নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ভাইদের মধ্যে শহীদ আবু বকর রিফাত ছোটবেলা থেকেই দ্বীনি জ্ঞানের প্রতি যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন। তার মা-বাবারও স্বপ্ন ছিল পরিবারের ছোট ছেলে কুরআনের হাফেজ হবে। স্থানীয় একটি কওমি মাদরাসায় ভর্তি হয়ে রিফাত অল্প সময়েই ছয় পারা কুরআন মুখস্থ করে ফেলেন। কিন্তু পারিবারিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তার পুরো কুরআন হিফজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকার মাতুয়াইল ও কদমতলী এলাকার এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে রিফাতের আরো দুই ভাই ও এক বোন রয়েছে। বাবা মো: আওলাদ হোসেন একজন মুদি দোকানদার এবং মা বিউটি আক্তার একজন গৃহিণী। হিফজ শেষ করতে না পারায় রিফাতকে মোহাম্মদবাগ আদর্শ জুনিয়র স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়।
২০২০ সালে ঢাকা বোর্ডে জেএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন রিফাত। কিন্তু পরিবারের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে তার পড়াশোনার ইতি টানতে হয়। এরপর বঙ্গবাজারে একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হন রিফাত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট ২০২৪, দুপুরে স্বৈরাচার সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। হাসিনার পদত্যাগের পরপরই সারা দেশে ছাত্র-জনতা রাজপথে বের হয়ে এসে আনন্দ মিছিল বের করেন। রাজধানী ঢাকায় আন্দোলনের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থেকে সে দিন লাখো লাখো মুক্তিকামী মানুষ আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করে। মিছিল ঢাকার রায়েরবাগ এলাকা থেকে যাত্রাবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পুলিশ জনতাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অনেকেই ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে।
সেখানে শহীদ আবু বকরও ছিলেন। কয়েকটি বুলেট তার বুকে এসে লাগে। মুহূর্তেই ঝাঁঝরা হয়ে যায় তার শরীর। তার নিথর দেহ মাটিতে পড়ে থাকে। কেউ উদ্ধার করতেও আসতে পারে না। পরে পুলিশ কিছুটা শান্ত হলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মাতুয়াইলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রিফাতের চাচাতো ভাই জুনায়েদ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন আবু বকর। অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ হিসেবে এবং পরহেজগার যুবক হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। তার ছোট বোন মোছা: সামিয়া আক্তার দারুল উলুম মহিলা কওমি মাদরাসায় শরহে বেকায়া জামাতে অধ্যয়নরত।



