শৈলকুপায় পেঁয়াজের দামে ধস, দিশেহারা কৃষক

Printed Edition

মফিজুল ইসলাম শৈলকুপা (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শৈলকুপার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮০৫ হেক্টর বেশি। উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সরেজমিনে লাঙ্গলবাঁধ, হাট ফাজিলপুর, শীতালে ভাটই ও শৈলকুপা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাজারে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ প্রতি মণ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং দেশীয় পেঁয়াজ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত সরবরাহ এবং ভারত থেকে আমদানির সম্ভাবনার গুজবের কারণে দাম কমেছে।

লাঙ্গলবাঁধ বাজারের আড়তদার হারাধন কুন্ডু জানান, নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি হওয়ায় বাজারে দাম কমেছে। এতে ক্রেতারা সুবিধা পেলেও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সামনে দাম আরো কমতে পারে।

ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলাম বলেন, বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমেছে। এতে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।

খুচরা ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জানান, পাইকারি বাজার থেকে ২০-২৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনে ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। এতে খুব সামান্য লাভ থাকছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

অন্য দিকে, কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তবে তারাও কৃষকদের ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

চরধলহরা গ্রামের কৃষক ইসলাম সাদ্দার বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম কম থাকায় আমরা লোকসানে পড়েছি। এই অবস্থা চলতে থাকলে অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান খান জানান, উৎপাদন বেশি হওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দাম কমেছে। তবে তিনি আশা করছেন, আগামী দিনে বাজার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। অন্যথায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।