২০২৫ সালের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে নিশ্চত হওয়া গেছে যে, ভারত তাজিকিস্তানের আইনি বিমানঘাঁটি থেকে সরে এসেছে। ফলে মধ্য এশিয়ায় দুই দশকের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এটি হলো ভারতকে বহিষ্কার করা। তবে প্রকৃত বাস্তবতা আরো সূ²। ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া, রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব এর অন্যতম কারণ। সোভিয়েত যুগের ওই বিমানবন্দরের উন্নয়নে ভারত ৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। আইনিতে ভারতের উপস্থিতি ও সামরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০০ সাল-পরবর্তী দশকের গোড়ার দিকে।
সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় অটল বিহারি বাজপেয়ি এবং মনমোহন সিং এখানে বিপুল বিনিয়োগ করতে দ্বিধা করেননি। ভারতীয় সমালোচকরা বলেছেন, ভারত এখানে রানওয়ে মেরামত, হেলিপ্যাড নির্মাণ এবং মিলিটারি ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি তৈরিতে ভারত ২৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। ২০২১ সালে তালেবানের কাবুল দখলের পর ভারতের এই বেস ব্যবহার করে হাজারো নাগরিককে বিমানযোগে উদ্ধার করা হয়। ভারতের কাছে এ ঘাঁটির গুরুত্ব হলো, এটি কাশ্মির থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে, যেখানে ওয়াকান করিডোর রয়েছে। সেখান থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আফগান তাজিকিস্তান সীমান্তের কাছে আইনি সামরিক বিমানঘাঁটি। ফলে পাক অধিকৃত কাশ্মির, অন্যদিকে চীনের সীমান্তে নজরদারির দুর্দান্ত পয়েন্ট আইনি। কাবুলকে চোখে রাখা এবং মধ্য এশিয়ায় পাকিস্তানের প্রভাবের ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ সহায়ক এই ঘাঁটি। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় এলে এ ঘাঁটিতে ভারতের অপারেশনাল মূল্য দ্রুত কমতে শুরু করে।
এ দিকে ভারতের আইনি ব্যবহার সম্পর্কিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হলে সেটি আর নবায়ন করা হয়নি। যদিও ভারত আরো বেশ কয়েক বছর ধরে ন্যূনতম উপস্থিতি বজায় রেখেছিল, তাজিক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে ঘাঁটিটি খালি করতে ভারতকে অনুরোধ জানায়।
ভারতের সরকারবিরোধী সমালোচকদের মতে, এই মুহূর্তে শুধু মোদির বিদেশনীতির ব্যর্থতায় কোটি কোটি টাকা পানিতে ফেলা হয়েছে। বিদেশে ভারতের সম্মান খাটো হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে ভারতের পাসপোর্টের মানও কমেছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, চার বছর আগে ভারতকে ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের খুব স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছিল। মোদি সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এটি অবশ্যই ভারতের কৌশলগত কূটনীতিতে বড় ধাক্কা। কূটনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, বিদেশে ভারতের প্রভাব যে কমছে; এই এয়ারবেস হাতছাড়া হওয়া তার হাতেনাতে প্রমাণ। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। যদিও এর পেছনে বেশি কাজ করেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি।
ক্রমবর্ধমান পরাশক্তির প্রতিযোগিতার এ সময়ে মধ্য এশিয়া থেকে কৌশলগত পশ্চাদপসারণ শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, এর পেছনে রয়েছে রাশিয়াকে আরো বড় করার পদক্ষেপ। দুশানবের সাথে মস্কো সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক গভীর করা এবং তাজিকিস্তানে বাইরের সামরিক পদচিহ্ন সীমিত করার চাপের মুখে ভারতের অবস্থান ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ওখানে আবার রয়েছে চীন। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে তার সুরক্ষা প্রসারিত করতে ভারতের ঘাঁটি ধরে রাখতে টেকসই অর্থনৈতিক বা সামরিক সুবিধার অভাব দারুণভাবে পরিলক্ষিত হয়; যার ফলে আইনি থেকে ভারত ছিটকে পড়ে।
এটি ভারতে অভ্যন্তরীণভাবে, নানাবিধ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেস এটিকে ‘কৌশলগত কূটনীতির ধাক্কা’ বলে অভিহিত করে সতর্ক করে দিয়েছে যে, এটি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে চীন ও পাকিস্তানকে সুবিধা দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানে কৌশলগত কার্ড খেলতে ব্যর্থ হয়েছে।
ফাঁস হওয়া নির্দেশনা ও অফিশিয়াল বিবৃতিতে ভারতের ওপর তাজিকিস্তানের চাপ সৃষ্টির প্রমাণ পাওয়া যায় না। আঞ্চলিক গতিশীলতা, সময় এবং কৌশলগত আচরণকে সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, মস্কোর প্রভাব একটি নির্ণায়ক কারণ ছিল। একই সাথে বেইজিং পরোক্ষ কিন্তু শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে মধ্য এশিয়াকে নিজের একচেটিয়া প্রভাব বলয় হিসাবে বিবেচনা করে কূটনীতি ও সমরনীতি পরিচালনা করে আসছে, যা কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (সিএসটিও) মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত। এ ছাড়া তাজিকিস্তান, কিরঘিজস্তান এবং আর্মেনিয়ায় সামরিক ঘাঁটি বিষয়টি আরো শক্তিশালী করেছে। আইনিতে ভারতের উপস্থিতি এ পরাশক্তির সাথে সরাসরি কোনো সঙ্ঘাত সৃষ্টি করেনি। তবে ২০০০ সালের গোড়ার দিকে মার্কিন সমর্থন পাওয়ায় বৃহৎ শক্তিদ্বয় ভালোভাবে নেয়নি। বলা যায়, এখান থেকে ট্র্যাজেডির শুরু।
২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহার হলে, রাশিয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় প্রতিষ্ঠায় আগ্রাসী হয়ে ওঠে। একাধিক বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন ইঙ্গিত দেয় যে, রুশ কর্মকর্তারা মধ্যএশিয়ায় অ-আঞ্চলিক সামরিক পদচিহ্ন নিয়ে বারবার অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন, বিশেষত পশ্চিমা-জোটের সাথে যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষভাবে ভারত। যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর অংশ নয়।
নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় তাজিকিস্তান রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাজিকিস্তানে রাশিয়ার সাত হাজারের বেশি সৈন্য আছে। হাজার হাজার তাজিক শ্রমিক রাশিয়ায় কাজ করেন, যারা প্রচুর রেমিট্যান্স পাঠান। তা ছাড়া বিভিন্ন আঞ্চলিক ফোরামে রাশিয়া তাজিকিস্তানকে রাজনৈতিক সমর্থন দেয়।
রাশিয়ার মতো চীন অন্য শক্তিকে অপসারণের দাবি করে না; পরিবর্তে, এটি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তায় তার কৌশল প্রসারিত করে। চীন তাজিকিস্তানের বৃহত্তম ঋণদাতা এবং অবকাঠামোতে প্রধান বিনিয়োগকারী। তাজিক সীমান্ত বাহিনীকে চীন প্রশিক্ষণ দেয়। এ ছাড়া আফগান সীমান্তের কাছে, বিশেষ করে ওয়াখান করিডোরে সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। বেইজিং বৃহত্তর পশ্চিমাবিরোধী জোটের অংশ হিসাবে মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তায় রাশিয়ার আধিপত্য সমর্থন করে। যদিও চীন স্পষ্টভাবে ভারতের বেরিয়ে যাওয়ার দাবি জানায়নি, তবে তাজিকিস্তানের সাথে তার গভীরতর নিরাপত্তা জোট ভারতের মতো জোটনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোর সাথে অংশীদারত্ব বজায় রাখাতে কম প্রেরণা যুগিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এ ইস্যুতে চীনের উত্থান রাশিয়ার চাপের পরিপূরক বলতে হবে।
রাশিয়া বা চীনের তুলনায় তাজিকিস্তানে ভারতের সহায়তা নগণ্য। নয়াদিল্লি মস্কোর সাথে বৈরিতা এড়িয়ে গেছে, বিশেষত ইউক্রেন সম্পর্কে তার ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপে। সুতরাং, যখন রাশিয়ার প্রত্যাশা এবং ভারতের উপযোগিতা হ্রাস পায়, তখন তাজিকিস্তান সিদ্ধান্ত নিতে সময় ক্ষেপণ করেনি। তাজিকিস্তান উভয় শক্তির ওপর নির্ভরশীল একটি ছোট রাষ্ট্র, শেষ পর্যন্ত বৈচিত্র্যের পরিবর্তে সমান্তরাল ধারা বেছে নেয়।
মধ্য এশিয়ার সাথে ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বাধ্যবাধকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থের মিশ্রণে সৃষ্ট। যার মূলে রয়েছে ভৌগোলিক অবস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পরাশক্তির প্রতিযোগিতা। যদিও পাকিস্তান ও হিমালয় স্থলবেষ্টিত এবং মধ্য এশিয়া থেকে পৃথক, ভারত এসব বাধা অতিক্রম করতে এবং ইউরেশিয়ান কেন্দ্রস্থলে নিজের অবস্থান সুরক্ষিত করতে ‘মধ্য এশিয়াকে সংযুক্তকরণ’ নীতি অনুসরণ করেছে।
তুর্কমেনিস্তানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে। ভারত টিএপিআই পাইপলাইনের (তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান-ভারত) প্রধান সমর্থক, যা ভারতকে বার্ষিক ৩৩ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করতে ডিজাইন করা হয়েছিল। আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতায় বিলম্বিত হলেও প্রকল্পটি প্রতীকী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। কাজাখস্তান একটি প্রধান তেল উৎপাদক এবং ওএনজিসি বিদেশের মতো ভারতীয় সংস্থাগুলো তার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করেছে। মধ্য এশিয়ার জ্বালানি ব্যবহারে অস্থিতিশীল সরবরাহের রুটের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমেছে এবং জ্বালানি কূটনীতি বৃদ্ধি পায়।
পাকিস্তানকে এড়াতে এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার সাথে সংযোগ স্থাপনে ভারত বিকল্প বাণিজ্য করিডোর খুঁজছে। আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর (আইএনএসটিসি)-ইরান, আজারবাইজান এবং রাশিয়ার মধ্য দিয়ে একটি মাল্টি-মোডাল রুট-ভারত এবং ইউরোপের মধ্যে শিপিংয়ের সময় ও ব্যয় ৩০-৪০ শতাংশ কমাতে পারে। মধ্যএশিয়ার দেশগুলো এই নেটওয়ার্কের মূল ব্যবহারকারী। ইরানের চাবাহার বন্দর, যেটি ভারতের সহায়তায় নির্মিত, আফগানিস্তান এবং মধ্যএশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসাবে তৈরি করা হয়েছে। চাবাহার থেকে আফগানিস্তানের হেরাত, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান পর্যন্ত রেল ও সড়ক যোগাযোগের পরিকল্পনা করছে ভারত। এ রুটগুলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) কৌশলগত বিকল্প হিসাবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন; যা মধ্যএশিয়াকে বেইজিংয়ের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে সহায়তা দেবে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে সেতু হিসাবে অবস্থান করার চেষ্টা করছে, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরকে (সিপিইসি) প্রবেশের পথ হিসাবে আদর্শ, তবে কাশ্মির অতিক্রমের সময় ভারত লালকার্ড প্রদর্শন করে। মধ্য এশিয়ার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে, ভারত চীন-পাকিস্তান অক্ষের প্রভাব সীমাবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে এবং ঋণ নির্ভরতার পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে একটি বিকল্প অংশীদারত্বের প্রস্তাব দিয়েছে। দীর্ঘ সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার এবং শরণার্থী প্রবাহে ঝুঁকিপূর্ণ। একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিশীল আফগানিস্তানে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। কারণ সেখানে বিশৃঙ্খলা সরাসরি মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলবে, এটি সম্প্রসারিত হয়ে ভারতের উত্তর প্রান্তকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। ভারত উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে, আফগান প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন করে আসছে। তাপি এবং চাবাহারভিত্তিক বাণিজ্য পথের মতো যোগাযোগ প্রকল্পগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে একটি স্থিতিশীল আফগানিস্তান দরকার ভারতের। মধ্য এশিয়ার প্রভাব ছাড়া ভারত তালেবান-পরবর্তী আঞ্চলিক গতিশীলতাকে কার্যকরভাবে রূপ দিতে পারবে না।
মধ্য এশিয়ার সাথে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং বহুপক্ষীয় সম্পর্ক বহুমেরু বিশ্বে ‘অগ্রণী শক্তি’ হিসেবে ভারতের দাবিকে আরো জোরদার করে। কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান এবং অন্যদের সাথে স্বাধীন সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে, ভারত দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও প্রভাব বিস্তারের সামর্থ্য দেখাতে চায়। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) মতো বহুপক্ষীয় ফোরামে দিল্লির অবস্থান অনেক শক্তিশালী; এখানে চীন, রাশিয়া এবং মধ্যএশিয়ার রাষ্ট্রগুলো রয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ দমন এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংস্কারের মতো বিষয়ে কূটনৈতিক সমর্থন অর্জন করেছে। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক সঙ্কীর্ণ অর্থে অর্থনৈতিক বা কৌশলগত না হলেও, বৌদ্ধ ঐতিহ্য, ফার্সি-প্রভাবিত ভাষা এবং সিল্ক রোড বরাবর ঐতিহাসিক বাণিজ্য-সভ্যতার যোগসূত্রগুলো সফট পাওয়ার এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলে; যা গভীর সহযোগিতা সহজতর করে।
এখন তাজিকিস্তানে ভারতের কোনো সামরিক উপস্থিতি নেই। মধ্যএশিয়ায় ভারতীয় বুটের যুগ শেষ হয়েছে- ধাক্কা দিয়ে নয়, বরং নীরব প্রত্যাহারের মাধ্যমে। ভারতকে ঘিরে ফেলতে একটা বড় পরিকল্পনা করেছে চীন এবং পাকিস্তান।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রভাবও কমছে; ভারতের গদি মিডিয়া এসব প্রকাশ না করলেও বিবিসি এসব খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে। মধ্যএশিয়ায় ভারতের স্বার্থ বহুমুখী এবং দীর্ঘস্থায়ী। শক্তি ও বাণিজ্য পথ সুরক্ষিত করা থেকে শুরু করে চীনের ভারসাম্য বজায় রাখা, আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল করা এবং বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিকতা জোরদার করা ভারতের লক্ষ্য। সাফল্য নির্ভর করবে দিল্লির কার্যকর যোগাযোগ, নির্ভরযোগ্য অংশীদারত্ব এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার



