জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগে ভাটা পড়ে। বলা হচ্ছে, দেশে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা হলেই বিদেশী বিনিয়োগ প্রবাহের পালে বাতাস বইবে। অর্থাৎ নির্বাচিত সরকার হলে নীতিসহায়তা দরদাম সুযোগ সুবিধা আদায়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে । কিন্তু বাংলাদেশ যে শর্তে ও উপায়ে বিদেশী বিনিয়োগ প্রত্যাশা বা আহ্বান করে সে নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দৃষ্টি সরাতে দরকষাকষিতে দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আবদারের দিকটা এ পর্যায়ে না দেখার ভান করাটা সমীচীন নয়। বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ আহ্বানের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ঘোষিত শিল্পনীতিতে ছিল বা আছে, ‘অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য পুঁজির অপ্রতুলতা থাকায়, বিপুল শ্রমিকশক্তির জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দেশীয় কাঁচামালের কার্যকর ব্যবহারকল্পে উপযুক্ত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আমদানির দ্বারা উৎপাদন কৌশল জানা, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রফতানিমুখী শিল্পোদ্যোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও রূপান্তর ঘটানো। বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা সেই সত্তরের দশক থেকে। সত্তরের দশকের প্রথমার্ধে যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনকালে প্রাইভেট সেক্টরের ওপর পাবলিক সেক্টরের প্রাধান্য ও নিয়ন্ত্রণ বলবৎ ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে শিল্পোদ্যোগে পাবলিক সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ শিথিল এবং আধিপত্য হ্রাস পেতে থাকে। ১৯৮০-৮১ সালে সরকার প্রাইভেট সেক্টরের উন্নয়নের লক্ষ্যে নয়া শিল্পনীতিতে কিছু মৌল পরিবর্তন আনে। উল্লেখ্য, এ সময় ১৯৮০ সালেই ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড প্রটেকশন অ্যাক্ট জারি হয়। বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা) অ্যাক্টও পাস হয় একই সময়। এতদসত্ত্বেও পুরো আশির দশকে বিদেশী বিনিয়োগ তেমন আসেনি বাংলাদেশে। পুরো দশকে ইপিজেডের বাইরে বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয় মাত্র ৪০৪ মি. মা. ডলার।
সত্তর ও আশির দশকে অর্থনৈতিক সাহায্য হিসেবে বাংলাদেশে বিদেশী ঋণ ও অনুদান এসেছে মূলত পাবলিক সেক্টরের জন্য। প্রাইভেট সেক্টরের পুঁজির প্রয়োজনীয়তা ও তার চাহিদা সৃষ্টি হয় আশির দশকের শেষ ভাগে। প্রাইভেট সেক্টরের বিকাশ শুরু হলে এবং বিদেশী পুঁজি প্রবেশের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুযোগ-সুবিধার সমাহার ঘটানোর নীতিমালা ঘোষিত হলে, বিনিয়োগ বোর্ড অ্যাক্ট, ১৯৮৯ বলে প্রতিষ্ঠিত পোষক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হলে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ প্রবাহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া ও বাজার অর্থনীতির অবগাহনে বাংলাদেশ সিক্ত হলে, এশীয় উন্নয়ন দেশগুলো বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোর উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হলে (যা এশিয়ান মিরাকল নামে খ্যাত) বাংলাদেশ বিদেশী বিনিয়োগ গন্তব্য বা ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিভাত হয়।
বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে নীতিমালা এখনো বলবৎ আছে— ১. বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে ওইসব খাতে, যেসব শিল্প উৎপাদনব্যবস্থা বাংলাদেশে নেই অথচ দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ২. বিদেশী বিনিয়োগ আহ্বান করা হবে বাংলাদেশে বিদ্যমান ওই জাতীয় শিল্পে উৎপাদনব্যবস্থার অধিকতর বিকাশ ঘটানোর জন্য, যা সামাজিক প্রয়োজন ও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল এবং ৩. বিদেশী বিনিয়োগে সেই শিল্প প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান করা হবে, যা অবদান রাখতে সক্ষম; দেশে পুঁজি, প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক সম্পদের অনুসন্ধান, জরিপ ও আহরণে বাংলাদেশের ব্যালান্স সব পেমেন্ট পরিস্থিতির উন্নয়নে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এবং অন্য যেকোনো উপায়ে দেশের অর্থনীতির সার্বিক বিকাশসাধনে।
