বরগুনা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্যে দূষিত পায়রা-বিষখালী নদী

Printed Edition
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্যে উপকূলীয় নদী ও পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে : নয়া দিগন্ত
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্যে উপকূলীয় নদী ও পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

গোলাম কিবরিয়া বরগুনা

বরগুনার তালতলীতে চায়না রিসোর্স নির্মিত ৩০৭ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি চালু হয়। প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পে দেশীয় প্রতিষ্ঠান আইসোটেকেরও ৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। প্রকল্পটি শুরুতে আশার আলো জাগালেও বর্তমানে এটি স্থানীয়দের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, টেংরাগিরী বনের মাত্র তিন কিলোমিটারের মধ্যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করায় বনজ গাছ, পশুপাখি, মাছসহ জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, গরম পানি ও কয়লা পোড়ানোর ছাই মাটি, বাতাস ও পানিকে দূষিত করছে। এতে স্থানীয় পরিবেশের পাশাপাশি ফাতরার বন, টেংরাগিরী ইকোপার্ক, শুভসন্ধ্যা সৈকত ও হরিণঘাটা বনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন শুরু হওয়ার পর, এখানকার প্রতিটি ধূলিকণায় যেন এক ভয়ঙ্কর অভিশাপের ছায়া পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা ও বিষখালী নদীতে মিশে পানিকে দূষিত করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকল্প চালুর পর থেকেই এখানে ধূলিকণার সাথে বিষাক্ততা ছড়িয়ে পড়েছে। তালতলী সমন্বয়ক আরিফুর রহমান বলেন, আমরা বারবার প্রতিবাদ জানিয়েছি, কিন্তু প্রশাসন আমাদের কথা শোনেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে শুভসন্ধ্যা সৈকতের অর্ধেকটাই সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে হাঁপানি ও চর্মরোগীর রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। স্থানীয় এক অভিভাবক ইদ্রিস মিয়া বলেন, ধোঁয়ার কারণে আমার ছোট্ট মেয়েটি শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে ভুগছে। বিদ্যুৎ পেলাম, কিন্তু আমার মেয়ে কিভাবে বাঁচবে?

শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের মীর আলী বলেন, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে নির্গত অ্যালুমিনিয়াম, মিথেন, সালফার-ডাই-অক্সাইডসহ ভারী ধাতু নদী ও সাগরের পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এর প্রভাবে ইলিশসহ জলজ সম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বলেন, কয়লার ক্ষতিকর পদার্থ পলিসাইক্লিক হাইড্রোকার্বন ও বেনজো পাইরিন ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। এ ছাড়া কার্বন, সালফার, ফসফরাস ও থোরিয়ামসহ বিভিন্ন গ্যাস পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা বায়ু, মাটি ও পানি দূষণের পাশাপাশি মানুষের জীবন ও জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।