ভোটকেন্দ্র কালচার

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে জয়ের জন্য মরিয়া প্রবণতা ভোটকেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। একটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রতিটি রাজনৈতিক দল ভোটকেন্দ্রভিত্তিক তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে। এ আশঙ্কা যে অমূলক নয় নির্বাচনপূর্ব অভিজ্ঞতা তা প্রমাণ করছে। ইতোমধ্যেই দু’টি কিংবা একাধিক দলের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী সহিংসতা এমনকি রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেছে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। তবে আসল দায়িত্বটি বর্তায় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের ওপর। বাংলাদেশের অসহিষ্ণু এবং উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক কালচার সম্পর্কে সবাই অবহিত। নির্বাচনের মতো ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা যাতে শান্তিপূর্ণ ও সমঝোতাপূর্ণ হয়, তার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই মূল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে হবে

নির্বাচন পরিচালনার জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও অবশেষে স্থানীয় সরকারের দ্বারস্থ হতে হয়। সব নির্বাচন ব্যবস্থাদির সর্বশেষ গন্তব্যস্থল ভোটকেন্দ্র। মূলত ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা যথার্থ না হলে নির্বাচনমুখী সব কর্মযজ্ঞ ব্যর্থ হতে বাধ্য। একজন কৃষক যেমন সারা বছর সময়, শ্রম ও অর্থ ঢেলে দিয়ে ফসল তোলার অপেক্ষায় থাকেন, ঠিক তেমনি একজন রাজনীতিবিদ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন জনগণের সঠিক রায়টি অর্জন করার জন্য।

একটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও ঘোষণাপত্র তথা নির্বাচনকালীন মেনিফেস্টো যদি উত্তম প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়, আর যদি ভোটকেন্দ্রের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও অরাজকতার কারণে বাক্সে ভোট না আসে তাহলে সব শ্রমই নষ্ট হয়ে যায়। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ভোটকেন্দ্র কালচার খুবই উন্নত, কার্যকর ও নিরপেক্ষ। সেখানে কেউ ভুলেও নির্বাচনকেন্দ্র দখলের চিন্তা করে না। কারচুপি করার কায়দা করে না। নানা ধরনের কলাকৌশল এঁটে নির্বাচনব্যবস্থাকে ভণ্ডুল করে না। আমাদের মতো অনুন্নত গণতন্ত্রে পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা একেবারেই অনুপস্থিত। ভোটকেন্দ্র দখল যদি সহজ হয়, আর যদি তা প্রার্থীর বিজয়কে নিশ্চিত করে, তাহলে দখল অবশ্যই করবে। আর যদি সে দখল হয় চ্যালেঞ্জিং, তাহলে দখলের চেষ্টা নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভোটের পরে ভোটের বাক্স ছিনতাই যদি অনুকূল হয়, তাহলে তা করতেও প্রার্থী দ্বিধাবোধ করেন না। বাংলাদেশের অন্তত দুটো নির্বাচনকে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মনে করা হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে হেরে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘সূক্ষ্ম কারচুপি’ হয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে হেরে গিয়ে স্থূল কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন। যখনই যে রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি পরাজয় বরণ করে, তখন ভোটকেন্দ্রে জালিয়াতি বা কারচুপির অভিযোগ উত্থাপিত হয়। সমাগত নির্বাচনে বাংলাদেশের নির্বাচনকে সুশৃঙ্খল, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য সরকারের তরফ থেকে চেষ্টার কমতি নেই। অপর দিকে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রকে সব কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু বানানোর চেষ্টা-তদবির ও প্রশিক্ষণ দর্শনীয় হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র স্থাপনের আইনি ভিত্তি হলো ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্বমূলক আদেশ। এই আইনের অষ্টম ধারা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ও ঘোষণার কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে। কমিশনই সরকারি গেজেটের মাধ্যমে কোথায় কোথায় ভোটকেন্দ্র হবে তা নির্ধারণ করে। এই কিছু দিন আগেও ভোটকেন্দ্র স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশের মাধ্যমে নির্ধারিত হতো। এখন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দায়িত্বে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজ করেন। এই সেদিন নীতিমালাটি পরিমার্জিত হয়েছে। এটি পোলিং সেন্টার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা- ২০২৫ নামে অভিহিত। এটি নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। এর মূল বিষয়বস্তু এরকম— ক. গড়ে একটি ভোটকেন্দ্র হবে প্রায় তিন হাজার ভোটারের জন্য। খ. ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি অংশে পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা আলাদা বুথ বা সেকশন থাকবে। গ. প্রতিটি বুথের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটার ধার্য থাকবে। ঘ. ভোটকেন্দ্রগুলো এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে, যেখানে ভোটাররা সুবিধা অনুযায়ী পৌঁছাতে পারে। ঙ. কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের প্রভাবাধীন স্থানে ভোটকেন্দ্র থাকবে না। চ. দূরবর্তী পাহাড়ি বা দুর্গম এলাকায় ভোটকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও ব্যতিক্রম করা যেতে পারে। ছ. ভোটের কমপক্ষে ২৫ দিন আগেই ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হতে হবে। জ. নির্বাচনি নির্দেশনায় ভোটকেন্দ্রগুলোকে স্বচ্ছ, আলো-বাতাসযুক্ত ও জনসমাগমের স্থানে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ঝ. প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সাধারণ পর্যবেক্ষণের জন্য সিসিটিভি চালুর কথা বলা হয়েছে। ঞ. নির্বাচন কমিশন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য ভোটার তালিকার ফটোকপি রাখা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। এতে ভোটারদের পরিচয় সহজে যাচাই হয়। ভুল বা জাল ভোটার শনাক্ত করা সহজ হয়।

ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ ও কার্যকারিতা সম্পর্কে এসব বিধিব্যবস্থা নেয়া হলেও আসলে ভোটের শুদ্ধতা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নির্ভর করে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত জনশক্তির বাস্তব আচরণের ওপর। একজন প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকেন। তিনিই প্রাথমিকভাবে ভোটকেন্দ্রের ভালো-মন্দ, নীতি-দুর্নীতি ইত্যাদির জন্য দায়ী থাকেন। প্রিজাইডিং অফিসারকে সহায়তা দেয়ার জন্য প্রতিটি বুথে থাকেন পোলিং কর্মকর্তা। যেহেতু ভোটের সার্থকতা এদের ওপর নির্ভর করে, সে কারণে এদের নিয়োগ ও ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই।

স্বৈরাচারের আমলে একান্ত অনুগত লোকদের নিয়োগের জন্য এসব পদে বারবার অদল বদল হয়েছে। এ আমলেও বিশ্বাস ও আস্থার ঘাটতি এতটাই যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রার্থী সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজে বেড়ান। সে অনুযায়ী পরিবর্তনের অনুরোধ জানান। বিগত বছরগুলোতে এসব পদও ব্যক্তির দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণ প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। কিন্তু তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা, এ পদগুলোতে যেহেতু প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা এবং শিক্ষকরা নিয়োজিত থাকেন, সেহেতু সাধারণভাবে এরা সমাজের চোখে বিশ্বাসযোগ্য থাকেন। এদের নিয়ে অতিমাত্রিক বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত। পেশাদারত্বের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দলীয়করণ প্রবণতা রোধ করা যায়। নির্বাচন কমিশন এদের নির্বাচনের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য ট্রেনিং দিয়েছে। এভাবে ট্রেনিংপ্রাপ্তদের সংখ্যা হবে দশ লাখ। নির্বাচন কমিশন এদের মূল্যায়নের চেষ্টাও করছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্র থেকে ফলাফল দ্রুত পাঠাতে ডিজিটাল রেজাল্ট সিস্টেম প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাস্তব ভোটের মহড়া দিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘মক ভোটিং’ কর্মসূচিও পরিচালনা করা হচ্ছে।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ৮-১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী বলবৎ থাকবে। প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ দু’জন পুলিশ ও কয়েকজন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসমূহে পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে লাঠিসহ ১০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকবে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড মোবাইল টিম বা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। এদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার থাকবে। যেকোনো অন্যায় ও অপরাধমূলক কাজের জন্য এরা যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি মোবাইল টিম কুইক রেসপন্স ইউনিট ও ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় থাকবেন। সরকারের তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ বিবেচনায় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। নির্বাচন যথার্থভাবে পরিচালনা ও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ বা কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত কমিশন সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করবে। কেন্দ্রভিত্তিক তাৎক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

