রায়গঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসক সঙ্কট ও অচল যন্ত্রপাতিতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

Printed Edition

সোহেল রানা রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)

প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। চিকিৎসক ও জনবলের তীব্র সঙ্কট, অচল যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহে অনিয়মের কারণে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম প্রায় স্তব্ধ হয়ে আছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে তিন শতাধিক রোগী এলেও তারা কাক্সিক্ষত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র নয় জন। নার্সের পদেও আছে একাধিক শূন্যপদ। অথচ প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত থাকে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। এ দিকে হাসপাতালে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষার পর সেবা না পেয়ে অনেকেই ফিরে চলে যান।

রোগী স্বপ্না খাতুন বলেন, ‘ওষুধের তালিকা অনেক, কিন্তু সরবরাহে ঘাটতি। বাইরে থেকে বেশি দামে ওষুধ কিনতে হয়।’

হাসপাতালের অচল যন্ত্রপাতির তালিকাও দীর্ঘ। ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাফি, ডেন্টাল চেয়ার- কয়েক বছর ধরে বিকল পড়ে আছে। প্যাথলজি বিভাগের হেমাটোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজারও অকেজো। ফলে রোগীদের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। চক্ষু বিভাগে যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও টেকনোলজিস্ট। দু’জন সিনিয়র নার্স অনলাইনে বগুড়ার চিকিৎসকের পরামর্শে সীমিত সেবা দিচ্ছেন।

আয়ুর্বেদিক বিভাগেও ওষুধ না থাকায় রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসাসেবা থেকে। হাসপাতালে খাবারের মান নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ভর্তি রোগী আলমাস হোসেন বলেন, খাবার ঠিকমতো দেয়া হয় না, ফলে বাইরে থেকেই কিনে খেতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আ ফ ম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘জনবল ও যন্ত্রসঙ্কটের বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ওষুধ আসে কেন্দ্রীয়ভাবে। খাবার নিয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ স্থানীয়রা দাবি করছেন, দ্রুত শূন্যপদ পূরণ, যন্ত্র সচল ও ওষুধের স্বচ্ছ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

শুধু সেবার মান নয়, সঙ্কট প্রকট হচ্ছে হাসপাতালের অবকাঠামোতেও। রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন নেই। প্রতি বছর কোটি টাকার ওষুধ বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ মানুষ তা পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় আস্থা হারিয়ে অনেকে চলে যাচ্ছেন ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসায়। রায়গঞ্জের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা। তা না হলে সঙ্কট আরো ঘনীভূত হবে।