রাহুল গান্ধীর ভোটাধিকারযাত্রা অনেক হিসাব পাল্টে দেবে

ভোটাধিকার হরণ এবং নির্বাচনী জালিয়াতির বিপদ এখনো বড়ো আকারে রয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বন করার মাধ্যমেই কেবল বিহার এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারে।

রাহুল গান্ধি
রাহুল গান্ধি |সংগৃহীত

মোহাম্মদ সাদউদ্দিন

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। তবে আবহাওয়া কিছুটা বোঝা যায়, আঁচ করা যায়। সর্বভারতীয় কংগ্রেস সহসভাপতি ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের যে ভোটাধিকারযাত্রা বিহার থেকে শুরু হয়েছে তা অনেকটাই জনসমর্থন টানতে সমর্থ হচ্ছে। সেই ভোটাধিকারযাত্রার শেষ পরিণতি হলো বিহারের রাজধানী পাটনার গান্ধী ময়দানে রাহুলের নেতৃত্বে বিশাল সমাবেশ। সেখানে ইন্ডিয়া জোটের সব দলের সর্বভারতীয় নেতৃবৃন্দ জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। সমাবেশ যেন হয়ে উঠেছিল জনসমুদ্র। তারপরেও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভারতের প্রতিটি রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প করার ঘোষণা দেন। এর বিরুদ্ধেও সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া জোট আবার রাস্তায় নামবে। আর এরই মধ্যে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের যে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে তাতেও কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্ক পাল্টে দিতে পারে বিজেপিরই দু-একটা শরিক দল। দ্বিতীয়ত, পাটনায় এই ভোটাধিকারযাত্রায় যেভাবে বিজেপি আক্রমণ চালিয়েছে অথবা খোদ পশ্চিমবঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের অফিস বিধানভবনে যেভাবে বিজেপি দুষ্কৃতি রাকেশ সিং হামলা চালিয়েছে তা ভোটাধিকারযাত্রাকে জনপ্রিয় তো করেছেই, উপরন্তু বিজেপির এই হামলাকাণ্ডের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গসহ সারা ভারতে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বামপন্থী দলসহ ইন্ডিয়া জোটের একটাই কথা, বিজেপির মতো বর্বর দলের পক্ষে এমন দুষ্কর্ম অসম্ভব কিছুই নয়। যে দল দেশের সংবিধান, সংসদীয় গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, সুপ্রাচীন বহুত্ববাদী সংস্কৃতি কিছুই মানে না। তাদের পক্ষে সব দুষ্কর্মই সম্ভব। স্বাধীনতা আন্দোলনে যে দল ছিল ব্রিটিশদের পক্ষে তারাই নাকি দেশপ্রেমের ছবক দেয়। বহুৎ তাজ্জব কী বাত।

ইতিহাস ইতিহাসের পথ ধরেই চলে। আমাদের স্মরণ থাকতে পারে যে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতযাত্রা হয়েছিল। সেই ভারতযাত্রা বিজেপিবিরোধী কংগ্রেস নেত্বৃত্বাধীন একটা ইন্ডিয়া জোট তৈরিতে সমর্থ হয়েছিল। কাশ্মির থেকে কন্যাকুমারী ও গুজরাটের কচ্ছের রান থেকে অরুনাচল প্রদেশ পর্যন্ত এই ভারতযাত্রা সুদূরপ্রসারী হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদির ৪০০ আসনের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে; বরং ১০০ আসনে কংগ্রেসের ইন্ডিয়া জোট ৪৫ থেকে পাঁচ হাজার ব্যবধানে ভোটে হারে। তাও ভোট কারচুপির জন্য। যে অভিযোগ এখন রাহুল গান্ধী ভোটাধিকারযাত্রায় বারবার উত্থাপন করছেন। নইলে ইন্ডিয়া জোট ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩১৬ আসন পেত।

