ড. মো. খালেদ হোসেন, মুহাম্মাদ তালহা
৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়াকে কেউ কেউ বলছিলেন দ্বিতীয় স্বাধীনতা কিংবা বাংলাদেশ ২.০। আবার কেউ বলেছেন সেকেন্ড রিপাবলিক (ঝবপড়হফ জবঢ়ঁনষরপ), যা ফ্রান্স, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই। এখন প্রশ্ন হলো অভ্যুত্থানের সরকার কি সেই পথে হাঁটতে পেরেছে? যেখানে নতুন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ার শুরুতেই নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল শহীদের সুনির্দিষ্ট ডাটাবেজ তৈরি করা, যার মাধ্যমে ৭১ শহীদ সংখ্যার মতো এ নিয়ে ভবিষ্যৎ বিতর্কের কোনো অবকাশ না থাকে। পরবর্তীতে হাজার হাজার আহতের যথাযথ চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসনের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্টেকহোল্ডারদের কাছে রাষ্ট্রের পূর্ণ দায়বদ্ধতার প্রকাশ ঘটানো। একই সাথে রাষ্ট্রের ভিশন, নীতি ও কাঠামো মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আইন ও প্রশাসন সংস্কার করা। এরপর সেই সংস্কারগুলোর আইনগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করে গণপরিষদ বা গণভোটের মাধ্যমে নতুন নীতিমালা ও সংবিধান বা সনদ প্রণয়ন করা। এই নতুন সংবিধান বা সনদের আলোকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো, প্রশাসনব্যবস্থা এবং আইননীতির পুনর্গঠন করা। একই সাথে শুরু থেকে ফ্যাসিবাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীদের বিচার ও রিকনসিলিয়েশনের জন্য আলাদা কমিশন গঠন করা এবং দেশব্যাপী এর কর্মপ্রক্রিয়া বিস্তৃত করা। এর পরই নির্বাচন ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের পথ প্রশস্ত করার কাজ করা। কিন্তু বাস্তবতা কী? ৫ আগস্টের পর যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের তা হাতছাড়া হয়ে গেছে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই। যেখানে উচিত ছিল ফ্যাসিবাদের রক্ষাকবচ রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে নয়া রাষ্ট্র গঠনের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো। তা না করে সেনাবাহিনীর প্রধান, ছাত্রনেতারা ও রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে একটি সরকার গঠন করল কিন্তু রেখে দেয়া হলো পুরাতন রাষ্ট্রপতি, পুরাতন সংবিধান। ফলে নতুন সরকারকে পুরাতন প্রেসিডেন্টের ও সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়ে নতুন রাষ্ট্র গড়ার লেজিটিমেসিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
এক বছর ধরে চেষ্টা করে মোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ করে রাষ্ট্রসংস্কারের মোট ৮৪টি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টসহ (ঘড়ঃব ড়ভ উবপবহঃ) একমত হতে পেরেছে। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বর্ধিতকরণের কিছু ধারা, তত্ত¡াবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি, উচ্চকক্ষের পিআর ও পূর্বে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর একই সাথে দলীয় প্রধান না থাকা এবং ন্যায়পাল নিয়োগসংক্রান্ত ধারাসহ আরো বেশ কিছু মৌলিক সংস্কার ধারায় নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপিসহ সমমনা কিছু দল। শিগগিরই এর ভিত্তিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে শুধু দলগুলোর অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করা এই নয়া সামাজিক চুক্তির (ঝড়পরধষ ঈড়হঃৎধপঃ) আইনি ভিত্তি নিয়ে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি সরকার, যা নতুন নির্বাচিত সরকারের আমলে এই সনদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। অধ্যাদেশ কিংবা সুপ্রিম কোর্টের দায়বদ্ধতা অথবা গণভোট, কোনো বিষয়ে সরকার এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। যা গণ-অভ্যুত্থানে রাস্তায় নেমে আসা কোটি কোটি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অনিশ্চিয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এরই মাঝে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গত চারবারের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর একটি ফ্রি ও ফেয়ার ইলেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভাগীয়, বিচারিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক সংস্কার আগামী ৬ মাসে সরকার কতটুকু করতে পারবে তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর সন্দেহ, যেহেতু তারা গত ১২ মাসেও দেশের কাঠামোর গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারেনি। সুতরাং এখন অনুসন্ধান করার সময় এসেছে কেন অনেক রক্তে কেনা রাষ্ট্র-সংস্কার প্রকল্প প্রায় ব্যর্থতার দ্বারপ্রান্তে?
