তারেক রহমানের যত চ্যালেঞ্জ

চার পাশে স্তাবকদের অবিরাম স্নেহজাতীয় পদার্থ মালিশের কারণে ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’ এই বোধে সংক্রমিত হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অতএব, ‘ভাবহ সুজন, যে জান সন্ধান।’

‘ভিনি ভিডি ভিসি’। আমি এলাম, দেখলাম, জয় করলাম- বলেছিলেন রোমান বীর সেনানী জুলিয়াস সিজার। ’৪৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এক যুদ্ধে চকিত আক্রমণ ও ত্বরিত বিজয়ের পর তার সেই উক্তি এখনো বিশ্বে স্মরণীয়। আমাদের মনে এলো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে আড়ম্বরের ডামাডোল দেখে।

১৭ বছর তিনি প্রবাসে ছিলেন। স্বেচ্ছায় নয়, বাধ্য করা হয়। এমন নিপীড়ন করা হয় যা তার স্তরের ব্যক্তির জন্য নজিরবিহীন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে শুধু নন, দেশের তিন তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রীরও ছেলে।

সেই তাকে এমনকি রাজনীতির মঞ্চ থেকেও সব সময়ের জন্য সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়। কুচক্রী মহল তাকে ‘কখনো রাজনীতি করব না’ বলে মুচলেকা দিতে বাধ্য করে। সেটি ২০০৮ সালের কথা। ক্ষমতায় অসাংবিধানিক সেনাসমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকার। তবে উড়িয়ে দেয়া যায় না সেই শক্তির নেপথ্য ভূমিকা থাকার আশঙ্কা যারা ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের যোগসাজশে পরের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হয়। জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের ওপর তাদের প্রতিহিংসার হিংস্র পৈশাচিকতা জাতি দেখেছে।

তবে তারেক রহমান ভাগ্যবান ছোট ভাই কোকোর মতো তাকে অকালে দুনিয়া ছেড়ে যেতে হয়নি। হিংসুটে প্রতিপক্ষকে অন্তর্দাহে ছাই করতে বিশ্ববিধাতা তারেক রহমানকে দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিলেন কি না, কে জানে? তারেক রহমান ফিরেছেন এবং তার ফেরা নিয়ে দেশে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রায় সব জাতীয় দৈনিকের স্বেচ্ছায় স্ব-উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ক্রোড়পত্র প্রকাশ, নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা তার প্রতিফলন।

অনিচ্ছার প্রবাস জীবন শেষে তারেকের ফেরা দেশের রাজনীতির জন্য অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ নিয়ে বিএনপির বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, উৎসব-আনুষ্ঠানিকতা খুব স্বাভাবিক। খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় দলটি নেতৃত্বের গভীর সঙ্কটে ছিল। এ থেকে তারেকই একমাত্র উদ্ধার। তারেককে ছাড়া দল টিকবে না। কিন্তু গত দেড় বছরে তার দেশে না ফেরা বিএনপিকে ভুগিয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে, সমর্থক, ভোটাররা বিস্ময়, দ্বিধা সংশয়ের মধ্যে পড়েছেন। সাধারণের মনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, কী এমন কারণ থাকতে পারে, যে জন্য ৫ জুলাই ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পরও তারেক আসতে পারছেন না! প্রশ্নটা এতই আলোচিত হয়ে ওঠে যে, একপর্যায়ে তারেক রহমানকে নিজে ব্যাখ্যা দিয়ে বলতে হয়, তার ফেরা কেবল তার একার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। এই ব্যাখ্যা ভালো বার্তা দেয়নি।

সবার ধারণা ছিল, তার ফেরার সাথে নিরাপত্তার বিষয় জড়িত। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর দেশবাসী কেঁদেছে। টেলিভিশনে ভাঙা স্যুটকেস, ছেঁড়া গেঞ্জি দেখানো নিয়ে পতিত দলের নেতারা যতই ব্যঙ্গবিদ্রুপ করুন, সেই দৃশ্যও দেশবাসীর চোখ অশ্রুসজল করেছে। সেই দেশবাসী এখনো সর্বান্তকরণে তারেকের সহমর্মী, তার প্রতি সহানুভূতিশীল, সন্দেহ নেই।