প্রার্থীরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার ব্যাপারে আগ্রহী থাকেন। নানা ধরনের যানবাহন ব্যবহার করে অনুকূল ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। অধিকাংশ লোকজন যেহেতু অশিক্ষিত ও সহজ সরল সেজন্য ভোটকেন্দ্রে তাদের নানাভাবে বুঝিয়ে শুনিয়ে ভোটের জন্য প্রস্তুত করা হয়। পুরুষ ও মহিলারা ভিন্ন ভিন্ন লাইনে দাঁড়ান। তার আগে তারা প্রার্থীকেন্দ্রিক হেল্পডেস্ক বা সহায়তাকারী টেবিল থেকে ভোটার নাম্বার লিখিত স্লিপ জোগাড় করেন। যে ডেস্ক থেকে বেশি স্লিপ নেয়া হয়, মনে করা হয় ভোটকেন্দ্রে তাদেরই বেশি জনপ্রিয়তা রয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে ভোট হলে এসব নিয়ে ঝামেলা ঝুঁকি হয় না। কিন্তু ভোটকেন্দ্র কালচারের সবচেয়ে নেতিবাচক ও নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত রয়েছে। নির্বাচন যেমন তিনটি ‘এম’ দ্বারা আক্রান্ত, ঠিক তেমনি ভোটকেন্দ্রও তিনটি প্রবণতা দ্বারা চিহ্নিত। প্রথম ‘এম’ মানি বা টাকা। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক অর্থ লেনদেনের কথা শোনা যায়। বড় বড় লোকদের বড় বড় বাজেট থাকে। এ বাজেটটি জনসংখ্যা ও এলাকার গুরুত্বকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। ভোটকেন্দ্রে আসার ঠিক আগ মুুহূর্তে হাতে টাকা গুঁজে দেয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই বিনিয়োগ ব্যর্থ হয় না। দ্বিতীয় ‘এম’ হচ্ছে মাস্তান। প্রতিটি নির্বাচনেই মাস্তানদের সবিশেষ কদর থাকে। বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনই মাস্তানমুক্ত হয়নি। তবে এর প্রকারভেদ আছে।

মাস্তানরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইজারা নেয়। নেতাকে বলে অমুক ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব তাদের। তাকে কষ্ট করে বারবার আসা বা খোঁজখবর নেয়ার কোনোই দরকার নেই। তিনি তাদেরকে বিশ্বাস করতে পারেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাস্তানরা কয়েকজন একত্রে গিয়ে ফিল্মি স্টাইলে ভোটকেন্দ্র দখল করে। প্রিজাইডিং অফিসারকে আটকে রেখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে। পুলিশ অথবা ম্যাজিস্ট্রেট আসলে গড ফাদারের রেফারেন্স ও টাকা দিয়ে তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ম্যানেজ হওয়ার কালচার জিতে যায়। এবার আসা যাক তৃতীয় ‘এম’ অর্থাৎ মিডিয়া। মিডিয়া মানে শুধু চ্যানেল নয়। মিডিয়া মানে সংবাদপত্র ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক। এখন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, ইউটিউব ইত্যাদি এর মতো বিষয়াদি রয়েছে। দেশের অধিকাংশ প্রার্থীর মিডিয়া সাপোর্ট রয়েছে। তারা তিলকে তাল করতে পারেন। আবার তালকে তিল করতে পারেন। মিথ্যে ও আধা মিথ্যে অথবা সত্য ও অর্ধসত্য লিখে ও রূপ-রস-গন্ধ দিয়ে যেকোনো তালগোল পাকিয়ে দিতে পারেন। আবার এই মিডিয়া ইচ্ছা করলেই কঠিন ভূমিকা পালন করতে পারে। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তারা যখন ক্যামেরা বহন করেন ও নিরেট সত্যকে ধারণ করতে চান, তখনো মিডিয়ার রোল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়। হাসিনা স্বৈরাচারের ১৭ বছরের ইতিহাসে বশংবদ সাংবাদিকতার যেমন বদনাম আছে, তেমনি দুঃসাহসী সাংবাদিকতার দু’-একটি নজিরও আছে। নির্বাচনকেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য আছে দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক দল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের থেকে সত্যিকার প্রতিবেদন পাওয়া যায়। তবে শেখ হাসিনা আমলে রাষ্ট্রীয় আতিথ্য গ্রহণ ও সুবিধার বিনিময়ে অনুকূল প্রতিবেদন পাওয়ারও উদাহরণ রয়েছে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে জয়ের জন্য মরিয়া প্রবণতা ভোটকেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। একটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রতিটি রাজনৈতিক দল ভোটকেন্দ্রভিত্তিক তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে। এ আশঙ্কা যে অমূলক নয় নির্বাচনপূর্ব অভিজ্ঞতা তা প্রমাণ করছে। ইতোমধ্যেই দু’টি কিংবা একাধিক দলের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী সহিংসতা এমনকি রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেছে। সুতরাং নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। তবে আসল দায়িত্বটি বর্তায় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের ওপর। বাংলাদেশের অসহিষ্ণু এবং উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক কালচার সম্পর্কে সবাই অবহিত। নির্বাচনের মতো ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা যাতে শান্তিপূর্ণ ও সমঝোতাপূর্ণ হয়, তার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই মূল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]