এখন এই বিজেপি সরকারের একমাত্র প্রাণভ্রমরা হলো নীতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড) ও দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত নেতা তেলেগুদেশমের এন চন্দ্রবাবু নাইডু। নীতীশ মোদির সাথে থাকলেও নাইডুর চোখ কিন্তু অন্য কথা বলছে। কেননা তার তো ভোটে জেতার ম্যাজিক ফিগার অনেকটাই মুসলিম ভোট। ওয়াকফ সংশোধনী আইন নীতীশ কুমারকে বিহারের মুসলিমদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। দলের মুসলিম নেতারা বেরিয়ে গিয়ে লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে পাপ্পু যাদবের সাথে মিশে গিয়েছে। সেই বিহার থেকেই পাপ্পু যাদবের আর জে ডি, বামপন্থী দলগুলো মিলে ভোটাধিকারযাত্রা দারুণভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিহারের ভোটাররা এসআইআরের যুপকাষ্ঠে পড়ে ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্কে রয়েছে। স্বাধীন ভারতে নাগরিকহীন বা ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্ক ভারতবাসীকে কখনোই পেয়ে বসেনি। আরেকটু ব্যাখ্যায় আসা যেতে পারে।

ভোটাধিকারযাত্রা এবং নির্বাচনী জালিয়াতি ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান লড়াই ২৫ জুন হঠাৎ করে ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধনী’ (এসআইআর) চালু হওয়ার পর থেকে, বিহারের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং অভিবাসী শ্রমিকরা ব্যাপক হারে ভোটাধিকার হারানোর বিপদের মুখে পড়ে। বিহারের মানুষ খুব দ্রুতই আসন্ন বিপদের আঁচ পেয়ে যায় এবং এই ভোটবন্দীর বিরুদ্ধে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে হাজারে হাজারে রাস্তায় নেমে আসে। আত্মম্ভরী নির্বাচন কমিশন, যারা এনুমারেশন ফর্মের সাথে নথিপত্র জমা করার শেষ তারিখ ধার্য করেছিল ২৫ জুলাই, তারা নথিপত্র জমার বিষয়টি নিয়ে ধীরে চলো কৌশল গ্রহণ করতে বাধ্য হয় এবং নথি জমা দেয়ার সময়সীমা আগস্ট মাসের শেষ তারিখ পর্যন্ত এক্সটেন্ড করে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার পর্যায়কে সহায়ক নথি জমা করার বাধ্যবাধকতা থেকে বিচ্ছিন্ন করলেও শেষ পর্যন্ত জানা গেল যে ৬৫ লাখ ফর্ম জমা পড়েনি এবং তাই খসড়া তালিকা থেকে সেসব নাম মুছে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যদি তাদের ঘোষিত সময়সূচি মেনেই চলত তাহলে আরো কত লাখ ভোটার যে নিজেদের নাম খসড়া তালিকা থেকে মুছে যেতে দেখত তা ঠাহর করা যায়।

বিহারে ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে লড়াই স্বাধীন মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার একাংশের উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেতে শুরু করেছে এবং বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল কেন্দ্রের মহাদেবপুরা বিধানসভা অংশে নির্বাচনী তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম উন্মোচন করে রাহুল গান্ধীর সংবাদ সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে, বিহারের ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই ‘ভোট চুরি’ বা নির্বাচনী জালিয়াতির প্রসঙ্গের সাথে যুক্ত হয়ে জাতীয় স্তরের প্রচারের রূপ নিয়েছে।

ইতোমধ্যে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে চলা মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হচ্ছে এবং সেই শুনানিতে এসআইআর-এর অসাংবিধানিক প্রকৃতি এবং এর বাস্তবায়নের পদ্ধতির অযৌক্তিকতার ফলে হওয়া মোটা দাগের ত্রুটিগুলো সম্পর্কে যেসব আইনি যুক্তি সামনে আসছে তা জনগণকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অন্তর্নিহিত ভোটাধিকার হরণের ছকটি বুঝতে সাহায্য করছে। বিশেষ করে, নির্বাচন কমিশনের গ্রাহ্য নথির তালিকায় দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাভাবিকভাবে থাকা পরিচয়পত্রগুলোর কোনোটিই না থাকার কারণে আধার কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে মান্যতা দেয়াতে সুপ্রিম কোর্টকে যে রকম জোরাজুরি করতে হলো তা ভোটাধিকার হরণ অভিযানের প্রকৃত নিশানা কারা তা উন্মোচিত করে দেয়।