১.
সরকার অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্র চালনায় যে দৃঢ়তা প্রয়োজন, সেটি অনেকাংশেই অনুপস্থিত ছিল। উপদেষ্টা পরিষদের হাতেগোনা কয়েকজন সদস্য ছাড়া অধিকাংশের সাথে গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন অথবা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাথে কোনোরূপ সংশ্লিষ্টতা না থাকায় তারা জনগণের বৈষম্যবিহীন বাংলাদেশ এবং মৌলিক মানবাধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিতের নবআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা রাষ্ট্র বিনির্মাণের যে চেতনা তাকে কোনোরূপেই ধারণ করতে পারেননি। বরং অনেকেই এটিকে ‘এনজিও সরকার’ বলে অভিহিত করছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকার সময়মাফিক পরিকল্পনা, অগ্রাধিকার তালিকা নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে পারেনি।
২
প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে সংস্কার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছার অভাব লক্ষ করা গেছে। গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে করা নানা কাটাছেঁড়া ও জনমানসের বিপরীতে ইতিহাস ও বয়ান অনুপ্রবেশ ঘটানোর প্রয়াসের ফলে শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েছে। এ ছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারসহ চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের প্রস্তুতি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাস্তবতাসহ যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে পড়েছিল। অথচ নানা পক্ষের দাবির পরেও সরকার শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করেনি। এ ছাড়া কুখ্যাত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে গঠিত হওয়া কমিশন নিয়েও সরকারের পক্ষ থেকে শুরুতে গড়িমসি লক্ষ করা গেছে। একই সাথে মানবতার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত পতিত সরকারের নানা ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকাণ্ডেও প্রশাসনের অসহযোগিতার কথা ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের মাধ্যমে নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। সর্বোপরি গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি কমিশনের রিপোর্ট বা প্রস্তাবনার ওপর জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাকি পাঁচটি কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো কী করে বাস্তবায়ন হবে তারও যথাযথ রূপরেখা দিতে পারেনি সরকার। অনেকটা পরবর্তী সরকারের দয়ার ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এসব প্রস্তাবনা।
৩
পতিত আওয়ামী লীগের সহযোগিতা, ষড়যন্ত্র ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সুযোগ সন্ধানী নানা গোষ্ঠীর কার্যক্রমের ফলে তৈরি হওয়া নতুন নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সরকারকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিচারালয় থেকে শুরু করে এনবিআর ও সচিবালয়ের বিদ্রোহ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, আনসার বিক্ষোভ, রিকশাচালক বিক্ষোভ, শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন, বিভিন্ন পেশাজীবী আন্দোলন বারবার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র নিয়ে বিএনপি-এনসিপি কোন্দল ও আন্দোলন, নিয়োগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ঠাণ্ডা লড়াই ও তদবির, সাধারণ ধর্মপ্রাণ জনতাকে উসকে দিয়ে মাজার ভাঙা, সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশের মিথ্যা ক্যাম্পেইন, দেশের সংখ্যালঘুদের প্রতিক্রিয়াশীলতা ও মুসলিম আইনজীবী খুন, জুলাইয়ের আহতদের নানা গ্রুপের রাজনৈতিক ব্যবহারে বিক্ষোভ, চাঁদাবাজির নতুন গ্রুপের উত্থান, নিষিদ্ধ ঘোষিত হিজবুত তাহরীরের আত্মপ্রকাশের চেষ্টা ও দলীয় অন্তর্কোন্দলে সত্তরোর্ধ্ব মানুষ নিহত হওয়াসহ এমন অসংখ্য ঘটনা মোকাবেলায় সরকার বিপুল সময় নষ্ট করেছে। এতে রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও সংস্কারের মূল কর্মসূচি পেছনে পড়ে গেছে।
৪