এই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু এরপর আসছে নতুন অধ্যায়। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি মূলত জাতীয় নেতার মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছেন। সেই মর্যাদা তাকে দিয়েছে তার দল এবং সাধারণভাবে দেশবাসী। জনমনে উন্মেষ ঘটেছে নতুন আশা-আকাক্সক্ষার। কিন্তু এর চেয়েও অনেক তীব্র ও বৃহত্তর জনআকাক্সক্ষার জন্ম দেয় চব্বিশের পটপরিবর্তন। কারণ সেটি দীর্ঘ ১৭ বছরের সর্বব্যাপী ফ্যাসিবাদ ও বাইরের শক্তির প্রত্যক্ষ প্রভাব সমূলে উৎপাটন করেছে। একটি ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শাসকের হাজারো মামলা-হামলা, খুন-গুম-আয়নাঘর সহ্য করে বিএনপিসহ আওয়ামীবিরোধী সব দলের নেতাকর্মী এবং পুরো দেশবাসীকে একরকম নরকের আগুনে পুড়ে এই দেশেই পড়ে থাকতে হয়েছে। সেই নিপীড়িত জনগণ, সেই ছাত্র-জনতাই জুলাইবিপ্লবের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের দেশের মাটিতে ফিরে আসার দুয়ার খুলেছে। পরিবেশ তৈরি করেছে। দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বড় পরিবর্তন আর ঘটেনি। এ কারণে সেটি জনমনে গভীরতর আশাবাদের সঞ্চার করে। মানুষ আশা করে, এবার দেশে আমূল পরিবর্তনের সূচনা হবে, পুরনো ধাঁচের প্রতিহিংসা ও গদবাঁধা হানাহানির রাজনীতির অবসান ঘটবে, পুরনো ধ্যান-ধারণা থেকে মুক্ত হয়ে রাজনীতিকরা এমন এক নতুন রাজনীতির সূচনা করবেন, যা রাষ্ট্রকাঠামোর খোলনলচে পাল্টে দেবে।

চব্বিশের গণবিপ্লব থেকে সৃষ্ট সেই গণ-আকাক্সক্ষা তারেক কতটা আত্মস্থ করতে পেরেছেন বা তাকে কতটা ব্রিফ করা হয়েছে, আমরা নিশ্চিত নই। ১৭ বছর যার মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়, যার উচ্চারিত একটি শব্দও প্রকাশ করতে দেয়া হয়নি দেশের সংবাদ মাধ্যমকে সেই তারেক রহমান আজ বক্তৃতা করছেন লাখো মানুষের সমাবেশে। তার উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ ছাপা হচ্ছে দেশের সব কাগজে, সম্প্রচার হচ্ছে সব রেডিও-টিভিতে। এটি সম্ভব হয়েছে ৫ আগস্টের গণবিপ্লবের সাফল্যের কারণে। নিপীড়িত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অসংখ্য নেতাকর্মী দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের হয়রানিমূলক মামলা তুলে নেয়া হয়েছে। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর নিজের বাড়িঘরে থাকতে না পারার সেই দুঃসহ অনিশ্চিত জীবনের অবসান হয়েছে। তারা দুঃসহ ভীতি ও ত্রাসের পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক স্বস্তিকর জীবনে ফিরতে পেরেছেন। শুধু তা-ই নয়, দেশের স্বাধীন সার্বভৌম অস্তিত্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় দেশপ্রেমিক যে নাগরিকদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল, তারা এখন অনেকটা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন। এসব হয়েছে চব্বিশের রক্তক্ষয়ী জুলাইবিপ্লবের সাফল্যের কারণে। বিপ্লবের নায়ক অগণিত ছাত্র-জনতার জীবনপণ লড়াই ও চরম আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ এবং জাতি দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। সেই জুলাইবিপ্লবের প্রকৃত রূপকার কে বা কারা, তারেক রহমানের তা অজানা নয় নিশ্চয়। অজানা থাকলে বুঝতে হবে, কুছ গড়বড় হ্যায়।

