আরিয়াসের গোলে ঘানার বিদায়

কলম্বিয়া ১ : ০ ঘানা

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

জন আরিয়াসের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলে ঘানাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। কানসাস সিটির তীব্র গরমে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখানো নেস্তর লরেঞ্জোর দল গোলের ব্যবধান আরো বড় করতে পারত। তবে একাধিক সুযোগ নষ্ট হলেও জয়ের জন্য একটি গোলই যথেষ্ট হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুারে শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া।

ম্যাচের শুরুতেই দুই দলই ধাক্কা খায়। অষ্টম মিনিটে কুঁচকির চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড জন কর্দোবা। তার পরিবর্তে নামেন লুইস সুয়ারেজ। অন্য দিকে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ঘানার ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার মারভিন সেনায়াকে তুলে নিতে হয়, তার জায়গায় নামেন আলিদু সেইদু।

১৪তম মিনিটেই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। ডান প্রান্ত দিয়ে দারুণ গতিতে উঠে নিখুঁত ক্রস বাড়ান বদলি হিসেবে নামা সুয়ারেজ। ফাঁকায় থাকা জন আরিয়াস দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে কলম্বিয়াকে এগিয়ে দেন। ঘানার রক্ষণভাগ বিশেষ করে সেইদু আরিয়াসকে নজরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় সহজেই গোলটি আদায় করে নেন এই মিডফিল্ডার।

গোল হজমের পর কিছুটা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও পুরো ম্যাচে ঘানার আক্রমণ ছিল নিষ্প্রভ। প্রথম মিনিটেই টমাস পার্টির দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। সেটিই ছিল তাদের অন্যতম সেরা সুযোগ। পুরো ম্যাচে ঘানা গোলমুখে একটি শটও রাখতে পারেনি। শুধু এ ম্যাচেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টে চার ম্যাচ মিলিয়ে তাদের অন টার্গেট শট ছিল মাত্র চারটি, যা বড় মঞ্চে তাদের আক্রমণভাগের দুর্বলতারই প্রমাণ।

অন্য দিকে কলম্বিয়া একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হয়। লুইস দিয়াজ প্রথমার্ধে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। অতিরিক্ত সময়ে ড্যানিয়েল মুনিয়োসের ক্রস থেকে জোহান মোহিকার হেড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগি।

দ্বিতীয়ার্ধে কলম্বিয়ার আধিপত্য আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিরতির পর অধিনায়ক জেমস রদ্রিগেসকে বিশ্রাম দিয়ে নামানো হয় রিচার্ড রিওসকে। গুস্তাভো পুয়ের্তার শট দারুণভাবে রুখে দেন আতি-জিগি। পরে লুইস দিয়াজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। একক প্রচেষ্টায় গোলের সামনে পৌঁছেও আতি-জিগির বাধায় সফল হতে পারেননি দিয়াজ। শেষ দিকে হুয়ান ফের্নান্দো কুইন্তেরো, দিয়াস এবং দাভিনসন সানচেসও গোলের খুব কাছে গিয়েও সফল হননি।

ঘানার হয়ে শেষ দিকে পার্টি দূরপাল্লার আরেকটি শটে সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছিলেন, তবে সেটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ নেয়ার মতো কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

এই জয়ের মাধ্যমে টানা তিন ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখল কলম্বিয়া। নিজেদের শেষ সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে ৯০ মিনিটের মধ্যে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও গড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের সাথে গোলশূন্য ড্র করেও ২৪টি শট নেয়ার পর এবারো তারা ২০টি শট নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতা নকআউট পর্বে তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

অন্য দিকে ঘানার জন্য এটি ছিল হতাশাজনক বিদায়। পুরো ম্যাচে কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে না পারা এবং চার ম্যাচে মাত্র চারটি অন টার্গেট শট তাদের আক্রমণভাগের সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রিমিয়ার লিগে উজ্জ্বল মৌসুম কাটানো আন্তোয়ান সেমেনিওও পুরো টুর্নামেন্টে একবারও গোলমুখে কার্যকর শট নিতে পারেননি।

এখন কলম্বিয়ার সামনে অপেক্ষা করছে সুইজারল্যান্ডের কঠিন পরীক্ষা। সেই বাধা পেরোতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অথবা মিসরের বিপক্ষে সম্ভাব্য মহারণের মঞ্চ প্রস্তুত হবে।