ক্রীড়া ডেস্ক
কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতাই বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর তিনি বলেন, লড়াই করে জয় তুলে নেয়া যেন আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিরই অংশ।
কোয়ার্টার ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে জুলিয়ান আলভারেস ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা জানতাম আমাদের কষ্ট করতে হবে। এটা আমাদের রক্তে, আমাদের ডিএনএতে রয়েছে। এই বিশ্বাসই আমাদের মানসিক শক্তি জোগায়।’
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথ মোটেও সহজ ছিল না। হারতে হারতে জয়ের দেখা পাওয়া ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা শেষ ৩২-এর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। এর আগে কেপ ভার্দের বিপক্ষেও এগিয়ে থেকেও চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একই ধরনের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে স্কালোনির দলকে। সেমিতে তারা মুখোমুখি হচ্ছে তারুণ্যে ভরপুর তবে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ দল ইংল্যান্ডের। বিশ্লেষকদের মতে সেই ম্যাচেই হবে মেসিদের আসল পরীক্ষা। নিন্দুকদের মতে এখন পর্যন্ত তারা সমান ক্ষমতা সম্পন্ন কঠিন দলের মুখোমুখি হয়নি। যেমনটা সেমিতে আসা ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেনকে মোকাবেলা করতে হয়েছে।
স্কালোনির বিশ্বাস, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতাই এমন চাপের মুহূর্তে দলকে আরো পরিণত করেছে। তিনি বলেন, ‘কাতার বিশ্বকাপে আমরা এতটা অভিজ্ঞ ছিলাম না, আমিও ছিলাম না। তখন এসব পরিস্থিতি সামলানো কঠিন ছিল। এখন আমরা জানি প্রতিপক্ষের চাপে পড়লে কিভাবে শান্ত থাকতে হয়, সমতা ফেরানোর পর কিভাবে ম্যাচে ফিরে আসতে হয়। এই দল কখনোই হাল ছাড়ে না।’
সুইজারল্যান্ডের প্রশংসাও করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তার মতে, প্রতিপক্ষ পুরো ম্যাচজুড়ে দারুণ লড়াই করেছে এবং আর্জেন্টিনাকে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে দেয়নি।
‘ওরা খুবই শক্তিশালী দল ছিল। একের বিপক্ষে এক লড়াইয়ে আমাদের ভুগতে হয়েছে। টানা পাঁচ-ছয়টি পাসও ঠিকভাবে খেলতে পারিনি। ম্যাচটি আমাদের জন্য সত্যিই কঠিন ছিল’, বলেন স্কালোনি।
তবে এমন কঠিন ম্যাচেও বদলি খেলোয়াড়দের অবদানকে বড় করে দেখছেন তিনি। স্কালোনির ভাষায়, ‘আমাদের বেঞ্চেও এমন খেলোয়াড় আছে, যারা মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। এটিই আমাদের বড় শক্তি। শেষ পর্যন্ত আমরা সব সময় সমাধান খুঁজে পাই।’
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দলের ঐক্যের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন আর্জেন্টিনা কোচ। তিনি বলেন, ‘এই সাফল্যের কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তারা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমরা ব্যক্তিনির্ভর নই, আমরা একটি দল। সবাই একসাথে লড়াই করি এবং ঐক্যবদ্ধ থাকি। এই ম্যাচই প্রমাণ করেছে, ফুটবল কখনো সহজ নয়।’
মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারেরও প্রশংসা করেন স্কালোনি। লিওনেল মেসির কর্নার থেকে হেডে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। কোচ বলেন, ‘আলেক্সিস অসাধারণ খেলোয়াড়। সে কঠোর পরিশ্রম করে এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করছে।’
এই জয়ের মাধ্যমে টানা ছয়টি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এই অর্জনকে গর্বের বলে উল্লেখ করে স্কালোনি বলেন, ‘আমি আগে এভাবে ভাবিনি। তবে এটি অবশ্যই গর্ব করার মতো একটি অর্জন।’
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা আর্জেন্টিনার জন্য স্কালোনির বার্তা স্পষ্ট- বড় মঞ্চে সাফল্য পেতে হলে কষ্ট সহ্য করতেই হবে। তার কথায়, ‘সেমিফাইনালে উঠতে চাইলে কষ্টের মধ্য দিয়েই যেতে হবে। এটাই ফুটবলের বাস্তবতা।’



