বিশেষ সংবাদদাতা
সরকারের ঋণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে দুই লাখ ৫৪ হাজার ৯২ কোটি টাকা। ফলে গত বছরের (২০২৫) সেপ্টেম্বরে দেশী-বিদেশী সরকারি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। এক বছর আগে ২০২৪ সালে সেপ্টেম্বরে যা ছিল আঠারো লাখ ৯৪ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা।
গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
অর্থ বিভাগের হিসাব মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বা ২০২৫ সালের জুন শেষে সরকারের মোট পুঞ্জীভূত (অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী) ঋণ স্থিতি ছিল ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫)-এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের মোট ঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ১০ কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের হিসাব মতে, সরকারের মোট পুঞ্জীভূত ঋণের ৫৬ শতাংশ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ এবং অবশিষ্ট ৪৪ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ। অন্য দিকে অভ্যন্তরীণ ঋণের ৬৫ শতাংশ নেয়া হয়েছে ব্যাংক খাত থেকে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ২৮ শতাংশ এবং জিপিএফ তহবিল থেকে ৭ শতাংশ ঋণ নেয়া হয়েছে।
ঋণের জন্য ব্যাংকিংখাতই সরকারের ভরসা : সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের গৃহীত ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের গৃহীত ঋণের পুঞ্জীভূত স্থিতি ছিল মোট ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫) এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে তিন মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের গৃহীত ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা।
সরকারের পুঞ্জীভূত ব্যাংক ঋণের মধ্যে ট্রেজারি বন্ড ও স্পেশাল ট্রেজারি বন্ড থেকে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা, ট্রেজারি বিল থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২২ কোটি টাকা ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৭ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ও ‘সুকুক’ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়েছে।
ব্যাংক বহির্ভূত খাতে ঋণ কমেছে : অন্য দিকে ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে গৃহীত পুঞ্জীভূত ঋণ স্থিতি সামান্য কমেছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। আর গত সেপ্টেম্বর শেষে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এ খাতে পুঞ্জীভূত ঋণ কমেছে ৪৯৮ কোটি টাকা।
তবে ব্যাংক বহির্ভূত খাতে সরকারের ঋণ স্থিতি কমলেও গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সঞ্চয়পত্র খাতে পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে এ খাতে পুঞ্জীভূত ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ২২ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এ খাতে সরকারের ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের মতে, সরকারের ঋণ বাড়লেও এটি এখনো ঝুঁকিসীমার নিচে রয়েছে। বৈদেশিক ও সামগ্রিক ঋণ ঝুঁকির েেত্র ‘নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থানে রয়েছে। তবে ঋণ-জিডিপি অনুপাত এখনো সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বৈদেশিক ঋণ-রফতানি অনুপাত ১৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং রফতানির তুলনায় এর মূলধন ও সুদ পরিশোধের চাপ আগামী দিনে বৈদেশিক ঋণের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।