তারেক সবাইকে সাথে নিয়ে পথ চলার কথা বলেছেন। এটি নিঃসন্দেহে ভালো। তবে খোলা চোখে যা দেখা যায় তাতে ভিন্ন কিছুর আভাস আছে। বাস্তবতা যে ভিন্ন সেটি তো নিজেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।

৩০০ ফুটের সভামঞ্চে বিএনপির দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী বা মিত্রদের মধ্যে যাদের উপস্থিতি দেখা গেছে, বিস্ময়করভাবে সেখানে জামায়াতের কাউকে রাখা হয়নি। ছিলেন না জুলাইযোদ্ধাদের একজনও। এটি কাকতালীয়ভাবে ঘটেছে মনে করার কারণ নেই। এসব ছোটখাটো ঘটনা সাধারণের নজর এড়ায় না।

বাম প্রগতিশীল ও অন্ধ ধর্মনিরপেক্ষরা যে কারণে আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চেপে ৫৪ বছর ক্ষমতার খুদকুড়া খেয়ে দলটিকে বিপথে চালিত করেছে, সেই একই কারণে তারা এবার বিএনপির বৈতরণীর যাত্রী হয়েছে এবং হচ্ছে। চিহ্নিত আওয়ামী সমর্থক মিডিয়া মোগলদের পাশ ফেরার দৃশ্য এর মধ্যে রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। এই নতুন মেরুকরণ বিএনপিকে কোন দিকে নিয়ে যায় এবং বিএনপি কতটা নিয়ন্ত্রক ভূমিকায় থাকতে পারে, জাতি তা দেখার অপেক্ষায়।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এখন বিএনপির তথা তারেক রহমানের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, গত দেড় বছরে ক্ষুধা নিবৃত্তির সূত্রে দলের যে নেতিবাচক ভাবমর্যাদা সৃষ্টি হয়েছে তা ঘুচাতে হবে। গণতন্ত্র, সততা, নৈতিকতা, ন্যায্যতার প্রতি তার ব্যক্তিগত ও দলীয় অঙ্গীকারের প্রমাণ দিতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতি, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের মতো জনগণের বাকস্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার প্রতীকী প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন কোনো কারণ ছাড়া স্থগিত করা হয়েছে। এর পেছনে উপরের হস্তক্ষেপের গুঞ্জন শোনা যায়। যেমনটি ঘটেছে ফ্যাসিবাদী শাসনকালে। এ আলামত অশুভ, অনাকাক্সিক্ষত।

রাষ্ট্র সংস্কারের জন-আকাক্সক্ষা পূরণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রমাণও রাখতে হবে তারেক রহমানকে। কথায় নয়, কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দলের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