যদিও সুপ্রিম কোর্ট এখন পর্যন্ত এই কার্যক্রমের শুধু ব্যবহারিক দিক নিয়েই বিচারবিবেচনা করেছে, তবু আদালতের তীক্ষè নজর এবং যৌক্তিকতা ও স্বচ্ছতার মৌলিক নীতিগুলো মেনে নিতে নির্বাচন কমিশনের একগুঁয়ে অনিচ্ছা এবং এমনকি অস্বীকার- এসবই জনগণকে ভোটাধিকার হরণের এই রূঢ় ও বাস্তব বিপদ সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করছে। এর সাথে যোগ হয়েছে এক দিকে ইন্ডিয়া জোট দ্বারা শুরু করা ‘ভোটার অধিকারযাত্রা’র অভ‚তপূর্ব গণ আলোড়ন, অন্য দিকে বিদেশী অনুপ্রবেশের ভুত দেখিয়ে এসআইআর-কে জাস্টিফাই করার বিজেপিশিবিরের মরিয়া প্রচেষ্টা। নির্বাচনী জালিয়াতির একের পর এক প্রমাণ সামনে আসা সত্তে¡ও নির্বাচন কমিশনের কোনোরকম পদক্ষেপ নিতে অস্বীকার করা এবং আইন পরিবর্তন করে ও সমালোচকদের দায়ী করে যেকোনো পর্যালোচনা এড়ানো ও দমনের চেষ্টা- এসব থেকে আমরা বিহারে মোদি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আঁতাতের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী গণজাগরণের আশাপ্রদ উত্থান দেখতে পাচ্ছি।

এসআইআর কার্যক্রম দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে নির্বাচন কমিশন ভোটদাতার ওপরই দায় চাপিয়ে দিয়ে নির্ভুল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটার তালিকা নিশ্চিত করার নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে সরে আসছে এবং এখন যখন নানান গরমিল ও ভুলভ্রান্তি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে, তখন নির্বাচন কমিশন সেই ভুলগুলোকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে এবং সংশোধনের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের বুথ-স্তরের এজেন্ট (বিএলএ)-দের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। দাবি ও আপত্তি চলাকালীন নির্বাচন কমিশন দ্বারা জারি করা দৈনিক আপডেটগুলো প্রকটভাবে এই ‘সত্যটি’ দেখিয়ে দিয়েছে যে, বিহারের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর বিএলএদের দ্বারা কোনো অভিযোগই জমা হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন আমাদের যে কথাটা বলছে না তা হলো, এই গোঁ ধরে বসে থাকা নির্বাচন কমিশনকে সুস্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করতে বাধ্য করার জন্য সুপ্রিম কোর্টকে বিশেষ নির্দেশ দিতে হয়েছিল, যাতে ভোটারদের মুছে ফেলা নামগুলোও তালিকায় থাকে; কিন্তু এই তালিকাটাও ১৮ আগস্টের আগে পাওয়া যায়নি। যে নির্বাচন কমিশন এসআইআর চালু করার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনোরকম পরামর্শ করেনি এবং ব্যাপক হারে নাম মুছেছে, সেই কমিশনই এখন রাজনৈতিক দল ও তাদের বিএলএদের বিরুদ্ধে উদাসীনতা এবং নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনছে!