জনগণের সাথে প্রত্যক্ষ সংযোগের অভাব রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম বিপর্যস্ত করছে। সরকার বারবার শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বসেছে, অথচ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও জনমত যাচাইয়ের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সংস্কার কমিশনগুলো কেউ কেউ অনলাইনে, আবার কেউ কেউ সারা দেশে সফর করে ও কেউ রাজধানীর কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের মুক্ত মতামত নিলেও তাতে কতটা সাধারণ মানুষের স্বার্থ বা মতামত উঠে এসেছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ফলে সম্প্রতি ঘোষণা হওয়া জুলাই ঘোষণাপত্রে জনগণের চাহিদার প্রতিফলন না হয়ে কেবল বড় দু-একটি দলের স্বার্থরক্ষার দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ সরকার প্রথমে সংস্কারের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য জনমত যাচাই করে দেখতে পারত। এক দিকে জনমত জরিপ, এক্সপার্টদের মতামত, তারপর রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করলে তা একটি পদ্ধতিগত সুবিধা দিত সরকারকে। এখন যেমন সরকার ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অনেকটা অনুনয়-বিনয় করছে। তার পরেও বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো অনেক মৌলিক সংস্কারেই পৌঁছাতে পারেনি বরং অনেক ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে যাচ্ছে। সরকার কোনোভাবে এসব নিয়ে সরাসরি জনমত যাচাই করলে বরং সরকারই জনতার জরিপ সামনে রেখে দলগুলোকে বাধ্য করতে পারত মৌলিক সংস্কারে ঐকমত্য পোষণ করতে কিন্তু সরকারের সদিচ্ছা বা দৃঢ়তার অভাবে তা হয়নি।
৫
উপরের প্রক্রিয়া বলে দেয় গণ-অভ্যুত্থানের পরে নতুন করে রাজনীতিতে সুযোগ পাওয়া বড় রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যের চেষ্টার পাশাপাশি বসে সরকারকে সহযোগিতার মতো প্রশংসাযোগ্য কাজ করলেও দলগুলোর নিজস্ব দর্শন অথবা অন্তর্গত পদ্ধতিগত তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। যার ফলে দেখা যায় পেশিশক্তি দ্বারা পরিচালিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি তথা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা খুনোখুনির যে সংস্কৃতি সে ক্ষেত্রেও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। সরকার এক্ষেত্রে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর রাজনৈতিক দলগুলোতে যথাযথ সংস্কারে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে।
৬
কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া বিচার প্রক্রিয়ায় পুরনো ধাঁচের নামকাওয়াস্তে দেয়া নামি-বেনামি মামলার নতুন বোঝা সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরো ধূসর করেছে। গত ১৫ বছরের যে নিম্ন আদালত ও জেলা দায়রা জজের আদালত ফ্যাসিবাদের সহযোগী হয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীসহ লাখ লাখ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঢাল হয়েছিল, সেই বিচার বিভাগে কোনো সংস্কার ছাড়াই আওয়ামী লীগ ও এর সাথে নানা অপরাধে সংযুক্ত নেতাকর্মীদের বিচার শুরু হওয়া ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় হতে পারে। অন্য দিকে আইসিটি ট্রাইব্যুনালের বিচারে বিরোধী দলের নেতাদের হত্যা ও ফরমায়েশি রায়সহ ফ্যাসিবাদের সময়ে ঘটা বিভিন্ন বিচারের নামে করা প্রহসনগুলোকে পুনঃবিচারের উদ্যোগ নিতেও অবহেলা করছে সরকার। এ ছাড়া আইসিটি ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য বড় বড় নামগুলোর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে চার্জ গঠন শুরু হলেও ভবিষ্যতে দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। কেননা জুলাই সনদে বিচারের ব্যাপারে বলা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা দেয়া হয়নি। অন্য দিকে গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী সরকারের হাতে সংঘটিত হওয়া হাজারো অপরাধের বিচারে দু-একটি ট্রাইব্যুনাল কিংবা নিয়মিত বিচার বিভাগের কার্যক্রম কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। দেশব্যাপী কার্যক্রম বিস্তৃত নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করা না গেলে পরবর্তীতে বিভিন্ন দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাথে নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত কাঁদা ছোড়াছুড়ি চলতে থাকবে, যা দেখা যাচ্ছে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দলের কমিটি দেয়াকে কেন্দ্র করে।
তবে এতসব সমালোচনার পরও এখনো কিছুটা সময় আছে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার নয়া বাংলাদেশ গড়ার। আত্মসমালোচনার সাথে সাথে জনমানুষ ও সচেতন মহলের প্রস্তাবনাকে আমলে নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপই পারে ২৪-এর জুলাইয়ে জেগে ওঠা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে।
লেখকদ্বয় : সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড সিভিলাইজেশনাল স্টাডিজের যথাক্রমে অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর ও রিসার্চ ফেলো



