প্রযুক্তি ডেস্ক
শিশুদের স্মার্টফোনে আসক্তি বর্তমানে অভিভাবকদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সঠিক কৌশল জানা থাকলে সন্তানদের এ ডিজিটাল নেশা থেকে বের করে আনা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত বলেছে, মেটা ও গুগল ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে এমনভাবে তৈরি করেছে, যা আসক্তি তৈরি করে এবং এ বিষয়টি একজন তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে। বিশ্বের যেসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের ফোনের ব্যবহার কমাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের জন্য এর ব্যবহারিক সুবিধা খুব সামান্যই।
যে কোনো অভ্যাস পরিবর্তন করা সবসময়ই কঠিন। স্ক্রিন টাইম নিয়ে ঝগড়া বা তর্কের সময় কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, বরং শান্ত পরিবেশে পরিবর্তনের কথা বলতে পরামর্শ দিয়েছেন ড. গিলমোর। তার মতে, শান্ত মাথায় আলোচনা করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
স্ক্রিন টাইম কমানোর প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে বাড়িতে ডিভাইস এবং চার্জারগুলোও নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে পারেন। এতে ফোনের কাজ শেষ হলে সেগুলো চার্জে বসিয়ে রাখা যায় এবং তা সেখানেই থেকে যায়।
টিনএজারদের ওপর কেবল নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে বরং স্ক্রিন টাইম সংক্রান্ত আলোচনায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা বেশি কার্যকর। টিনএজারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। সন্তানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকতে হবে। কারণ সেটিই আমাদের একে অপরকে সহযোগিতা করতে ও দলগতভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে।
শিশুরা মা-বাবাকেই অনুকরণ করবে, সেটিই স্বাভাবিক। ফলে সন্তানদের মধ্যে ভালো স্ক্রিন হ্যাবিট বা ফোন ব্যবহারের সুঅভ্যাস গড়ে তুলতে হলে আগে নিজেদের আচরণের দিকে নজর দিতে হবে। সন্তানদের সঙ্গে কিছুটা বিনয়ী হয়ে এভাবে কথা বলা যেতে পারে, আসলে আমরা সবাই এই দোষে দুষ্ট। ফোনের সাথে আমার নিজের সম্পর্কটাও যতটা ভালো হওয়া উচিত ছিল, ততটা নেই।
সন্তান লালন-পালন করা কখনোই সহজ কাজ নয়, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন চারদিকে কেবল স্ক্রিন আর আমরা এখনও শিখছি যে এগুলো আমাদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে তখন চিন্তিত হওয়াটা স্বাভাবিক।
আশার খবর হলো শিশু ও টিনএজারদের মস্তিষ্কে নিউরোপ্লাস্টিসিটি নামের এক বৈশিষ্ট্য থাকে, অর্থাৎ বড়দের তুলনায় তাদের মস্তিষ্ক যে কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বা সেখান থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে অনেক বেশি সক্ষম।



