কিশোরগঞ্জে নদীর এক তীর কেটে অন্য তীরে বাঁধ নির্মাণ

Printed Edition
নদীর এক তীরে বাঁধ নির্মাণ অপর তীরে বোমা মেশিন দিয়ে বালু খনন : নয়া দিগন্ত
নদীর এক তীরে বাঁধ নির্মাণ অপর তীরে বোমা মেশিন দিয়ে বালু খনন : নয়া দিগন্ত

মো. শাহজাহান সিরাজ কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের ধাইজান নদীতে ভাঙনরোধী বাঁধ নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন ঠেকাতে নির্মাণাধীন প্রটেকশন বাঁধে ব্যবহারের জন্য নদীর বিপরীত তীর থেকে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে সেই বালু দিয়েই জিও ব্যাগ ভর্তি করা হচ্ছে। এতে এক দিকে নদীর অন্য তীরে নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্য দিকে নির্মাণাধীন বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পর স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই-তিন বছর আগে বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি ময়দানপাড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন ধাইজান নদীর তীব্র ভাঙনে ঈদগাহ মাঠটি হুমকির মুখে পড়ে। পরে স্থানীয়দের আবেদনের পর নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিম এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জরুরি প্রকল্পের আওতায় ভাঙনরোধী বাঁধ নির্মাণের সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ১০০ মিটার প্রটেকশন বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কাজটি রংপুরের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, ভাঙনকবলিত স্থানের অদূরে নদীর ভেতরে বোমা মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিকরা মেশিন বন্ধ করে সেখান থেকে চলে যান। পরে দেখা যায়, উত্তোলিত বালু দিয়ে জিও ব্যাগভর্তি করে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন, আবদুল আজিজ ও আবদার রহমান অভিযোগ করেন, ঠিকাদারের লোকজন ভোর ও সন্ধ্যায় নদী থেকে বালু তুলে জিও ব্যাগে ভরছেন। এতে নদীর তলদেশ গভীর হয়ে অপর তীরেও ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি খোকন মিয়া বলেন, কাজের নকশা বা প্রাক্কলন (স্টিমেট) দেখতে চাইলেও ঠিকাদারপক্ষ তা দেখায়নি। তাদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী বাইরে থেকে বালু এনে জিও ব্যাগ ভরাট করার কথা থাকলেও নদী থেকেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাব-ঠিকাদার জুগল চন্দ্র বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলব।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যসহকারী মাহাবুব মিয়া জানান, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য দিকে কাজের তদারকি কর্মকর্তা ও সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী প্রসেনজিৎ সরকার বলেন, প্রকল্পে ১০০ মিটার প্রটেকশন বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তবে নদী থেকে উত্তোলিত বালু ব্যবহারের বিষয়ে মন্তব্য করতে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান বলেন, ‘বোমা মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বাঁধ নির্মাণের কোনো বিধান নেই। বাঁধ নির্মাণে ব্যবহৃত বালু অন্য স্থান থেকে এনে ব্যবহার করার নিয়ম। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’