নির্বাচন কমিশন ভোটাধিকার হরণ বিরোধী সংগ্রামকে কোনো বাস্তব প্রমাণ ছাড়া নিছক রাজনৈতিক বয়ান বলে প্রতিপন্ন করে বদনাম দেয়ার চেষ্টা করছে; কিন্তু সিপিআই (এমএল)-এর কর্মীরা এবং নাগরিক আন্দোলনের কর্মীরা নিবেদিত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ লড়াই চালাচ্ছে এবং এই আমলাতান্ত্রিক বাধাগুলোর কাছে নতি স্বীকার করতে অস্বীকার করেছে। বিহারের সব স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের মধ্যে, কেবল সিপিআই(এমএল)-এর বিএলএ টিমই সব প্রতিক‚লতা কাটিয়ে ডজনখানেক অভিযোগ দায়ের করতে সক্ষম হয়েছে, এমনকি সিপিআই(এমএল) নিযুক্ত শত শত বিএলএকে এখনো নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অনুমোদিত’ ও ‘স্বীকৃত’ না করার পরও নাগরিকসমাজের আন্দোলনকর্মী, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এবং অন্যান্য বিভিন্ন স্থানীয় সক্রিয় নাগরিক গোষ্ঠীর সহায়তায়, তারা বিহার ও তার বাইরে নাম মুছে ফেলা প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার এবং অভিবাসী শ্রমিকের কাছে পৌঁছাতে এবং ফর্ম ফিলাপ ও প্রাসঙ্গিক নথি জমা দেয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের সহায়তা করতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে, বিজেপি, যারা প্রায় ৬০ হাজার বিএলএ’র বৃহত্তম বাহিনীর দাবিদার, তারা তাদের বিএলএ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত একটি অভিযোগও দায়ের করেনি, যা নিশ্চয় বিশেষ অর্থবহ। আমাদের কি ধরে নিতে হবে যে, এসআইআর-এর মাধ্যমে এরকম ব্যাপক হারে ভোটারদের বাতিল করা সত্তে¡ও বিজেপি সমর্থক ভোটারদের একজনও তার মধ্যে নেই?

নথি এবং দাবি ও আপত্তি জমা দেয়ার জন্য ঘোষিত সময়ের এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে যে, ৯৯% ভোটার তাদের নথি জমা দিয়ে দিয়েছেন। এটা অবাক করার মতো সংখ্যা। কিন্তু আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে এই নথিগুলো এখনো যাচাই করা বাকি এবং ১% ভোটারের নথি এখনো জমা পড়েনি মানে সেই সংখ্যাটাও প্রায় আট লাখ হবে। আমরা জানি না যে, প্রথম পর্বে মুছে ফেলা ৬৫ লাখ ভোটারের মধ্যে কতজনকে, যাদের বেশির ভাগকেই অন্যায়ভাবে, বিশেষ করে যাদের ‘স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া’ বলে, চিহ্নিত করা হয়েছিল- তাদের কতজনকে চূড়ান্ত তালিকায় পুনর্বহাল করা হবে। যারা নথি জমা দিয়েছেন তাদের অনেকেই এখন নথি ‘যাচাই’-এর প্রক্রিয়ায় অন্যায়ভাবে বাদ পড়তে পারেন। তারপর আছে ‘নতুন ভোটার’ নিবন্ধনের ইস্যু- বিহারেও ইতোমধ্যে মহাদেবপুরা প্যাটার্ন কাজ করার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

সুতরাং, ভোটাধিকার হরণ এবং নির্বাচনী জালিয়াতির বিপদ এখনো বড়ো আকারে রয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বন করার মাধ্যমেই কেবল বিহার এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারে। ভোটার অধিকারযাত্রা সমগ্র বিহার ও তার বাইরেও নির্বাচনী জালিয়াতির বিরুদ্ধে এক জোরালো বার্তা পাঠিয়েছে যে, এবারে চরম ধিকৃত মোদি-নীতীশ ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারকে অপসারণের লক্ষ্যে এই লড়াই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাই রাহুলের ভোটাধিকারযাত্রা রাজনৈতিক হিসাবটাই বদলে দেবে। বিশেষ করে চলতি বছরের বিহার বিধানসভার নির্বাচন বা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়বে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক