখতারুজ্জামান।
আন্তর্জাতিক খেলার পাশাপাশি ঘরোয়া রাগবির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে ফেডারেশন। এরই অংশ হিসেবে তৃণমূল রাগবির উন্নয়নে লাইজু কিডস রাগবি একাডেমির সাথে চুক্তি করেছে ফেডারেশন। কুড়িগ্রামে লাইজু ফুটবল একাডেমি আছে। সেখান থেকে কিছু খেলোয়াড় রাগবিও খেলবে। এ জন্য রাগবি ফেডারেশন লাইজু একাডেমিকে সব সহযোগিতাই দেবে। মৌসুম আলী জানান, এই খেলোয়াড়রা রাগবিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে বিশ^বিদ্যালয়ে যেমন ভর্তি হতে পারবে তেমনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে রাগবি খেলোয়াড় হিসেবে চাকরিও পেতে পারে।



