ক্বণন’র ৪ দশক পূর্তি

‘আবৃত্তি ও উচ্চারণ বিদ্যায় উস্তাদের তালিম নিতে হয়’

Printed Edition
চট্টগ্রামে ক্বণনের অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন নাসিম আহমেদ ও শায়লা আহমেদ :  নয়া দিগন্ত
চট্টগ্রামে ক্বণনের অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন নাসিম আহমেদ ও শায়লা আহমেদ : নয়া দিগন্ত

ক্বণন’র অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, আবৃত্তি আর উচ্চারণ গুরুমুখী বিদ্যা উস্তাদের তালিম নিতে হয়। আবৃত্তি জানতে হয়, উচ্চারণ শিখতে হয়। বই পড়ে প্রকৃত উচ্চারণ শৈলী রপ্ত করা যায় না।

গত শুক্রবার চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি অঙ্গনের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব এম এ মালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ, অধ্যাপক শায়লা আহমেদ, বিশিষ্ট নাট্যজন আহমদ নাসিমুল হুদা নওশাদ এবং আবৃত্তিশিল্পী মহিউদ্দিন তাহের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্বণন সভাপতি মোসতাক খন্দকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্বণন কার্যকরী পরিষদ সদস্য সৌভিক চৌধুরী ও শরীফ মাহমুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী শুভ্রা চক্রবর্তী। শুরুতেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করা হয়।

দু’দিনের আয়োজনের বিশেষ অতিথিরা বলেন, আবৃত্তিতে কবিতা প্রাণ পায়। আমরা অনেকেই কবিতা বুঝি না। কিন্তু আবৃত্তি শুনলে অন্য একটা অনুভূতি জন্মায়। কবিতার প্রতি আগ্রহী করে তোলে। এখানেই একজন আবৃত্তিশিল্পীর সার্থকতা। আবৃত্তিশিল্পী কেবল শব্দ উচ্চারণ করেন না, কণ্ঠ দিয়ে ছবি আঁকেন। ক্বণনের সাফল্য এখানে যে, ৪০ বছরের পথপরিক্রমায় তারা এ রকম বহু শিল্পী সৃষ্টি করতে পেরেছে।

দুই দিনব্যাপী এই ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে ছিল ৪০টি বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন, কেক কাটা, প্রীতি আড্ডা, আপ্যায়ন, আলোচনা পর্ব, একক ও বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশনা এবং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ।

আলোচনাপর্ব শেষে মোসতাক খন্দকারের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ’ছেলেটোর মাথায় বেজায় রাগ ছিল’ ও ‘জীবন দোলা দুলিয়ে দাও’ শিরোনামে দু’টি বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে ক্বণন সদস্যরা। এরপর একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন নাসিম আহমেদ, শায়লা আহমেদ, অরুণ ভদ্র, মোসতাক খন্দকার, রুম্মান মাহমুদ, সৌভিক চৌধুরী, তৃষা সেন সাহা, শরীফ মাহমুদ, প্রেমা চৌধুরী শুভ্রা চক্রবর্তী, সুস্মিতা চৌধুরী, ইব্রাহীম মাহমুদ, মুনয়িম আসরা, শাহ রাইয়ান আর রহমান, সাবিহা শশি, সৈয়দা এ্যানি, মেহজাবিন রুশনী, ওয়ারদাতুল জান্নাহ নওশিন, রেনেসাঁ আনসারী, সমৃদ্ধ ধর আর্দি, ফাবিহা উলফাত তাকিয়া, সিদরাতুল মুনতাহা। অনলাইন আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী রংপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আগত তাসনুভা নুহা তানজিন, জাবিয়া জান্নাত সৃষ্টি এবং চট্টগ্রামের প্রিয়ন্তি চৌধুরী আবৃত্তি একক আবৃত্তি পরিবেশন করে।

আবৃত্তি শেষে বিজয়ীদের হাতে সনদ, ক্রেস্ট, বই ও প্রাইজমানি তুলে দেন আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ, শায়লা আহমেদ ও শিল্পী আবদুল্লাহ আল মাসুদ। বিজ্ঞপ্তি।