আলজাজিরা
ইরানের সাথে আলোচনা চলছে- যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি তেহরান প্রত্যাখ্যান করার পর মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাত বন্ধের সম্ভাবনা ক্রমেই ফিকে হয়ে আসায় তেলের দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ফিউচার্স ফর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২% বেড়ে ব্যারেল-প্রতি ১০৪ ডলারে পৌঁছেছে।
যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ট্রাম্প ইরানের কাছে ১৫ দফাবিশিষ্ট একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বুধবার তেলের দাম খানিকটা কমতে দেখা গিয়েছিল। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি পাওয়ার কথা জানিয়ে তেহরান বলেছে, নিজেদের শর্ত পূরণ হওয়ার পরই যুদ্ধ থামাবে তারা। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা চলছে না বলেও নিশ্চিত করেছে তারা। যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাল্টা পাঁচ শর্তের খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে।
দুই পক্ষের প্রস্তাব ও শর্তে যে ‘স্পষ্ট বৈপরীত্য’ দেখা যাচ্ছে, তাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সহসা সঙ্ঘাত থামবে বলে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন না। এ কারণে বৃহস্পতিবার শুরুতেই এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫, দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি এবং হংকংয়ের হাং সেং সূচক সবগুলোই ছিল পড়তি।
বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের সরাসরি কোনো কথা হয়নি এবং ‘এখন আলোচনার কোনো আগ্রহও নেই’। একই দিন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট ইরানকে দেয়া নতুন হুমকিতে বলেছেন, তেহরান যদি সামরিক পরাজয় মেনে না নেয়, তাহলে তাদের ওপর আরো ‘কঠোর আঘাত’ হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে রাখায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি স্থাপনায় হওয়া হামলার কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানির দাম বাড়তে দেখা যায়।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের দাম এরই মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে; বাধ্য হয়ে অনেক দেশকেই জ্বালানিতে রেশনিংসহ নানান বিধিনিষেধ আরোপ করতে হচ্ছে। বাজার-পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সাথে সমন্বয় করে অনেক দেশ তাদের জরুরি মজুদ বাজারে ছাড়লেও হরমুজ দিয়ে আগের মতো অবাধে জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত তেলের দামবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। বিশ্বের তেল-গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সঙ্কীর্ণ জলপথ দিয়ে যায়।
‘শত্রু ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্টরা’ ছাড়া বাকি সবার নৌযানের জন্য হরমুজ খোলা, তেহরান বারবার এ কথা বললেও প্রণালীটির মধ্য দিয়ে নৌচলাচল কার্যত স্থবির হয়ে আছে। মঙ্গলবার ওই জলপথ দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ পার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে, অথচ সঙ্ঘাত শুরুর আগে গড়ে ১২০টি নৌযান প্রতিদিন এই প্রণালীটি পার হতো, বলছে সামুদ্রিক যান চলাচলসংক্রান্ত খবরাখবর রাখা প্রতিষ্ঠান উইন্ডওয়ার্ড।