সংবর্ধনা সভার মঞ্চে তারেকের জন্য বিশেষ নকশার চেয়ার দেয়া হয়। তিনি সেটি সরিয়ে দিয়ে কোনো সাধারণ চেয়ারও না, বসেছেন সস্তা প্লাস্টিকের চেয়ারে। এটি ভালো নজির হবে তাদের কাছে যারা তার বুলেটপ্রুফ গাড়ির খবর রাখেন না। বুলেটপ্রুফ গাড়ি বা গানম্যান, এসএসএফ কারো জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে- ইতিহাস তা বলে না। গত ১৭ বছর নরকযন্ত্রণা ভোগকারী জনগণের বুলেটপ্রুফ গাড়ি দূরের কথা, নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য ন্যূনতম পুলিশি নিরাপত্তাও ছিল না; বরং প্রতিটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে হাসিনা লেলিয়ে দিয়েছিল ভিন্নমতের মানুষের বিরুদ্ধে। এসব তথ্য মনে না রাখলে তারেক ভুল করবেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি তারেককে করতে হবে সেটি হলো- বৈদেশিক সম্পর্কে দলের অবস্থান স্পষ্টীকরণ। দেশবাসী আওয়ামী লীগকে অপছন্দ করে প্রতিবেশী একটি দেশের প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্য ও নতজানু নীতির কারণে। দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার কারণে। বিএনপি এ ক্ষেত্রে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার পথ অনুসরণ করবে কি না, জনগণ জানতে আগ্রহী। তারা আওয়ামী ধারাবাহিকতা দেখতে আর প্রস্তুত নয়। আধিপত্যবাদের মুখ ভেঙচি তারা আর দেখতে চায় না। বিএনপি আওয়ামী ধারার রাজনীতি করবে না, এটি তারেকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। তবে বাজারে নানা কথার বুদবুদ ভাসে। গত ১৫ মাসে দলটি সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর বিষয়ে। নির্বাচনব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা- এসব বিষয়ে দলটির অবস্থানে অনেকটাই অস্পষ্টতা ও ধোঁয়াশা ছিল। বর্তমান সঙ্কটময় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ঐক্য, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে তারেকের ভাবনা পরিকল্পনা সামনে আনতে হবে।

মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়নের মন্তব্য অনুসরণে তারেক বলেছেন, আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। সেই প্ল্যান নির্বাচনের আগে জাতিকে জানাতে হবে। কিভাবে, কোন কৌশলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে- তার রূপ ও পথরেখা প্রকাশ করতে হবে। যেমনটি নিশ্চয়ই তিনি দেখেছেন ব্রিটেনের রাজনীতিতে। এটিই বাংলাদেশে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা করতে পারে। অন্তঃসারশূন্য, ফোলানো ফাঁপানো প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেয়ার রাজনীতি জাতি অনেক দেখেছে। আর নয়। এখন স্বচ্ছ ও সাফসুতরো রাজনীতির শুভারম্ভ দেখতে চায় মানুষ।

দেশ গঠনে শহীদ জিয়া সমন্বয়ের রাজনীতি গ্রহণ করেন। সাবেক মুসলিম লীগ এমনকি জামায়াতের লোকদেরও রাজনীতির মাঠে ফিরিয়ে আনেন। সেটি এমন সময় যখন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি একেবারে টাটকা, তরতাজা। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের বয়ান যে নিছক রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার কৌশলগত হাতিয়ার ছিল, সেটি এখন জাতির কাছে স্পষ্ট। বিশেষ করে সেই তরুণ প্রজন্মের কাছে যাদের ওপর আস্থা রেখে তারেক রহমান বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকেই আগামীর নেতৃত্ব দিতে হবে।

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে, যুদ্ধ করে, রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্য দিয়ে জাতির সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন; খালেদা জিয়া দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন, ত্যাগ-তিতিক্ষার অনন্যসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশের রাজনীতিতে আপসহীন নেত্রীর সমুন্নত অবস্থান অর্জন করেন। তারেক তাদেরই উত্তরসূরি। কিন্তু প্রত্যক্ষ সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তার নেই। তাকে সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের দায়ভার কাঁধে নিতে হচ্ছে। সে জন্যই জাতি গভীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে এটি দেখতে যে, তারেক রহমান তার কথা ও কাজে সামঞ্জস্য রাখতে পারেন কি না। তাকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি প্রকৃতই শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার যোগ্য সন্তান। কার্যকর রাজনৈতিক জীবনের সূচনায় এটিই তার জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ, যার মোকাবেলায় জয়ী হওয়ার বিকল্প সত্যিই নেই।

সব শেষে বলতে চাই, চার পাশে স্তাবকদের অবিরাম স্নেহজাতীয় পদার্থ মালিশের কারণে ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’ এই বোধে সংক্রমিত হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অতএব, ‘ভাবহ সুজন, যে জান সন্ধান।’

লেখক : সিনিয়র সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত