দশমিনায় জাটকায় সয়লাব মাছ বাজার

Printed Edition
দশমিনায় একটি আড়তে বিক্রির জন্য স্তূপ করে রাখা জাটকা : নয়া দিগন্ত
দশমিনায় একটি আড়তে বিক্রির জন্য স্তূপ করে রাখা জাটকা : নয়া দিগন্ত

দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

দশমিনায় জাটকা ইলিশে সয়লাব মাছ বাজারগুলো। মৎস্য আড়ৎ ও হাটবাজারগুলোতে অভিযান জোরদার করার কথা থাকলেও এসবকে তোয়াক্কা করছেন না মৎস্য আড়তদাররা। তারা মৎস্য অধিদফতর ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে জাটকা আহরণ সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জাটকা ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে প্রকাশ্যেই।

পিকআপ ও ট্র্যাকসহ নানা মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে জাটকা নিধন বন্ধে মৎস্য অধিদফতর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা নেই। মাঝে মধ্যে দুয়েকটি অভিযান চালালেও তা পর্যাপ্ত নয়। অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য আড়তগুলোতে প্রকাশ্যে টনে টনে জাটকা বেচাকেনা হলেও সেখানে অভিযান চালানো হয় না। শুধু পরিবহনগুলোতে অভিযান চালানো হয়।

বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট এলাকার এক মৎস্য ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আড়তগুলোতে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি হচ্ছে। অথচ সেখানে অভিযান চালানো হয় না। জাটকা জাল অবাধে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে অভিযান নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব লোক দেখানো। মৎস্য ও নৌপুলিশ এসব দেখেও যথাযথ ভূমিকা নিতে পারছেন না। প্রশাসন বড় একটি গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকায় জাটকা নিধন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলে জানা গেছে।

তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ইলিশ ধরা, বিক্রি ও পরিবহন থামছেই না। মৎস্যজীবিদের অনেকেই জানিয়েছেন, দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর উপকূলেই নয় এ চিত্র। ভোলা ও বরগুনাসহ উপকূলের সর্বত্রই। মৎস্যজীবিরা সরকারের নিষেধাজ্ঞার গুরু থেকেই জাটকা নিধনে একজোট হয়ে মাঠে নেমেছে। জাটকা নিধন বিষয় মৎস্যজীবিদের যুক্তি, তারা বয়া বন্ধ রাখলেও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের জেলেরা ধরে নিয়ে যাচ্ছে, যার কারণে দেশীয় ছেলেরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তবে মৎস্যজীবিদের এমন দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকজন মাঝে মধ্যে সড়কে অভিযান চালিয়ে জাটকা ইলিশ আটক করার খবর শোনা গেলেও জাটকা ধরার জাল বিক্রি বন্ধে কোনো অভিযান দেখা যায়নি। দোকানগুলোতে অবাধে জাটকা ধরার জাল বিক্রি করা হচ্ছে। পটুয়াখালীর দশমিনায় সরেজমিন দেখা গেছে, তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর উপকূলে মৎস্য আড়তগুলোতে জাটকা ইলিশের স্তূপ রয়েছে। দেখা মিলছে না বড় ইলিশের। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বেশি জাটকা আড়ৎ ও হাটবাজারে বেচাকেনা হচ্ছে।

সরকারি বিধান অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২৫ সেন্টিমিটারের উমিটারের কম দৈর্ঘ্যরে ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ-২০-২৫ অনুযায়ী এ অপরাধে দুই বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এসব আইনি কঠোরতা ও প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আড়তকর্মী জানান, প্রশাসন মাঝে মাধ্যে অভিযান চালায়। কিন্তু জাটকা ক্রয়-বিক্রয় কখনোই পুরোপুরি বন্ধ থাকে না।

জেলেদের দাবি, নদীতে বড় ইলিশের সঙ্কটে। বিকল্প জীবিকা না থাকায় তারা হয়েই জাটকা শিকার করেন। তারা আরো বলেন, ইলিশ বড় হওয়ার আগেই ছোট ফাঁসের জাল নিয়ে ধরে ফেলা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি এভাবে জাটকা নিধন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় ইলিশের আকাল দেখা দিবে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতিজা হাসান জানান, আড়ত, ট্রলার ঘাট ও বাজার ঘুরে দেখে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।