নীতিমালায় বলা হয়, দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তা বা উৎপাদন উদ্যোগে যেসব সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিধান দেয়ার ব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একই সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার বিধান থাকবে এবং এ ব্যাপারে পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না। অধিকতর বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ইক্যুইটি শেয়ারের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার মাত্রা বেঁধে না দেয়া এবং লভ্যাংশসহ পুরো পুঁজি প্রত্যাবাসনের অবাধ সুযোগ ঘোষিত হয়। মাত্র পাঁচটি খাত বাদে সব খাতে দেশী-বিদেশী বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগকারীকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার সুযোগও ঘোষিত হয়। বিদেশী প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় বিদেশী বিশেষজ্ঞ কর্মীদের জন্য কর রেয়াতসহ সহজ শর্তে ওয়ার্ক পারমিট দেয়ার সুযোগ রাখা হয়। রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মেশিনারি ও কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক মওকুফের ব্যবস্থা ঘোষিত হয়। দেখা যায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বেসরকারি খাতে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ঘোষিত সুযোগ-সুবিধাদি বেশি এবং অধিকতর উদার। বিদেশী বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য শুল্ক মওকুফসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অধিক সমাহারের ফলে একই পণ্য উৎপাদন ও রফতানিতে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য তা তীব্র প্রতিযোগিতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, ব্যবসায়-বাণিজ্য বিনিয়োগে তারা ফেয়ার প্ল্যাগ্রাউন্ড প্রতিষ্ঠার দাবি করেছেন পরবর্তীকালে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রদত্ত সুবিধা প্রত্যাহার করা যেমন জটিল হয়ে দাঁড়ায়, স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সব সুবিধা নতুন করে প্রদানেও নানাবিধ সমস্যার উদ্রেক করে।
বিদেশী বিনিয়োগের দ্বারা রফতানি বৃদ্ধি তথা ব্যালান্স অব পেমেন্ট পরিস্থিতির উন্নতির শুমারি করলে দেখা যায়, ইপিজেডে প্রতিষ্ঠিত বিদেশী বিনিয়োগ প্রকল্প থেকে রফতানি আয় স্বাভাবিক ও সহজভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; তবে সে মাত্রা আমদানি (কাঁচামাল) বাদ দিয়ে ভ্যালু অ্যাডিশনের ক্ষেত্রে খুব একটা উল্লেখজনক নয়। ১০০ ভাগ রফতানিমুখী শিল্পের জন্য কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর শুল্ক রেয়াত বাবদ রাজস্ব আয় ভর্তুকি দিয়ে প্রকৃত প্রাপ্তির হিসাব আরো নাজুক অবস্থায় দাঁড়ায়। ইপিজেডে প্রতিষ্ঠিত শিল্প-কারখানাগুলোর শতকরা ৮৭ ভাগের উৎপাদনে কাঁচামাল ও খুচরা যন্ত্রপাতি আমদানিনির্ভর। ইপিজেড শিল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রেডিমেড গার্মেন্টস ইউনিট শিল্প। ইপিজেডে দেশীয় কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে রফতানিযোগ্য শিল্প এবং যা আরএমজির মতো মৌসুমি অস্থিরতা ও বিশ্বমন্দা পরিস্থিতিজনিত হুমকির সম্মুখীন নয় এমন শিল্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অর্থনীতির জন্য লাভজনক হতে পারে। উল্লেখ্য যে, সে জাতীয় শিল্পের সংখ্যা সীমিত।
বাইডাতে নিবন্ধিত বিদেশী বিনিয়োগে রফতানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোর বেশির ভাগই হলো রেডিমেড গার্মেন্টস সেক্টরে। হালে আইটি সেক্টরে বিদেশী বিনিয়োগ সংবলিত কিছু শিল্প নিবন্ধিত হয়েছে কিন্তু তাদের রফতানির হিসাব সাধারণত দৃশ্যগোচর নয়। বাংলাদেশে বাকি বড় বড় বিদেশী বিনিয়োগ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সেক্টরে। আহরিত গ্যাসের প্রধান ক্রেতা বাংলাদেশ নিজে আর উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যবহারকারীও বাংলাদেশ। রফতানির আপাত সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার মতো শিল্প এসব ক্ষেত্রে নেই। সিমেন্ট শিল্পে (রসায়ন খাত) ব্যাপক বিদেশী বিনিয়োগ হলেও তা দেশীয় বাজার দখলকে কেন্দ্র করে। অধিকন্তু সিমেন্ট শিল্পে ভ্যালু অ্যাডিশন নেই বললে চলে। কাঁচামাল আমদানি-উত্তর গুণমান বজায় রেখে সিমেন্ট বিদেশে রফতানি করার সম্ভাবনা সুদূরপরাহত মনে হতে পারে। ফিনিশড সিমেন্ট আমদানি ব্যয় হ্রাস পেলেও সিমেন্টের কাঁচামাল (জিপসাম ও ক্লিংকার) আমদানি ব্যয় তো থাকছেই। তবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি সিমেন্ট কোম্পানি সীমান্তের ওপার থেকে কনভেয়র বেল্টের মাধ্যমে ক্লিংকার তৈরির পাথর আনিয়ে স্টেট অব আর্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লিংকার ও সিমেন্ট উৎপাদনের সফল উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নের এক পর্যায়ে ভারত থেকে ক্লিংকার আনয়নে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে থমকে যায়।
