ছাত্রদলের দুই পক্ষে সংঘর্ষ

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ ঘোষণা : শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল শনিবার থেকে সাত দিনের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে সকল ক্লাস-পরীক্ষা সাত দিনের জন্য স্থগিত এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনার পর ভোর রাতে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রশাসন। এই ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বাঘমারা ছাত্র হোস্টেলে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো: মুয়াজ একই বর্ষের মীর হামিদুরের এক সহযোগীকে দিয়ে মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংগ্রহ করে। এতে হামিদুর ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগিকে দিয়ে কেন জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে এ নিয়ে মুয়াজের সাথে বাগি¦তণ্ডার থেকে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে হামিদুরের সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে হামিদুর চা খেতে বাইরে বের হলে তার মাথায় স্টিলের পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে ছাত্রাবাস এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত মুয়াজকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে এবং হামিদুরকে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজমান ছিল। পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে ছাত্রাবাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সূত্রমতে, মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং হামিদুর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের সমর্থক।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: নাজমুল আলম খান জানান, ঘটনার পর রাত ৪টার দিকে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় আগামী সাত দিনের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সাথে সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার তদন্ত করতে এনাটমি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: সোহেলী জান্নাত সুলতানাকে সভাপতি, বায়োকেমিস্টি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ রফিকুল হককে সদস্যসচিব ও ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: শামীমুল মাসুদ আহমেদকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুবায়ের আহমেদ জানান, আহতদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শিবিরুল ইসলাম বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।” তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।