২০২৬-এ দেশের অর্থনীতির গতিপথ

২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি বহু চাপ ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গেছে, তবে কাঠামোগত দৃঢ়তা ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় ২০২৬ সালে স্থিতিশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব। দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, রফতানি বাজার সম্প্রসারণ এবং কার্যকর নীতি সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হতে পারে, যদি বৈশ্বিক পরিবেশ তুলনামূলকভাবে অনুকূল থাকে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য যেমন কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে। তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জের বার্তাও বয়ে এনেছে। যেমন- প্রবৃদ্ধির গতি কমে এলেও রফতানি খাতে তৈরী পোশাক শিল্পের স্থিতিস্থাপকতা, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহের উন্নতি, ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের বিস্তার এবং কৃষি উৎপাদনে ধারাবাহিকতা অর্থনীতিকে ভঙ্গুরতা থেকে রক্ষা করেছে। একই সাথে অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি ও বেসরকারি খাতে মধ্যমেয়াদি আস্থার পুনরুত্থান একটি নীরব ইতিবাচক সঙ্কেত দিয়েছে। তবে এসবের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে মন্থরতা, আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি ও মুদ্রানীতির কঠোরতা অর্থনীতিকে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর দাঁড় করিয়ে রেখেছে। ফলে ২০২৫ সালের বাংলাদেশী অর্থনীতি একদিকে সঙ্কোচনের বাস্তবতা মোকাবেলা করেছে, অন্যদিকে কাঠামোগত সক্ষমতা ও নীতিগত সংশোধনের মাধ্যমে ২০২৬ সালে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি : ২০২৫ সালের অর্থনীতির প্রধান সূচক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও কাক্সিক্ষত গতির তুলনায় কিছুটা কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা ধীর হলেও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে উচ্চ থাকলেও, জুলাই ২০২৪-এ ১৪ শতাংশ থেকে ডিসেম্বর ২০২৪-এ ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণযোগ্য হবে। তবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ রয়েছে। সরকারি ব্যয়ে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে; রাজস্ব আহরণ বেড়েছে এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সুচারু পদ্ধতি প্রয়োগ হচ্ছে। তবে বাজেট ঘাটতি এখনো প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা রয়েই গেছে। বেকারত্ব তুলনামূলকভাবে উচ্চ। তবে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান নিশ্চিতে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজন আছে।

বৈদেশিক বাণিজ্য : বাংলাদেশের রফতানি খাত, বিশেষ করে তৈরী পোশাক শিল্প, যা দেশের মোট রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশ, দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। তবে বৈশ্বিক শুল্ক, চাহিদার ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এই খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ।

রফতানি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রফতানি আয় প্রায় ৪৮ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে রেডিমেড গার্মেন্ট (RMG) খাতের অবদান সর্বাধিক। একই সময়ে, রেমিট্যান্সও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

আমদানি খাতে মূলত কাঁচামাল, প্রযুক্তি পণ্য এবং জ্বালানি জাতীয় পণ্য প্রাধান্য পায়। ২০২৫ সালে মোট আমদানি ছিল প্রায় ৬৮ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি দেখিয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও এটি মোট জিডিপির প্রায় ১২-১৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, আমদানি খরচ এবং শুল্ক নীতির কারণে বাণিজ্য চাপ অনুভূত হচ্ছে; উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক পোশাক রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে বৈচিত্র্যময় পরিবর্তনের মধ্যেও দেশের বাণিজ্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থেকেছে। রফতানিতে ওঠানামা থাকলেও রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দৃঢ় অবস্থান দেশের অর্থনীতিকে সমর্থন দিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ভারসাম্যপূর্ণ হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় স্থিতিশীল অবস্থান বজায় রেখেছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় অর্থনৈতিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

ব্যাংকিং ব্যবস্থা : বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ২০২৫ সালে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবেই কাজ করেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদান, সঞ্চয় গ্রহণ ও বিনিয়োগ প্রবাহের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। তবে ঋণের বণ্টন সীমিত হওয়ায় বিনিয়োগ খাতে তরলতা কিছুটা কমেছে, যা সেক্টরগুলোর স¤প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করে। অবশ্য ঋণ ও ডিপোজিট ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাংকগুলোর উদ্যোগ ঋণ প্রদান সক্ষমতা কিছুটা বাড়িয়েছে; কিন্তু বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে জটিলতা এখনো কাটেনি। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ফিনটেকভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও লেনদেন দ্রুত করতে সহায়ক হলেও ব্যাংকিং খাতের বৃহত্তর সংস্কার প্রয়োজন। পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রশাসনিক দুর্বলতা, পরিচালনাগত জটিলতা ও ঝুঁকিভিত্তিক ঋণনীতির কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে সহজে ঋণ পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে, যা উদ্যোক্তা ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে।

বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এফডিআই প্রবাহে ধারাবাহিকতা এখনো সুনিশ্চিত নয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নেট এফডিআই কিছুটা অস্থিতিশীল হলেও সরকারি উদ্যোগে স্থায়ী বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যেমন- জাপান ও নেদারল্যান্ডসের বড় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে, যদিও নতুন বিনিয়োগকারীর আগমন সীমিত। এফডিআই বৃদ্ধিতে সরকারি নীতি- কর ছাড়, বিনিয়োগ সহজীকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক। প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগ পরিবেশ আরো সহজ করা হলে ২০২৬ সালে এফডিআই প্রবাহ বাড়বে।

কৃষি খাত : বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ কৃষি খাত, যা কৃষক সমাজের আয় ও খাদ্য নিরাপত্তায় মুখ্য ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালে কৃষি উৎপাদন কিছুটা অস্থিতিশীল হলেও সরকারি সহায়তা যেমন- সেচ উন্নয়ন, বীজ ও সার সরবরাহ, ফসল উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা ও মৌসুমি ঝুঁকি কিছু অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবুও সরকারি বাজেট বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা কিছুটা শক্তিশালী করেছে।

কৃষির অবদান মোট জিডিপিতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। ফলে এটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। গ্রামীণ কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ কৃষি খাতে রয়েছে। এ খাতে প্রযুক্তি স¤প্রসারণ ও প্রশিক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত কৃষি কাঠামো গড়ে তুলতে পারে।

রাজস্ব আয় : বাংলাদেশ রাজস্ব আয় সংগ্রহে জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশ অর্জন করেছে, যা এশিয়ার অনেক দেশের চেয়েই কম। তবে রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজস্ব আয় ২০২৪ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে তিন লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার উচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে। এটি অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় শুভ সঙ্কেত। তবে কর প্রশাসন ও নীতির জটিলতা এখনো কিছু ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করছে। আয়কর, কোম্পানি কর, ভ্যাট ও শুল্ক ব্যবস্থা আরো স্বচ্ছ এবং দক্ষ করে পরিচালনা করলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং বাজেট ঘাটতি কমানো যাবে।

২০২৬-এ অর্থনীতির সম্ভাব্য গতিপথ : আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি দাঁড়াবে, যা অতীতের উচ্চ প্রবৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা কম হলেও অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে কঠোর মুদ্রানীতি এবং বাজেট নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করা হয়েছে। বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়া, রফতানি চাপ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক পরিবেশকে কিছুটা মন্থর করেছে। তবে ২০২৬-এ বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক উন্নয়ন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ উভয়েই পূর্বাভাস দিয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে তা আরো বাড়তে পারে। অভ্যন্তরীণ ভোগ ও বিনিয়োগে পুনরুজ্জীবন, রফতানি বৈচিত্র্য, ডিজিটাল অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়ন জিডিপি বৃদ্ধির নতুন উৎস হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতার ঘাটতি ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। ধারাবাহিক সংস্কার এবং মাইক্রো-ম্যাক্রো অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখা ২০২৬ সালে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার কারণে ভোক্তা ব্যয় ও বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়ছে। এ বছর বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াবে।

তবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা যেমন রয়েছে তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক শুল্কনীতি, জলবায়ু ঝুঁকি ও বিশ্ব বাজারের ওঠানামা ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এসবের মোকাবেলার জন্য কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন অপরিহার্য। নির্বাচন পরিস্থিতি বিবেচনা করলে ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে কিছু অতিরিক্ত চাপ এবং অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার আগে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রকল্প ত্বরান্বিত হতে পারে, যা স্বল্পমেয়াদে ভোগ ও বিনিয়োগে প্রণোদনা দিতে পারে, তবে একই সাথে মূলধন বিনিয়োগ ও বিদেশী বিনিয়োগে সতর্কতা লক্ষ করা যেতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দফায় দফায় কর্মসূচি পরিবর্তন এবং ব্যাংকিং খাতের চাপ সাময়িকভাবে ব্যবসায়িক পরিবেশে ধীরগতি সৃষ্টি করতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণের খরচ নিয়ন্ত্রণে সঠিক নীতি গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি বহু চাপ ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গেছে, তবে কাঠামোগত দৃঢ়তা ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় ২০২৬ সালে স্থিতিশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব। দ্রæত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, রফতানি বাজার সম্প্রসারণ এবং কার্যকর নীতি সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হতে পারে, যদি বৈশ্বিক পরিবেশ তুলনামূলকভাবে অনুকূল থাকে।

সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীলতা বনাম প্রবৃদ্ধি দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে অর্থনীতিকে পরিচালনা করেছে। জিডিপি, মূল্যস্ফীতি, আমদানি-রফতানি ও বৈদেশিক আয়- সব সূচকই অর্থনীতির স্থিতিস্থাপক শক্তি দেখাচ্ছে; কিন্তু অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করতে নীতি সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে।

লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট

[email protected]