বাংলাদেশের বাজারে বিদেশী পুঁজি প্রবেশের পাঁজি-পুঁথি ঘাঁটলে, টেকনোলজি ট্রান্সফারের প্রকৃত অবস্থার শুমার করলে এবং স্থানীয় শ্রমিকের কর্মসংস্থানের জরিপ ফলাফলের দিকে তাকালে বোঝা যাবে মিশ্র ফল লাভ ঘটেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। বিদেশী পুঁজির নগদ প্রবাহ অতি সামান্য। বিনিয়োগকৃত বেশির ভাগ পুঁজি দেশী-বিদেশী ব্যাংকের ঋণ, যা চড়া সুদ ও শর্তের। বেসরকারি খাতে প্রদত্ত বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এ বাণিজ্যিক ঋণের দায়দায়িত্ব বহনের ঝুঁকি থাকছে বাংলাদেশ অর্থনীতির। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিদেশী ঋণ প্রবাহিত হয়েছে কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন যথাযথ সময়ে শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় ওই ঋণ রীতিমতো ঝুঁকিতে পরিণত হতে চলেছে, এমন কেসের সংখ্যা বাড়ছে। জয়েন্ট ভেঞ্চারের কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটাও দেখা গেছে, স্থানীয় অংশীদারের বিদেশী ঋণের দায় বেড়েছে। সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিট প্রকৃতির সরবরাহসমূহে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতির মূল্য বেশি ধরা হয়েছে, যন্ত্রপাতির স্থায়িত্ব ও গুণমান পূর্বাহ্নে যথাযথ যাচাই সম্ভব না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে এগুলো ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ প্রতীয়মান হয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের ঘোষিত সহজ সুবিধাদির আওতায় বিদেশী বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে স্থাপিত কোম্পানির মালিকানা কেনাবেচার সমুদয় অর্থ বিনিময় হয়েছে বিদেশে।
হুন্ডির মাধ্যমেও প্রত্যাবাসিত হয়েছে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ কোম্পানির অর্থ। এমনও দেখা গেছে, কোরিয়ান হুন্দাই কোম্পানি যমুনা সেতু প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োজিত হওয়ার সুবাদে নিতান্ত সহজ শর্তে ও নামমাত্র মূল্যে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জমি লিজ নিয়ে হুন্দাই সিমেন্ট কারখানা স্থাপন করেছে। বিদেশী বিনিয়োগ হিসেবে দেখিয়ে পরে ওই কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে বিদেশী আরেক কোম্পানি হোলসিম সিমেন্টের কাছে চড়া দামে সমুদয় কোম্পানির মালিকানা ও জমিসহ কারখানা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপকক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত না রেখেই। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ কর্তৃক ঘোষিত সুযোগ-সুবিধাগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেকাংশে সহজ ও লোভনীয়। আর চতুরতার সাথে এসবের সদ্ব্যবহার করেছে সুযোগসন্ধানী অনেক বহুজাতিক কোম্পানি এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীরা।
বাংলাদেশের অপ্রতুল অবকাঠামো-সুবিধা, সরকারের ঘোষিত নীতি-পদ্ধতিতে বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার অনুযোগ আনা হলেও বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিতকারী নীতি-নিয়মকানুনগুলো উপেক্ষা করে সুযোগ-সুবিধাগুলো ঠিকই ব্যবহার করা হয়েছে। ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশে অদক্ষ বহু বিদেশী শ্রমিক টেকনিশিয়ান ছদ্মবেশে কর্মরত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, তাদের বেতন যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয় না এবং তাদের অর্জিত আয় বৈদেশিক মুদ্রায় পাচার হয় দেশীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ অপারগতায়, অনীহায় কিংবা যোগসাজশে।
ঠিক এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন নতুন সরকারের সময়ে তাদের সুবিবেচনায় কী ধরনের বিদেশী বিনিয়োগ আসবে বা তাদের স্থানীয় অংশীদাররা কী ধরনের অনুকম্পা আদায়ে কিরূপ তৎপর হবেন তার ওপর আগাম সতর্কতা অবলম্বন সমীচীন হবে, নতুবা নিকট অতীতের মতো দেশ ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থপরিপন্থী বিদেশী বিনিয়োগের ভারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যাবে।
লেখক : সাবেক সচিব, কলাম লেখক



