চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
পানি নিষ্কাশনের জন্য খোঁড়া ১০ ফুট গভীর ড্রেনটি মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নিল মরণফাঁদে। ওপরের মাটির বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে ভেতরে কাজ করা তিন শ্রমিক চাপা পড়েন। দীর্ঘ ৪০ মিনিটের প্রাণপণ চেষ্টার পর উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি ২০ বছর বয়সী তরুণ শ্রমিক রাব্বি হোসেনকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অপর দুই শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদেমপুর ইউনিয়নের রংপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বি হোসেন (২০) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের সরিষাডাঙ্গা গ্রামের কাউসার আলীর ছেলে। আহত অন্য দুই শ্রমিক একই গ্রামের রাজন (১৯) ও তানজিল (১৭)। বর্তমানে তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রংপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বাড়িতে সকাল থেকেই পানি নিষ্কাশনের ড্রেন খননের কাজ করছিলেন তিন শ্রমিক। প্রায় ১০ ফুট গভীরে নেমে কাজ করার সময় বিকেলে হঠাৎ পাশের উঁচু মাটির টিলা বা দেয়াল ধসে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী আমেনা বেগম জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো মাটির স্তূপ ভেতরে থাকা শ্রমিকদের ওপর এসে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিমুল্লাহ বলেন, বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে ছুটে গিয়ে তারা দুই শ্রমিকের মাথা কোনোমতে মাটির ওপরে ভেসে থাকতে দেখেন। দ্রুত গ্রামের মানুষজন মাটি সরিয়ে রাজন ও তানজিলকে জীবিত উদ্ধার করলেও রাব্বি পুরোপুরি মাটির নিচে হারিয়ে যান। প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়রা মাটি কেটে রাব্বিকে নিথর অবস্থায় বের করে আনেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।



